সেহরি ইবাদতে শক্তি ও একাগ্রতা সৃষ্টি করে

প্রকাশিত: ৪:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৬

সেহরি ইবাদতে শক্তি ও একাগ্রতা সৃষ্টি করে

রমজানুল মোবারক। ১২ মাসের শ্রেষ্ঠ মাস। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে রবের সান্নিধ্য লাভের মাস। এ মাসেই রয়েছে লাইলাতুল ক্বদর- যে রজনীর ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

মাহে রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবাদত সেহরি খাওয়া। রোজা রাখার উদ্দেশ্যে রাতের শেষাংশে পানাহার করাই সেহরি। সেহরি খাওয়া সুন্নাত।  সেহরির ফজিলত সম্পর্কে ইমাম তাবরানীর বর্ণনায় রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সেহরি ভক্ষণকারীর খাবারের হিসাব হবে না।

এই হাদিসে সেহরি খাওয়ার উত্তম সময়ও বলে দেয়া হয়েছে, রাসুল (সা.) সাধারণত দেরি করেই সেহরি খেতেন। তাই রাতের শেষ প্রহরে সেহরি গ্রহণ করা সুন্নাত।

ঘুম থেকে জাগ্রত হতে না পারা কিংবা অন্য কোনো কারণে কেউ যদি সেহরি খেতে না পারে তাহলেও রোজা রাখতে হবে। এতে রোজার পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যাবে।

সেহরি খাওয়ার উপকরণের সুনির্দিষ্ট কোনো মাপকাঠি নেই। তবে, শারীরিক ও মানসিক অবসন্নতা দূর করার জন্য পরিমাণ মতো সেহরি খাওয়া বাঞ্ছনীয়। কমপক্ষে এক ঢোক পানি পান করলেও সেহরি খাওয়ার সওয়াব হাসিল হয়ে যাবে।

মুসলমান ও আহলে কিতাবদের রোজার পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া। হযরত আমর বিন আনাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমাদের রোজা ও আহলে কিতাবদের (ইহুদি-খৃস্টান) রোজার মধ্যে পার্থক্য হল সেহরি খাওয়া।’ (মুসলিম)

সেহরি খাওয়াতে রোজাদারের যেমন পেট ভরে তেমনি বিনা কষ্টে সওয়াবও লাভ হয়। এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘সেহরি খেয়ে রোজার জন্য শক্তি সঞ্চয় করো আর দুপুরে ঘুমিয়ে শেষ রাতে ওঠার বিষয়টি সহজতর করো।’

এছাড়াও সেহরি খেলে ইবাদতে শক্তি লাভ হয় এবং অধিক একাগ্রতা সৃষ্টি হয়। অত্যধিক ক্ষুধার কারণে অনেক সময় মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। সেহরি খেলে এরও প্রতিরোধ হয়।

ফলে সেহরির ব্যাপারে সবারই গুরুত্ব দেয়া কাম্য। অলসতা বা গুরুত্বহীনতার কারণে যেন এতবড় ফজিলত থেকে বঞ্চিত না হতে হয়।

আল্লাহ আমাদের সকলকে রমজানের বরকত হাসিল করার তাওফিক দিন। আমিন।

এই সংবাদটি 734 বার পঠিত হয়েছে