এতেকাফ থেকে শবেকদর

প্রকাশিত: ৩:৪২ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০১৬

এতেকাফ থেকে শবেকদর

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) ওফাতের আগ পর্যন্ত রমজানের শেষ দশক এতেকাফ করতেন। তারপর তাঁর স্ত্রীগণ এতেকাফ করেছেন। [বুখারি ও মুসলিম]।

এ হাদিস শরিফের আলোকে নারীদের এতেকাফ করার বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কোনো জিনিসকে আঁকড়ে ধরে তাতে নিমগ্ন থাকার নামই এতেকাফ। রমজান মাসে এর গুরুত্ব বেশি। বান্দা আল্লাহর এবাদতে মশগুল থাকার জন্য এতেকাফে বসেন। আধ্যাতিক উন্নয়নের উন্নততর সোপান এটি। এর মাধ্যমে নারী-পুরুষ মহান প্রভুর নৈকট্যপ্রাপ্ত হতে সক্ষম হন।

আমাদের দেশের নারীরা এ বিষয়টির ওপর তেমন জোর দেন না। তারা সংসারের দেখাশোনা করার দোহাই দিয়ে থাকেন। তারা ভুলে যান অসুস্থ অবস্থায় তাদের সংসার ঠিকই চলে। কার্য উপলক্ষে সংসার থেকে দূরে অবস্থান করলেও সংসারের চাকা সচল থাকে। এমনকি একদিন এ পৃথিবীর মোহ ছেড়ে তাদের চিরদিনের জন্য চলে যেতে হবে প্রভুর কাছে। বিষয়াদির ভালোবাসার মধ্যে ডুবে থেকে আমরা আল্লাহর ভয় পুরোপুরি অর্জন করতে পারি না। আল্লাহর আনুগত্যের অভাব পূরণে এক অভাবনীয় সুযোগ তৈরি করে এতেকাফ।

আংশিকভাবে আমরা দুনিয়াবী সংশ্লিষ্টতা থেকে মুক্ত হয়ে প্রভুর ধ্যানে মগ্ন থাকতে পারি। আত্মিক উন্নতি ও সৃষ্টি কর্তার জন্য নিবেদিত হওয়ার এক সুযোগ পাওয়া যায়। আল্লাহর প্রশংসা, ইবাদত ও প্রার্থনাতে নিজেকে মগ্ন রাখা যায়। ইতেকাফ দুনিয়ার সব কিছুর আকর্ষণ থেকে উপেক্ষা করিয়ে ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে মহান মালিকের সংস্পর্শে একান্তভাবে সময় কাটানোর সুযোগ করে দেয়। বছরের এগার মাস সাধারণভাবে চলার পর এতেকাফের মাধ্যমে তা বদলিয়ে মহামহিম সৃষ্টি কর্তার একান্ত সান্নিধ্যের ভিন্নতর স্বাদ আস্বাদন করার সুযোগ পাওয়া যায়।

রমজানের শেষ দশ দিনের ইবাদতে মগ্ন থাকার কারণে বহু আকাঙ্ক্ষিত শবেকদর প্রাপ্ত হওয়া যায়। সংসারের নানা রকমের ঝামেলাপূর্ণ কাজ করা থেকে মুক্ত হয়ে পরিপূর্ণভাবে প্রভুর ধ্যানে মগ্ন হওয়ার জন্য আসুন মুসলিম মা-বোনেরা এতেকাফে বসি। দশ দিন বলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। সর্বনিম্ন একদিনও এতেকাফ করা যায়। সংসারের কাজকর্ম গুছিয়ে নিই তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে। তবে খুব জরুরি কথা সংক্ষেপে বলা যাবে। পাক-সাফ হয়ে মানসিকভাবে পরমাত্মার সঙ্গে মিলনের প্রস্তুতি নিয়ে ২০ রমজান বাদ আসর ‘নাওয়াইতুআন সুন্নাতাল এতেকাফ’ বলে বসে যাই। এতেকাফে বসে সালাত আদায়, কোরআন তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন, জিকির, তাসবিহ-তাহলিল, তওবা, ইস্তিগফার দোয়া-দরূদ ইত্যাদি ইবাদতে সর্বাধিক সময়ে মশগুল থাকব। এ ছাড়া শরিয়াবিষয়ক ইলম চর্চা করায় ব্যস্ত থাকব।

নারী এতেকাফকারীর দিন-রাতের কর্মব্যবস্ততা ভিন্নতর রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। তার অলস সময় কাটানোর সময় থাকে না। এই শেষ দশ দিনের পরই ঈদের প্রস্তুতি যখন অন্য নারীরা নিতে ব্যস্ত থাকে। তখন এতেকাফকারী নারী অন্য এক আত্মার ঈদের ব্যবস্থাপনায় বিভোর হয়ে ওঠেন। পরিবার-পরিজনের জন্য দোয়া করায় ব্যস্ত সময় পার করেন। প্রভুর প্রেমময় বাণী শোনার জন্য সে প্রতীক্ষায় সময় পার করে। আল্লাহ পাকের প্রশংসা, গুণগান, শুকরিয়া জ্ঞাপন এবং রাসূল (সা.) এর ওপর দরূদ পাঠে ব্যস্ত সময় পার করেন। ঈদের চাঁদ উঠার কথা শ্রবণে তিনি এতেকাফ থেকে বেরিয়ে আসেন প্রশান্ত হৃদয়ে। দশ দিনের কৃচ্ছ্রসাধনায় রিপু দমনের একটা অভ্যাস হয়ে যায়। তখন তিনি সাংসারিক কাজকর্মে পূর্ণ মনোযোগ দিতে সক্ষম হন। এতে পরিবারের শান্তির প্রবাহ বয়ে যায়। হে আল্লাহ আধুনিক সমাজের মা-বোনদের এতেকাফে বসার তৌফিক দান করুন।

লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক

এই সংবাদটি 642 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ