ভ্যালেন্টাইন ডে’র গোপন ও প্রকৃত ইতিহাস

প্রকাশিত: ২:১৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮

ভ্যালেন্টাইন ডে’র গোপন ও প্রকৃত ইতিহাস

এম শামছুল আলমঃ শুধু একদিনেই আমেরিকাতে সতেরশ কোটি ডলারের ব্যবসা হয় ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষে… সারা বিশ্বের হিসেব তো বাকিই থাকল… সেই ভ্যালেন্টাইন ডে’র কিছু গোপন কথাও ইতিহাস নিয়ে এই লেখা…ভালোবাসা দিবস ভ্যালেন্টাইন ডে… প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসা তো আছেই, এর সাথে আবার অনেকে না বুঝে বাবা, মা’র প্রতিও ভালোবাসা দেখায় এই দিনে… কিন্তু এদিন বাবা, মা’র জন্য ভালোবাসা দিবস না। কেন নয় সেটা বাকি লেখা পড়লেই বুঝবেন…প্রাচীন রোমানদের ধর্ম ছিল প্যাগান ধর্ম এবং তারা বিভিন্ন দেবতাদের পুজা করতো। লুপারকাস ছিল (পৃষ্ঠা ২ ক: ১ দেখুন)
তাদের বন্য পশু দেবতা। এই দেবতার প্রতি ভালবাসা জানিয়ে তারা ‘লুপারক্যালিয়া’ (খঁঢ়বৎপধষরধ) নামক পুজা উৎসব করতো।এই ‘লুপারক্যালিয়া’ উৎসব আগে ফেব্রুয়া (ঋবনৎঁধ) নামে পরিচিত ছিল, যেখান থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের উৎপত্তি। রোমানরা এই ‘লুপারক্যালিয়া’ পুজার উৎসব ১৩, ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়াতে পালন করতো যার মূল দিন ছিল ১৪ ফেব্রুয়া বা ফেব্রুয়ারী। এই পুজার প্রধান আকর্ষণ ছিল লটারি। বিনোদন ও আনন্দের জন্য যুবকদের মাঝে যুবতীদের বণ্টন করে দেয়াই ছিল এ লটারির উদ্দেশ্য। পরবর্তী বছর আবার নতুন করে লটারি না হওয়া পর্যন্ত যুবকেরা তাদের জন্য বরাদ্দ মেয়েদের এক বছর ভোগ করার সুযোগ পেত। এই ‘লুপারক্যালিয়া’র দিনে আরেকটি প্রথা ছিল। এদিন তারা ছাগল ও কুকুর তাদের দেবতাদের জন্য উৎসর্গ করত… আর উৎসর্গিত ছাগল ও কুকুরের রক্ত গায়ে মেখে তাদেরই চামড়ার পোশাক ও চাবুক বানিয়ে যুবকরা ঐ চাবুক দিয়ে যুবতীদের আঘাত করতো। তাদের বিশ্বাস ছিল এতে যুবতী নারীদের গর্ভধারণ ক্ষমতা বেড়ে যায়। রোমান শাসকেরা একসময় তাদের প্যাগান ধর্ম পরিবর্তন করে খ্রিষ্টানধর্ম গ্রহন করে। ধর্ম গ্রহণ করলেও তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য জনগনের প্যাগান সংস্কৃতি ঠিক রেখে তা খ্রিস্টধর্মের ব্যানারে নিয়ে যায়। যেমন ঝঁহফধু রোমান প্যাগানরা তাদের ঝঁহ এড়ফ এর পুজা করতো। খ্রিষ্টান হওয়ার পর তারা ঝঁহফধু কেই তাদের খ্রিষ্টান ধর্মের উপসনার দিন বানিয়ে নেয়। ভ্যালেন্টাইন নামক এক পাদ্রি ছিল, তিনি তৃতীয় দশকে রোমে মারা গিয়েছিলেন… আর তার মৃত্যু দিন ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। প্যাগানরা ১৪ ফেব্রুয়ারিতে লুপারক্যালিয়া পালন করত, আর খৃষ্টানররা ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করত পাদ্রি ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যু দিবস হিসেবে। যাই হোক, জনগনের মাঝ থেকে প্যাগান ধর্মের চিহ্ন মুছে ফেলতে গেলাসিয়াস নামের খ্রিষ্টান পোপ এবার রোমান গড লুপারকাস এর বদলে খ্রিষ্টান পাদ্রী সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন এর নামে ১৪ ফেব্রুয়ারীকে ভ্যালেন্টাইন ডে ঘোষণা করে। তখন প্যাগানদের লুপারক্যালিয়াই রূপান্তর হয় খ্রিস্টানদের ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ তে। তবে যুবতী বন্টন লটারি পদ্ধতি সেসময়েও চালু ছিল। পরে মধ্যযুগের শুরুতে লটারি নিয়ে ঝামেলা ও গন্ডগোল তৈরি হওয়ায় ফরাসি সম্রাট ভ্যালেন্টাইন দিবস উদযাপন নিষিদ্ধ করে দেয়। পরে ইতালি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানিতেও একে একে এটা নিষিদ্ধ হয়। এমনকি ইংল্যান্ডেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে রাজা দ্বিতীয় চার্লস আবার এটি পালনের প্রথা চালু করেন। পরবর্তীতে ব্যবসায়িক স্বার্থে বিভিন্ন দেশে এই দিবসটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কারণ একেকটি দিবস মানেই মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিদের বড় রকমের ব্যবসা। বিজনেস ইনসাইডারের মতে, শুধু এই একদিনেই আমেরিকাতে সতেরশ কোটি ডলারের ব্যবসা হয়। মূলত যে নয়টি বড় কোম্পানি ভ্যালেন্টাইন ডে’কে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করেছিল, তার মধ্যে একটি ছিল ১-৮০০ ঋষড়বিৎং… ফুলের এই কোম্পানি শুধু এই ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষ্যেই প্রতিবছর দশ লক্ষ নতুন কাস্টোমার পায়…এছাড়া চকোলেট কোম্পানি হার্শে, নেকো, কার্ড কোম্পানি হলমার্ক, টেডি বিয়ার কোম্পানি হার্মোন্টসহ বেশ কিছু কোম্পানি গত একশ বছর ধরে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে ভ্যালেন্টাইন ডে’র ব্যাপক প্রচার করছে। ১৯৯৩ সালের আগে আমাদের বাংলাদেশের লোক বুঝতই না ভ্যালেন্টাইন ডে কি জিনিস… ১৯৯৩ সালে লন্ডন ফেরত সাংবাদিক শফিক রেহমান এদেশে প্রথম ভ্যালেন্টাইন ডে আমদানি করেন ব্যবসায়িক স্বার্থেই… তরুণদের মাঝে নতুন কিছুর মাধ্যমে তার পত্রিকার প্রচার বৃদ্ধি করার জন্য… এরপর সারা দেশে ছড়িয়ে যায়। মুলত এই ভালবাসা দিবস হল একটি পুজার দিন যেদিন যুবকদের মাঝে লটারি করে ভোগের জন্য যুবতীদের দেওয়া হত। আর আমরা এমন এক জাতি, পশ্চিমারা আমাদের যা খাওয়া শেখায়, আমরা তাই খাই…সকল ইসলামিক স্কলার একমত এই দিনটা মুসলমানদের জন্য পালন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ… ফুল, গিফট, উইশ করা তো দূরে থাক। কারণ ভ্যালেন্টাইন ডে পালন করা মানেই প্যাগানদের পূজায় অংশগ্রহন করা, সেটা যেভাবেই হোক না কেন। এমনকি খ্রিষ্টান ধর্মমতেও এটা পালন করা নিষেধ।

এই সংবাদটি 1080 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ