বিয়ানীবাজারে শিশু ফাহিম হত্যার দায় স্বীকার করলেন তার বাবা

প্রকাশিত: ১:০১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০১৬

বিয়ানীবাজারে শিশু ফাহিম হত্যার দায় স্বীকার করলেন তার বাবা

বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ শিশু ফাহিম  হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে । শুক্রবার (২ ডিসেম্বর ) সকালে উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের কোনাগ্রাম থেকে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা ফাহিম আহমদ (৮) নামক এক শিশুর লাশ পুলিশ উদ্ধার করে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ফাহিমের পিতা নুরুল ইসলাম জানিয়েছে, ছেলের উচ্ছৃঙ্খল আচরণে পরিবারের সবাই তার উপর অতিষ্ট। সম্প্রতি পাশের বাসার সাথে তার মারামারির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে আপোস মিমাংসায় ফাহিমের পিতা পাশ্ববর্তী ঘরের লোকের কাছে ক্ষমা চাইতে হয়। এরপর থেকে ছেলে উপর ক্ষোভ দেখা দেয় এবং তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে ।  সে শুক্রবার সকালে পুত্রকে নিয়ে পাশ্ববর্তী অফিস বাজারে আসে এবং সেখানের একটি চায়ের দোকানে তাকে রুটি খাওয়ায় এবং বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে তাঁর হাতে থাকা রশি দিয়ে প্রথমে ফাঁস দিয়ে হত্যা করে এরপর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার জন্য লাশটি ঝুলিয়ে রাখে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, রাতে জিজ্ঞাসাবাদে ফাহিমের পিতা নুরুল ইসলাম শিশু পুত্রকে হত্যার কথা স্বীকার করে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে। নুরুল ইসলামের বাড়ী নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা থানায়।

উল্লেখ্য, উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের কোনাগ্রামের মুক্তা মিয়ার কলোনীতে নেত্রকোনার বাসিন্দা দিনমজুর নুরুল ইসলাম তাঁর স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তাঁর স্ত্রীও অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সকাল ১১টায় কলোনীর জেনারেটর রুমে ফাহিমের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন কলোনীর অন্যান্য বাসিন্দারা। খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরীর পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম ও একই কলোনীর বাসিন্দা আল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসলে আল আমিন এই হত্যাকান্ডের কথা অস্বীকার করলেও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল স্বীকার করে সেই তাঁর ছেলেকে হত্যা করেছে।

এব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, শিশু ফাহিম হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে তার বাবা নুরুল ইসলাম । সে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

এই সংবাদটি 440 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ