সিরাজগঞ্জ মৃৎশিল্পের তৈরী পণ্য এখন বিলুপ্তির পথে

প্রকাশিত: ৩:২৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০১৭

সিরাজগঞ্জ মৃৎশিল্পের তৈরী পণ্য এখন বিলুপ্তির পথে

এম এ সাইদ (তন্ময়) :রাজশাহী বিভাগীয় চীফ :
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের মৃৎশিল্পের তৈরী পণ্য এখন বিলুপ্তির দ্বার প্রান্তে।আদিকাল থেকে কামারখন্দ উপজেলায় শতাধিক পরিবার মৃৎশিল্পের পণ্যসামগ্রী তৈরী করে বিভিন্ন হাট-বাজার কিংবা গ্রাম-গঞ্জে বেচা কেনা করত।
তখনকার গ্রাম-বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে মৃৎশিল্পের তৈরী নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করত।বৈশাখ আসলেই যেন তাদের ব্যস্ততার শেষ ছিল না।কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্লাষ্টিকের তৈরী পণ্যের কাছে হার মানতে হচ্ছে মৃৎশিল্পের তৈরী জিনিসপত্র।কোন মতে এ শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছেন এখানকার মৃৎশিল্পীরা।মৃৎশিল্পের সেই জনপ্রিয় জিনিস পত্র এখন আর আগের মতো মানুষ ব্যবহার না করায় বিলুপ্তির পথে কামারখন্দের মৃৎশিল্প।
দৃষ্টি নন্দন আর নানা বৈচিত্রময় ভঙ্গির দেবী মূর্তি ও ব্যবহারিক জিনিস পত্র তৈরী করে শৈল্পিক প্রশংসা কুড়ালেও মৃৎ শিল্পীদের জীবনে আসেনি কোন সৌন্দর্য্যময় আলোর ছটা।ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে বাপ-দাদার সেই জাত পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় কামারখন্দ উপজেলার বিভিন্ন বাড়ির উঠানে বসে মহিলা ও পুরুষেরা হাড়ি, পাতিল, বাসন তৈরী করছে।সমাজে আধুনিকতার ছোয়াঁয় প্লাষ্টিকের তৈরী পণ্যের কাছে মার খেয়ে মৃৎশিল্প আজ ধ্বংসের পথে বসেছে।এক সময় এই মৃৎশিল্পের পণ্য সামগ্রীর যথেষ্ট চাহিদা ছিল।এখন তেমন আর সেই চাহিদা নেই।ফলে এ পেশায় সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে পড়েছে।তাই অনেকেই তাদের বাপ- দাদার জাত পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত হচ্ছেন।
কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট বাজার এলাকার মৃৎশিল্পী গৌর হরিপাল বলেন, ব্যবসা মোটামুটি চলছে।আগে পহেলা বৈশাখ আসলে আমাদের তৈরী এসব জিসিনপত্র বেশি চলতো কিন্তু বর্তমানে এর কদর কমে গেছে।দিন কোন মতে চলে ডাল ভাত জোটে।বাপ ঠাকুর থেকে এভাবে চলে আসছে।বর্তমানে মেলামাইনের যুগ।কোন ভাবে টিকে রেখেছি।সরা কাশা হাড়ি পাতিল গ্রামে নিয়ে বিক্রি করি।
একই এলাকার মৃৎশিল্পী কানুপাল বলেন, বাপ-দাদার ঐতিহ্য।তারা করে এসেছে তাই আমি করছি।দুর্গা, স্বরস্বতী, লক্ষী, কালি প্রতিমা তৈরী করি।কারিগর আছে ভাই আছে তাদের দিয়ে কাজ করি।এভাবে ঐতিহ্যটাকে ধরে রাখার জন্য কাজটি করি।

এই সংবাদটি 1025 বার পঠিত হয়েছে