ঢাকা |
প্রকাশিত: ৩:৫৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০১৭
এম. ফয়জুল হক শিমুল ঃ
মুক্তিযুদ্ধের ৪৫ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বা মুক্তিযোদ্ধ ভাতা পাননি ১৯৭১ সালের বীর সৈনিক এনামুল হক চৌধুরী (হান্নান মিয়া)। এমনকি লাল মুক্তি বার্তা বা ভারতীয় তালিকায় তার নাম উঠেনী । অথচ মুক্তিযুদ্ধের অধিনায়ক আতাউল গণি ওসমানী ও মেজর চিত্ত রঞ্জন দত্ত আঞ্চলিক অধিনায়ক ৪ নং সেক্টর কর্তৃক তার সনদপত্র আছে।
সনদপত্রে যা উল্লেখ আছে তা নিন্মে প্রকাশ করা হল।
এফ এফ নং ২২৬১৫৯
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার,
জয় বাংলা ,
দেশরক্ষা বিভাগ
“স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্র ”
মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, পিতা- মোঃ আয়াজ আলী চৌধুরী, গ্রাম- কাদিমল্লিক , থানা- বিয়ানীবাজার, জেলা- সিলেট বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর বীরাঙ্গনা সৈনিক। তিনি ৪ নং সেক্টরে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তার অবদান চির উজ্জল হয়ে রইবে।
এছাড়া ৩ নং আর্টিলারী মোটর রেজিমেন্ট, ভারী মোটর ও গোলন্দাজ বাহিনীর মেজর অধিনায়ক কর্তৃক প্রত্যয়ন পত্র আছে।
মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক চৌধুরীর সাথে আলাপকালে জানা যায় তিনি ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন। ২৫ মার্চের কালো রাত্রিতে যখন পাকিস্থানি বাহিনী অতর্কিতে হামলা চালায় তখন তিনি ঘোড়াশাল থেকে দেশ মাতৃকার যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য ভৈরব- আশুগঞ্জ সরাইল-শাজীর বাজার- মনতলা হয়ে আগরতলা ভারতে চলে যান। সেখান থেকে বীরভূম জেলার রামপুরহাট সেনানিবাস ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে বারপুঞ্জি ৪নং সেক্টরে মেজর চিত্ত রঞ্জন দত্তের অধীনে লক্ষীবাজার-লাটিটিল্লা- গজুকাটা ক্যাম্প এলাকায় কালিগঞ্জ, বিয়াবাইল, আটগ্রাম অঞ্চলে যুদ্ধ করেন। তিনি বলেন “ আমি আজো শুনতে পাই গুলির শব্দ , আজো শুনতে পাই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাপিয়ে পড়” সেদিন ঝাপিয়ে পড়েছিলাম দেশের জন্য দেশকে রক্ষার জন্য ৯ মাস যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু আমার মনে হয় আজো আমরা স্বাধীন হতে পারিনি। তিনি বলেন যুদ্ধের পর আমরা দু’জন গিয়েছিলাম বঙ্গবন্ধুর বাড়ীতে সেদিন শেখ রাসেল বেরিয়ে এসে বলেছিলেন আপনারা যে এলাকায় যুদ্ধ করেছেন সেই এলাকায় যান সেখানে আপনাদের চাকরী- ভাতা প্রদান করা হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আজো সেই চাকরী বা ভাতা পাওয়া তো দুরের কথা মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পর্যন্ত পাইনি। এতদিন আপনি তালিকাভূক্ত হননি কেন ? জানতে চাইলে এনামুল হক চৌধুরী (হান্নান মিয়া) বলেন “সংগ্রামের পর ক্যান্টনমেন্টের ক্যান্টিনের ম্যানেজারী করতাম পরে বিসিআইসি ডিডিটি ফ্যাক্টরীতে চাকুরী করতাম ১৯৭৮ সালে জীবিকার তাগিদে চলে গেলাম সৌদিআরব দীর্ঘ সময় অর্থাৎ ১৯৭৮ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রবাসে থেকে দেশে ফিরে এসে আমার সনদ নিয়ে অনেক অফিস আদালতে গিয়েছি কিন্তু লাভ হয় নাই সবাই বলে তালিকায় নাম নাই। তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলব যাদের নাম তালিকায় উঠেনী তারা কি মুক্তিযোদ্ধা নন। মুক্তিযুদ্ধের লড়াকু সৈনিক হিসাবে যাচাই বাছাই পূর্বক সঠিক মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অর্ন্তভূক্তির জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। উল্লেখ্য গত ১৭ জানুয়ারী ২০১৭ ইং পর্যন্ত তালিকাভূক্তিবিহীন মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং তা দেশব্যাপী যাচাই বাছাই হওয়ার কথা থাকলেও দেশের ৬টি জেলাতে হাইকোর্টের রীটের প্রেক্ষিতে তা স্থগিত করা হয় । এর মধ্যে বিয়ানীবাজার উপজেলা ও রয়েছে বলে জানা যায়।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।