বিয়ানীবাজারে দু’পক্ষের রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষ ॥ আহত ৫০

প্রকাশিত: ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০১৭

বিয়ানীবাজারে দু’পক্ষের রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষ ॥ আহত ৫০

বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তবর্তী গজুকাটা গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আড়াইঘন্টা ব্যাপী এ সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষে প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সাবেক মেম্বার আফতাব আলীর গোষ্টি ও হাজী আকদ্দছ আলীর গোষ্টির মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ২জনকে সিলেট উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যদের বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নুল হোসেন জানান, সংঘর্ষের ঘটনার তিনদিন পূর্বে গজুকাটা গ্রামের হাজী আকদ্দছ আলীর বাড়ির সুপারী চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে উনার গোষ্টির রুবেল আহমদ (১৯)। এ সময় বাড়ির মালিক পক্ষ সুপারী চুরির দায়ে ধৃত রুবেলকে তিরষ্কার ও গালাগালি করেন।

এ ঘটনায় একই গ্রামের আফতাব আলী (সাবেক মেম্বার) সুপারী চোরের পক্ষ নিয়ে পরদিন (বৃহ¯প্রতিবার) আকদ্দছ আলীর গোষ্টিকে হুমকি দিয়ে যেকোন সময় মারামারির চ্যলেঞ্জ করেন।

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় হাজী আকদ্দছ আলীর গোত্রের লোকজন শনিবার  সকালে নিজেদের মধ্যে এক সভায় মিলিত হয়। আফতাব আলী কেন এ বিষয়টিতে জড়িত হয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন সভার পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে ক’জন গিয়ে আফতাব আলীকে জিজ্ঞাস করেন।

এ নিয়ে আফতাব আলীর সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায় উভয় গোষ্টির লোকজন ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ ধারালো লম্বা দা, কুড়াল, ঝাটা, ছূলফি, লাঠি ও ইটপাটকেল ব্যবহার করে। থেমে থেমে প্রায় আড়াই ঘন্টা ব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। গ্রামের মহিলা ও শিশুদের আতœচিকিৎকারে আশাপাশের বিভিন্ন গ্রামের লোকজন ছুটে আসে।

খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা থেকে একদল পুলিশ ঘটনা স্থলে ছুটে যায়। জকিগঞ্জ সার্কেল এসপিও ঘটনাস্থলে আসেন। বেলা ১টার দিকে পুলিশ দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।  সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় ৫০জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে হাজী আকদ্দছ আলীর পক্ষের লোকজন বেশী বলে জানা যায়। গুরুতর আহত আকদ্দছ আলীর পক্ষের জামিল আহমদ (২৫) ও দেলোয়ার হোসেন (২৩) কে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আহতদের নাম তাৎক্ষণিক ভাবে জানা যায়নি।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, খবর পেয়ে আমি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এখন পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত আছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন না থাকলেও পাশে পাশে পুলিশ রয়েছে। থানায় কোন পক্ষই এ পর্যন্ত কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই সংবাদটি 404 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ