দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ভাঙ্গার পথে

প্রকাশিত: ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০১৭

দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ভাঙ্গার পথে

প্রধান শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা  স্নাতক.বিএড সহ ১২ বৎসরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন কিন্তু বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা অথবা অনার্স মাস্টার্স পাশ হতে হবে।
ফয়জুল হক শিমুল : বিয়ানীবাজার উপজেলার দাসউরা দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ সুযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধাান শিক্ষক সরকারের নীতিমালা ভঙ্গ করে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই সুযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মসহ শিক্ষকদের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টিরও অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়- দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সরকারি নীতিমালা না মেনে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, সভাপতিকে অবহিত না করে সভা আহ্বান এবং কমিটি দু’ভাগে বিভক্ত করার পায়তারা করছেন। এ নিয়ে ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক তথা এলাকায় বিভাজন দেখা দেওয়ায় স্কুলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে সচেতন এলাকাবাসী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গত ২৮.১২.২০১৬ ইং তারিখে সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান ও দুইজন অভিভাবক সদস্য সাক্ষরিত একটি আবেদন পত্রে দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালার ৩৫, ৩৬, ও ৩৭ প্রবিধান লঙ্গনের দায়ে কার্যকর প্রদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চেয়ারম্যান সিলেট শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করা হয়।
সূত্রে প্রকাশ ২০ নভেম্বর প্রধান শিক্ষক মজির উদ্দিন আনসার অবসর গ্রহণ করেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন নাজিম উদ্দিন আহমদ। পরবর্তীতে ম্যানেজিং কমিটির সভায় সরকারি বিধিমোতাবেক প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ২৭ নভেম্বর দু’টি পত্রিকায় প্রধান শিক্ষক নিয়োগে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে কমিটি ও শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন এবং কমিটির পরবর্তী সভায় হট্টগোল শুরু হলে সভাটি মূলতবি করা হয়। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কমিটির সভাপতি ও দু’জন সদস্যের অগোচরে মূলতবি সভা ডেকে বিভিন্ন সিদ্বান্ত গ্রহণ করেন। অনুরূপভাবে গত ২৭ ডিসেম্বর সভাপতিকে অবহিত না করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সভা আহ্বান করেন।
এ ব্যাপারে দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে আলাপ কালে তিনি বিষয়টি পূর্ব দ্বন্ধের জের উল্লেখ করেন এবং অসুস্থতা জনিত কারণে কথা বলতে পারছেন না বলে জানান।
স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মজির উদ্দিন আনসারের সাথে আলাপ কালে তিনি জানান- নীতিমালা লঙ্গন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে এলাকায় একটি বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়েছে। এ বিজ্ঞপ্তির ফলে বৈধ প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারছেন না । প্রার্থীতার জন্য যোগ্যদের আবেদনের সুযোগ দেয়া উচিত। অন্যথায় বেতন ভাতা ও বিল পাশ হবে না বলে তিনি জানান।
বিষয়টি সচেতন বিবেককে ভাবিয়ে তুলেছে।
একাধিক সূত্রমতে, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় যে কোনো সময় দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য – প্রধান শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা স্নাতক.বিএড সহ ১২ বৎসরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন কিন্তু বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা অথবা অনার্স মাস্টার্স পাশ হতে হবে।

এই সংবাদটি 387 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ