ঢাকা |
প্রকাশিত: ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৬

হাসান আহমদ,হাকালুকি থেকে ফিরে: হাকালুকি হাওরে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি । শীত ঝেঁকে বসার পূর্বেই সাইবেরিয়া থেকে অতিথি পাখিরা আসতে শুরু করায় এশিয়ার বৃহত্তম এ হাওরে দর্শনার্থীদের সংখ্যাও বাড়ছে । প্রতিদিন বিকেলে যেন পাখি ও দর্শনার্থীদের মিলনমেলা বসছে হাওরাঞ্চলে । বড়লেখার কাননগো বাজার হয়ে হাকালুকি হাওরে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্হান থেকে আসা প্রায় শ’জন দর্শনার্থী হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন । এদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সী মহিলা ও শিশুও রয়েছেন । স্হানীয়রা জানান,কাননগো হয়ে কম সময়ে গাড়ি নিয়ে হাওরের পাশাপাশি আসার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এখন প্রতিদিন সহস্রাধিক দর্শনার্থী হাওর ঘুরতে আসেন । বেশির ভাগকেই নৌকা নিয়ে হাওর ঘুরে দেখতে দেখা যায় । শেষ বিকালের ঝিরঝিরে বাতাসে হাওরের সব জলরাশি যেন হৃদয় দোলানো নাচন তুলে-যা দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা ।আর কিছু দূরে হাকালুকির অথই জলে একপায়ে দাঁড়িয়ে থেকে সেই নাচন দেখছে অগণিত হিজল, তমাল, করচ আর বরুনের গাছ। কচুরিপানার ভাসমান তরুলতার ঝোঁপ থেকে কিছুক্ষণ পর পর শোনা যায় ছোট বড় মাছের ঘাই ।বরাবরই হাকালুকি হাওর অতিথি পাখিদের অন্যতম পছন্দের এলাকা। শীতকালে এখানে হাজার হাজার অতিথি পাখি আসে। এ বছর এখন থেকেই সাইবেরিয়া থেকে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখিরা।প্রতি বছরের ন্যায় ডিসেম্বর ও জানুয়ারী মাসে আরো বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি আসতে পারে । এসব পাখি পর্যবেক্ষণ করে ওয়াচ টাওয়ার। ওয়াচ টাওয়ারে দর্শনার্থীরা নৌকা নিয়ে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। হাওরের তীরবর্তী হাল্লা গ্রামের বাসিন্দা জয়নুল,আমিন,সালেহ ও মজিদ মিয়া জানান,শুধু শীতকাল নয়,বর্ষাকালেও হাকালুকি হাওরে বেশকিছু মাছ শিকারি দেশীয় পাখি দেখা যায় । এদের মধ্যে বক, সারস, কানিবক, ডাহুক, পানকৌড়ি, মাছরাঙা, চিল উল্লেখযোগ্য । হাওরপারে কথা হয় বিয়ানীবাজার থেকে আসা দর্শনার্থী আলী হোসেনের সাথে ।তিনি নিজেকে একজন দলিল লিখক পরিচয় দিয়ে বলেন,’আমাদের একবারে হাতের নাগালে দেশের বৃহত্তম হাওরটিতে এই প্রথম আসলাম । এটি অনেক দূর ভেবে পূর্বে আসা হয়নি ।এসে বুঝতে পারছি যে,হাওরের বিস্তৃতি স্বচক্ষে অবলোকন, পাখিদের কোলাহল,অথৈ জলে নৌকা ভ্রমণ কতো যে উপভোগ্য । কাননগো হয়ে যাতায়াত ব্যবস্হা সহজতর হওয়ায় মোটর বাইকে আসতে বেশি সময় লাগেনি । এখানকার প্রতিটি বিষয়,প্রতিটি দৃশ্য দর্শনার্থীদের মন কাড়ার মত । কাজেই দর্শনীয় এই হাওরে আমার মত যারাই একবার আসবে তারাই বারবার আসতে চাইবে ‘। লোকমান আহমদ নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন,’বিকেল বেলা সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে হেলে যায়, মনে হয় যেন সব হাওরের পানি তখন সেই রঙ ধারণ করে।আর সন্ধ্যা নামার আগে পানকৌড়ি ও বকের সারি হাওর এলাকার পূর্বদিকে রওনা দিয়ে আপন নীড়ের উদ্দেশ্যে যখন যাওয়া শুরু করে সে দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর ‘।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।