শ্রীমঙ্গল ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রোগী আছে, ডাক্তার নেই

প্রকাশিত: ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৬

শ্রীমঙ্গল ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রোগী আছে, ডাক্তার নেই

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: প্রতিদিনই রোগী আসছেন দলবেঁধে। কিন্তু সে অনুপাতে নেই ডাক্তার। নেই কোনো সুপেয় পানির ব্যবস্থা। অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে দুই যুগেরও আগের পুরাতন এক্সরে মেশিনটি। সংস্কারের অভাবে খসে পড়ছে পুরাতন ভাবনের ছাদের পলেস্তারা। ব্লাড ব্যাংক না থাকার ঝুঁকি নিয়েই চলছে প্রসূতি মায়েদের অস্ত্রোপচার। আর এভাবেই প্রায় চার বছর ধরে ৩১ শয্যার জনবলে চলছে মৌলভীবাজার জেলার চা বাগান অধ্যুষিত শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।

সরকারি হিসেবে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মোট জনসংখ্যা তিন লাখ ১৫ হাজার। ২০১২ সালের ১লা ডিসেম্বর হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের প্রায় চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ৫০ শয্যায় জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। তাই ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে ৫০ শয্যার হাসপাতাল চালাতে গিয়ে উপজেলার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ডাক্তারদের নিয়ে আসা হচ্ছে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে টেকনিশিয়ানের অভাবে পড়ে আছে অত্যাধুনিক ইসিজি ও আল্ট্রাসনোগ্রাফী মেশিনটি। সার্জারি ডাক্তার না থাকায় শুধু মাত্র প্রসূতি মায়েদের ছাড়া অন্য কোনো অপারেশন করা যাচ্ছে না। তাছাড়া ৩১ শয্যার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পদগুলো জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ও ডেন্টাল সার্জন পদে পূরণ করে রাখা হয়েছে মেডিকেল আফিসার দিয়ে। সেকারণে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেনা জটিল রোগীরা।

এদিকে হরিণছড়া, উত্তর উত্তসুর ও সিন্দুরখান কমিউনিটি ক্লিনিকে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) পদে কেউ নেই। এ ছাড়া দশরথ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সালমা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে ছুটিতে রয়েছেন। জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি ডাক্তার শামীমা জাহান আছেন ম্যাটারনিটি ছুটিতে। সেকারণে সেখানে চিকিৎসা সেবায় বিঘœ ঘটছে। এর মধ্যে হাসপাতলের আবাসিক মেডিকেল অফিসার পদসহ বহির্বিভাগের জন্য ৫০ শয্যা হাসপাতালের যেসব সুযোগ সুবিধা থাকা প্রয়োজন সেসব বিশেষজ্ঞ পদে নেই কোনো ডাক্তার।যেমন: মেডিসিন, সার্জারি,গাইনি, চক্ষু, চর্ম, নাক কান গলা, হৃদরোগ, অর্থপেডিক্স, অ্যানেস্থেসিয়া ও প্যাথলজিষ্ট পদে নতুন করে এখন পর্যন্ত কোনো পদায়নই দেয়া হয়নি। সেখানে আউটডোরের ডাক্তারদের এনে সেখানে ওভার ডিউটির কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। অন্ত:বিভাগেও কোনো ডাক্তার নেই। যেখানে হাসপাতালটির প্রতি শিফটে দুইজন করে ডাক্তার থাকার কথা সেখানে একজনও নেই।

জরুরি বিভাগেও একই অবস্থা। ডায়রিয়ার খাবার স্যালাইন ও শিরা পথের স্যালাইনের নেই পর্যাপ্ত বরাদ্দ। যা আছে চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। বিগত তিন মাসে চাহিদা কলেরা স্যালাইনের বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ ব্যাগের পাওয়া গেছে ৪০০ ব্যাগ। খাবার স্যালাইনের বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল ৬০ হাজার প্যাকেটের পাওয়া গেছে ৬ হাজার প্যাকেট। তাছাড়া ভর্তিকৃত রোগীদের ৩১ শয্যার বরাদ্দকৃত রোগীদের খাবার ভাগ করে দেয়া হচ্ছে ৫০ শয্যার রোগীদের মধ্যে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্তকর্তা ডা. জয়নাল আবেদীন টিটু বলেন, হাসপাতলটিতে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ জন রোগী বহির্বিভাগে আসছে। এছাড়া ৭০ জন রোগী গড়ে জরুরি বিভাগে আসে। এসব রোগীর মধ্যে বিষ খাওয়া, আগুনে পোড়া, এক্সিডেন্ট, কোপ ও মাথাফাটার রোগীর সংখা বেশি। ৫০ শয্যার প্রাপ্য সুযোগসুবিধা ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ হলে এ হাসপাতালে রোগীদের আরো উন্নত সেবা দেয়া যেতো।

এই সংবাদটি 346 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ