ফলোআপ: বড়লেখায় মায়ারুননেছা খুন: পুত্রবধূ ফাহিমার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

প্রকাশিত: ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৬

ফলোআপ: বড়লেখায় মায়ারুননেছা খুন: পুত্রবধূ ফাহিমার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

বড়লেখা প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রামের নিজ বাড়িতে ঈদের দিবাগত রাতে খুন হওয়া বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত বৃটিশ নাগরিক ফাতির আলীর স্ত্রী মায়ারুন নেছা (৬৬) পুত্রবধূর অবৈধ সম্পর্কের বলি হয়েছেন।

১৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার  রাতে নিজ বাড়ির শোবার ঘরে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করা হয় মায়ারুন নেছাকে।

পুলিশ পরদিন বুধবার সকালে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহতের পুত্রবধূ ফাহিমা বেগমকে (৩০) আটক করে।

বৃহস্পতিবার বড়লেখা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাসান জামানের আদালতে পুত্রবধূ ফাহিমা শ্বাশুড়িকে হত্যা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর পূর্বে বিয়ানীবাজার উপজেলার দাসউরা গ্রামের আব্দুস শহিদের মেয়ে ফাহিমার সাথে বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রামের বাসিন্দা বৃটিশ নাগরিক ফাতির আলীর ছেলে মকসুদুল আলম সিপনের বিয়ে হয়।

ফাহিমা ছিলো সিপনের চতুর্থ স্ত্রী। এর আগের অন্য তিনজন স্ত্রীদের সাথে সিপনের তালাক হয়। বাড়িতে  প্রথম পক্ষের দুই ছেলে ও চতুর্থ স্ত্রী ফাহিমা থাকতেন। বিয়ের কয়েকদিন পর স্বামীর এক জনৈক বন্ধুর সাথে ফাহিমার পরিচয় হয়। স্বামীর ওই বন্ধু তাদের বাড়িতে প্রায়ই আসা-যাওয়া করতো। বিয়ের কয়েক মাস পর সিপন লন্ডনে চলে গেলে ফাহিমার সাথে স্বামীর জনৈক বন্ধু মুঠোফোনে অবৈধ সর্ম্পক গড়ে উঠে।

এদিকে গত ২৭ মার্চ সিপনের মা মায়ারুন নেছা লন্ডন থেকে দেশে আসেন। ঘটনার রাতে ওই ব্যক্তি ফাহিমাকে ফোন করে তার বাড়িতে আসেন। বাড়িতে অপরিচিত ব্যক্তির উপস্থিতির বিষয়টি টের পান শ্বাশুড়ি মায়ারুন নেছা। শ্বাশুড়ি অপরিচিত ব্যক্তির উপস্থিতির বিষয়টি টের পাওয়ায় ও অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি আড়াল করতে জনৈক ওই ব্যক্তি মায়ারুন নেছার শোবার ঘরে প্রবেশ করে তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অমিতাভ দাস তালুকদার জানান, গৃহবধূ ফাহিমা স্বামীর অবর্তমানে জনৈক এক ব্যক্তির সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনার রাতে ওই ব্যক্তি ফাহিমাকে ফোন করে তার বাড়িতে আসে। শ্বাশুড়ি বিষয়টি টের পাওয়ায় তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ, তদন্ত ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অবৈধ সম্পর্কের ঘটনাটি জানাজানি হবার ভয়ে শ্বাশুড়িকে হত্যার ঘটনাটি উঠে আসে। গৃহবধূ ফাহিমা হত্যায় জড়িত জনৈক ওই ব্যক্তির নাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঈদের দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটা থেকে পুত্রবধু বিভিন্ন স্থানে একেক রকম তথ্য জানিয়ে ফোন করেন। কোন জায়গায় তার শ্বাশুড়ি ষ্ট্রোক করেছেন, কোন জায়গায় ডাকাতদের হামলায় মারা গেছেন আবার কোথাও শ্বাশুড়ির শরীর খারাপ জানিয়ে ফোন করেন।

স্থানীয়ভাবে খবর পেয়ে ভোরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এসময় পুলিশ ডাকাতির ও মালামাল লুটের কোন কোন আলামত পায়নি। পুত্রবধুর ভাষ্যমতে ২জন ডাকাত কলাপসিবল গেট ও দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবশে করে থাকে কচটেপ দিয়ে তার মুখ পেঁচিয়ে রাখে ও শাশুড়িকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। কিন্তু কলাপসিবল গেট ও দরজা ভাঙার কোন আলামত পাওয়া যায়নি। এ সময় পুত্রবধুর অসংলগ্ন কথাবার্তায় ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যা মনে করে প্রাথমিকভাবে পুলিশ সন্দেহজনক হিসেবে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ সহিদুর রহমান জানান, গৃহবধূ ফাহিমা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় গৃহবধূকে আসামী করে ২জনের নামে মামলা হয়েছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর আদালত হত্যাকান্ডের সহযোগী হিসেবে জেলহাজতে ফাহিমাকে পাঠিয়েছেন।

উল্লেখ্য স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দিতে ফাহিমার সাথে অবৈধ সম্পর্ককারী ব্যক্তির নাম তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করেনি পুলিশ ।

এই সংবাদটি 761 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ