বড়লেখায় তন্ত্রমন্ত্রে প্রাণ ফিরে পায়নি শিবানীঃ লাশ ভাসিয়ে দেয়ার নির্দেশ ওঝা বিষরী’র

প্রকাশিত: ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০১৮

বড়লেখায় তন্ত্রমন্ত্রে প্রাণ ফিরে পায়নি শিবানীঃ লাশ ভাসিয়ে দেয়ার নির্দেশ ওঝা বিষরী’র

বড়লেখা প্রতিনিধিঃ
বড়লেখা উপজেলার দাসের বাজারে ৪ দিন পূর্বে সাপের কামড়ে মৃত শিবানী রাণীর লাশ নিয়ে জীবিত করার অপচেষ্ঠা তদবীর ও তন্ত্রমন্ত্রে প্রাণ ফিরে পায়নি শিবানী রাণী দাস । তন্ত্রমন্ত্রকারী ওঝা উস্তার আলীর নিস্ফল চেষ্ঠা ব্যর্থ হল। সেই সাথে হাসপাতালের ডাক্তার কর্তৃক মৃত ঘোষনাই সঠিক রইল। বুধবার বিকেলে বড়লেখা থেকে সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমীন পরিদর্শন করে এরকম তথ্য পেয়েছেন।
সরেজমিনে বুধবার বিকালে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, নিহত কলেজছাত্রীর লাশ আগের মতই বাড়ির উঠানে রয়েছে। সোমবার রাতে ঝাড়ফুঁক শুরু করা ওঝারা ইতিমধ্যে বিদায় নিয়েছে।

নতুন আগত নারী ওঝা নিজেকে বিষরী (সনাতন সম্প্রদায়ের দেবী) পরিচয় দিয়ে মৃত শিবানীর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দিতে নির্দেশ দেয়। সৎকার করলে পরিবারের বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির ভয়ভীতি প্রদর্শন করায় নিরীহ পরিবারটি দোটানায় পড়েছে।

এদিকে বুধবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশের একটি দল। অবশেষে ধর্মীয় রীতিতে সৎকারের জন্য শিবানীর পরিবার আবেদন করায় পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

নিহত শিবানীর দাদা প্রনথ চন্দ্র দাস বলেন, ডাক্তার মৃত ঘোষণার পর ওঝারা ঝাড়ফুঁকে জীবিত করার আশ্বাস দেন। গত ৩ দিনেও তারা আমার বোনের জ্ঞান ফেরাতে পারেনি।

এক নারী ওঝা নদীতে ভাসিয়ে দিতে বলছেন। সৎকার করলে পরিবারের নানা ক্ষতির ভীতি দেখাচ্ছেন। এ অবস্থায় ভাসিয়ে দিবেন না ধর্মীয় মতে সৎকার করবেন এ নিয়ে দোটানায় আছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সোহেল মাহমুদ জানান, চিকিৎসকের মৃত ঘোষিত ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁকে জীবিত করার নজির নেই। ধর্মীয় রীতি অনুসারে নিহত কলেজছাত্রীর লাশের সৎকার করতে পরিবারের সদস্যদের বলা হয়েছে।
উল্লেখ্যঃ শিবানী রানী দাস উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের সুনামপুর গ্রামের মনোরঞ্জন দাসের মেয়ে। তিনি সিলেট এমসি কলেজের মাস্টার্সের ছাত্রী এবং স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন।

জানা গেছে, রোববার রাতে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ে আহত হন শিবানী দাস। ওই রাতেই আহতাবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সোমবার সকাল ৮টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিকালে শিবানীর লাশ বাড়িতে নেয়া হলে বিভিন্ন স্থান থেকে ওঝারা জড়ো হয়ে তাকে জীবিত করার আশ্বাসে রাতেই শুরু করে ঝাড়ফুঁক।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে লোকজন ভিড় করতে থাকে ওই বাড়িতে। ভিড় সামলাতে শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয় পুলিশ।

এই সংবাদটি 754 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ