জীবন্ত ডিকশনারি রেজাউল

প্রকাশিত: ১:২১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০১৭

জীবন্ত ডিকশনারি রেজাউল

রাজশাহী বিভাগীয় চীফ :

অক্সফোর্ডসহ একে একে দুনিয়ার ১৮টি ইংরেজি ভাষার অভিধান ও ব্যকরণ বই আয়ত্ত তার। ২৫ লাখেরও বেশি শব্দ ভান্ডার তার ঠোঁটের আগায়। অসাধারণ এ প্রতিভার অধিকারী পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার নতুন ভারেঙ্গা গ্রামের গোলাম খলিফার ছেলে মোঃ রেজাউল ইসলাম।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর নানা কারণে আর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেয়া না হলেও শুরু হয় ইংরেজি জানার নিরন্তর সাধনা। অভিধান মুখস্ত করার চেষ্টার ফল হিসেবে তিনি এত বেশি বিদেশী শব্দ আর কেউ মস্তিষ্কে ধারণ করতে পারেননি বলে দাবি তার। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের তিনি এখন ইংরেজি বিষয়ে কোচিং করান। এমনকি বিসিএস পরীক্ষার্থীদেরও ক্লাস নিয়েছেন তিনি। বর্তমানে প্রায় পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী রেজাউল শারীরিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে গ্রামের বাড়িতেই বসবাস তাঁর।
শুধু শব্দভান্ডার নয়। প্রতিশব্দ, পরিভাষা, উপভাষা এমনকি ইংরেজি ও বাংলা ব্যাকরণের আদ্যোপান্ত তার নখদর্পণে। একাডেমিক পড়ালেখা না করেই পড়িয়েছেন বিসিএস কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের, বিদেশ গমনেচ্ছুকদের।
১৯৭৬ সালে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াবস্থায় জনৈক এক ইংরেজ এসেছিলেন তার স্কুলে বেড়াতে। তার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর রেজাউলের সবকিছু পাল্টে যায়। সেখান থেকেই শুরু। রেজাউল ১৯৮৫ সালে ধোপাখোলা করোনেশন (নাটিয়াবাড়ি) উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার সরকারি তিতুমির কলেজ থেকে ১৯৮৭ সালে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। বন্ধুরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিংয়ের দ্বারে দ্বারে তখন কোচিং সেন্টারে ইংরেজির ক্লাস নেয়া শুরু করেন রেজাউল। কোচিংয়ে পড়ানোর পাশাপাশি রেজাউল ইংরেজি অভিধানের ‘প্রেমে’ পড়ে যান। রেজাউল অক্সফোর্ডসহ একে একে বিশ্বের ১৮টি অভিধান ও ব্যকরণ আয়ত্ত করেন। ২৫ লাখেরও বেশি শব্দ তার আয়ত্তে।
বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ ও মানুষের প্রকৃতি-সংস্কৃতি জানা-বোঝার জন্য রেজাউল ঘুরে বেড়িয়েছেন দুনিয়াজুড়ে। বিশেষ করে মিশেছেন ইংরেজি ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে। ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন, জাপান, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশে। দেশ বিভুঁইয়ে তিনি জানার চেষ্টা করেছেন বিশ্বে তার সমকক্ষের ইংরেজি জানা কেউ আছেন কিনা? রেজাউলের ভাষ্য, ইংরেজি লেখা, বোঝা, বলা ও লেখার দিক থেকে বিশ্বে তার সমকক্ষ কম লোকই আছেন। ইংরেজরাও তার মতো এত শব্দ জানেন না, এত দ্রুত ইংরেজি বলতে পারেন না। রেজাউল জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বিশ্বের নামকরা প্রায় ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকদের সংস্পর্শে তিনি গেছেন।
দুই সন্তানের জনক রেজাউল বর্তমানে কিছুটা অসুস্থ্য অবস্থায় এখন নিজ গ্রামে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, “আমাদের দেশে শিক্ষার সনদই মুখ্য, জ্ঞানার্জন হচ্ছে গৌণ। তাই সে সনদ অর্জনের চেয়ে জ্ঞানার্জনকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। আমাদের দেশের ইংরেজি শেখানোর পদ্ধতি, গ্রামার বই, অনেক শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশ বিদেশের নাম করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইংরেজি শিক্ষকদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলে দেখেছেন যে তার সমকক্ষ কেউ নেই এবং থাকলে তিনি তার বা তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে প্রস্তুতও আছে বলে তিনি জানান। ইংরেজি শেখানোর ব্যাপারে তার যাদুকরী অনেক লেখা আছে। এজন্য তিনি দেশের সরকার সহ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এই সংবাদটি 1052 বার পঠিত হয়েছে