মৌলভীবাজারে শিক্ষা প্রকৌশল অফিস স্থাপন নিয়ে উত্তেজনা

প্রকাশিত: ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৬

মৌলভীবাজারে শিক্ষা প্রকৌশল অফিস স্থাপন নিয়ে উত্তেজনা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ছাত্রদের আন্দোলন উপেক্ষা করে শিক্ষা প্রকৌশল জোনাল অফিস স্থাপন করলেন সাংসদ সৈয়দা সায়রা মহসিন।

 শুক্রবার ০৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় স্কুল মাঠের দক্ষিণ পাশে ২০ শতক জমির উপর এই ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয় ।

 সরকারি ছুটির দিন ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের খবর পেয়ে স্কুলের ছাত্ররা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে সকাল থেকে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। তারা বলে“ স্কুলের  জায়গায় স্কুলে রাখব, রক্ত দিব তবে জায়গা দেব না, আমাদের রক্ত শহীদে রক্ত” এই স্লোগান নিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ৩টি ব্যানারে উদ্বোধনী অনুষ্টান চলাকালিন সময়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে।

 স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র আরাফত রহমান, আশরাফুল ইসলাম মাহদি, উজ্জ্বল, ফয়ছল ও সৌরভ বলেন, স্কুল মাঠে শিক্ষা প্রকৌশল জোনাল অফিস হবে এমন সংবাদ পেয়ে আমরা গত ২৪ আগস্ট মানবন্ধন, সমাবেশ এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়ে ছিলাম। এর প্রেক্ষিতে সাংসদ সৈয়দা সায়রা মহসিন আমাদেরকে কথা দিয়ে ছিলেন আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। কিন্তু আজ সরকারি ছুটি থাকায় এমন সুযোগে পরিকল্পিত ভাবে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। আমরা রক্ত দিব তবুও জায়গা দিবনা। আমাদের আন্দোলন চলবে।

 এ সময় সাংসদ সৈয়দা সায়রা মহসিন আন্দোলনরত ছাত্রদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আমিও এ জেলার বাসিন্দা। আমরা চাই মৌলভীবাজার এগিয়ে যাক। এখানে শিক্ষা প্রকৌশল অফিস স্থাপন না হলে অন্য জেলায় চলে যাবে। যার ফলে শিক্ষার দিক দিয়ে মৌলভীবাজার পিছিয়ে পড়বে। তিনি আরো বলেন, স্কুলের কোন অসুবিধা হয় এমন কাজ আমরা করব না। স্কুলের উন্নয়নের জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

 ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুকুর রহমান সিকদার, পৌর মেয়র মোঃ ফজলুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোঃ ফিরোজ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান বাবুল, কামাল হোসেন, ড. ফজলুল আলী প্রমুখ।

 উল্লেখ্য, গত ১৭ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. জহিরুল ইসলামের ১০ আগস্ট স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পান মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। চিঠিতে শিক্ষা অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় নির্মাণের জন্য বিদ্যালয়ের পুরোনো ছাত্র হোস্টেলের পূর্ব পাশের ২০ শতক ভূমি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিতে অনুরোধ করা হয় ।

 

১৮৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যুগে যুগে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়ে দেশ ও জাতির সেবায় অবদান রেখে চলেছেন। বিদ্যালয়ের সুপরিসর আঙিনা, বিশাল খেলার মাঠ, চারদিকের পরিবেশ সবাইকে মুগ্ধ করে। তাই বিদ্যালয় এলাকায় কার্যালয় নির্মাণ কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেন স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীরা।

এই সংবাদটি 377 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ