বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা, অসাবধানতা ও প্রযুক্তিগত অদক্ষতার কারণে হ্যাকাররা ঘটনাটি সহজেই ঘটাতে পেরেছে-ড. ফরাসউদ্দিন

প্রকাশিত: ১:১৪ পূর্বাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৬

স্টাফ রিপোর্টার : রিজার্ভের অর্থ লুটের ঘটনার জন্য সুইফটের নেটওয়ার্কে আরটিজিএস (রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট) নামে আন্তঃব্যাংক সিস্টেম স্থাপন দায়ী। এ জন্যই রিজার্ভ চুরি সম্ভব হয়েছে। নিউ ইয়র্ক ফেডও দায়িত্বশীল আচরণ করেনি। সুইফট ও নিউ ইয়র্ক ফেড তাদের দায় এড়াতে পারে না।

গতকাল রোববার বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গবর্নর ড. ফরাসউদ্দিন এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই রিপোর্টে এদেশের কেউ জড়িত কিনা তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা, অসাবধানতা ও প্রযুক্তিগত অদক্ষতার কারণে হ্যাকাররা ঘটনাটি সহজেই ঘটাতে পেরেছে বলে মনে করেন তিনি।

রিজার্ভ লুটের ঘটনার পরে তা তদন্ত করার জন্য ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটি দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা দেয় এ বিষয়ে কোনো কথা বলবেন না। এতোদিন তাই করেছেন। অন্তবর্তী রিপোর্ট দেয়ার পরে বলেছিলেন, সরকারকে এই রিপোর্ট হজম করতে সময় দিতে হবে। সরকার নিজে এ ব্যাপারে কথা বলতে পারে, নইলে আমাদের বলতে বললে আমরা সাংবাদিকদের জানাবো।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা, অসাবধানতা ও প্রযুক্তিগত অদক্ষতার কারণে হ্যাকাররা ঘটনাটি সহজেই ঘটাতে পেরেছে বলে মনে করেন তিনি।

ফরাসউদ্দিন বলেন, দুটি দেশের হ্যাকাররা রিজার্ভ চুরির জন্য বিশেষ একটি ম্যালওয়্যার তৈরি করে। এর মাধ্যমে এই অর্থ চুরি করা সম্ভব হয়। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক (ফেড নিউইয়র্ক) এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ করেনি।

এ সময় তিনি বলেন, গত বছর সুইফট বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি চিঠি দেয়। সেই চিঠিতে আরটিজিএস সিস্টেমের সঙ্গে সুইফটের সংযোগ দিতে বলা হয়। আর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অসতর্কতা, অজ্ঞতা ও দায়িত্ব জ্ঞানহীনভাবে তা অনুমোদন করে। যা কাল হয়ে দাঁড়ায়। সংযোগ দেয়ার পর ২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার চালু রাখতে বলে তারা। অথচ এর জন্য যে প্রযুক্তি সহযোগিতা প্রয়োজন তা করা হয়নি।

ফরাসউদ্দিন বলেন, আরটিজিএসের সঙ্গে সুইফটের সংযোগ দেয়ার পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার সার্ভারে প্রবেশ করতে একটি বিশেষ ম্যালওয়ার তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমেই পরবর্তীতে ১০ কোটি ডলার চুরি হয়ে যায়। এর দায় বর্তায় সুইফটের উপর।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় ফেডেরও কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। কারণ ৩৫টি অর্ডারের মধ্যে পাঁচটি অর্ডার কার্যকর করে তারা। এ পেমেন্ট ছাড় করবে কি-না তা জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কনফারমেশন চায় ফেড। অথচ ফিরতি ম্যাসেজ না পেয়েই পেমেন্ট কার্যকর করা হয়। তাই তাদেরও দায়িত্বে অবহেলার সুযোগ নেই।

ফরাসউদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে চুরি যাওয়া রিজার্ভের মধ্যে অন্তত ৫ কোটি ডলার উদ্ধার করা সম্ভব।

এই সংবাদটি 603 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ