৪ মাস বন্ধ থাকার পর মৌলভীবাজারের চা বাগান গুলোতে শুরু হয়েছে চা উৎপাদন

প্রকাশিত: ৩:১০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৬

৪ মাস বন্ধ থাকার পর মৌলভীবাজারের চা বাগান গুলোতে শুরু হয়েছে চা উৎপাদন

বিশেষ প্রতিনিধি : আগাম বৃষ্টি পাওয়ায় এ বছর অনান্য বছরের ২০ দিন আগে থেকেই মৌলভীবাজারের বিভিন্ন চা বাগানে শুরু হয়েছে চা পাতা চয়ন। অনেকে কাঁচা পাতা ওয়েদারিং শেষে শুরু করেছেন মেইড টি উৎপাদনও। আর এ ধারা অভ্যাহত থাকলে গত বছরের ন্যায় এ বছরও উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চা সংশ্লিষ্টরা। তবে আগামী চৈত্র মাসে খড়ার জন্য প্রত্যেক চা বাগান মালিকদের শর্তক থাকার পরামশ্য চা বিজ্ঞানীদের। প্রতিবছর মার্চের শেষ দিকে নিজস্ব ইরিগেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন চা বাগানে উৎপাদন শুরু হলেও এবছর প্রাকৃতিক ভাবে ফেব্র“য়ারী ও মার্চ মাসে বেশ বৃষ্টিপাত পাওয়ায় মার্চের ১ তারিখ থেকেই মৌলভীবাজারের বিভিন্ন চা বাগানে শুরু হয়ে গেছে চায়ের উৎপাদন। আর এই আগাম উৎপাদনে এক দিকে যেমন এবছর ভালো উৎপাদনে আশাবাদী চাবাগানী তেমনী আগাম হাজরী (নিরিক) পেয়ে খুশি চা বাগানের শ্রমিকরাও। এদিকে বাংলাদেশ চা গবেষনা কেন্দ্রের পরিচালক ড. মাঈন উদ্দিন জানান, সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় মৌসুমে ৩.৫০ মিলিয়ন কেজি বেশি চা উৎপাদন হয়েছে। তবে এ বছর আগাম উৎপাদন শুরু হলেও আগামী চৈত্রমাসের খরা মোকাবেলায় সবাইকে সজাগ থাকার পরামশ্য তার। এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল ভাড়াউড়া চা বাগানের ডিজিএম এবং বাংলাদেশীয় চা সংসদ সিলেট সার্কেলের ব্রাঞ্চ চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী জানান, এ বছরের শুরুতে পৃথক পৃথক দিনে প্রায় ৯৫.৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত পেয়েছেন যা তাদের চায়ের আগাম প্লাকিং এর সুযোগ করে দিয়েছে। ১০ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল এম আর খান, নন্দরাণী ও কেরামত নগর চা বাগানের মালিক বিশিষ্ট চা বিশেষজ্ঞ মোঃ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের পর সেকশনে শ্রমিকদের নিয়ে তাঁর ২টি বাগানে তিনি প্লাকিং শুরু করেছেন। এতে তাঁর শ্রমিকরাও খুব খুশি। আর নতুন পাতা তুলার আনন্দে তিনি প্রত্যেক শ্রমিকদের উত্তোলিত চায়ের কেজি প্রতি ১০ টাকা করে বোনাস ঘোষনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন তাঁর বাগানের জিএম জহির আহমদ চৌধুরী। শ্রীমঙ্গল জেরিন চা বাগানের ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা জানান, ১ মার্চ থেকে তারা প্লাকিং শুরু করে ইতিমধ্যে তারা মেইডটিতে চলে গেছেন। নতুন তিনি জানান নতুন পাতার চায়ের গুণগত মানও বেশ ভালো হয়েছে। শ্রীমঙ্গল ক্লোনেল চা বাগানের মালিক অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হক জানান, আগাম বৃষ্টির জন্য এবছর তারা আগাম ক্রপ পেয়েছেন। বুধবার সকাল থেকে তারা আনুষ্ঠানিক ভাবে পাতা চয়ন শুরু করেছেন। তিনি মনে করেন গত বছরের ন্যায় এবছরও আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে দেশের গড় উৎপাদন বাড়বে। এ ব্যাপারে সিনিয়র টি প্লান্টার জহির আহমদ জানান, এ বছর ধারাবাহিকতায় ৪ দিন বৃষ্টি পেয়েছেন যার পরিমান সাড়ে ৫ ইঞ্চি। যা তাদের খুবই উপকার করেছে। আর শনিবার সকালে আনুষ্ঠানিক ভাবে চা পাতা উত্তোলন শুরু করবে বাংলাদেশ চা গবেষনা কেন্দ্র জানালেন বিটিআরআই এর পরিচালক।

এই সংবাদটি 897 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ