ঢাকা |
প্রকাশিত: ২:৪৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০১৬
সময়চিত্র ১৮ জুলাই ২০১৬ ইং সোমবার
স্টাফ রিপোর্টার: এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কে এখনও ঈদের আমেজ কাটেনি। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক তুলছেন বিক্রেতারাও। সোমবার সকালে আমাদের প্রতিবেদক ঘুরে দেখেন দলে দলে দর্শনার্থী ঢুকেছে মলটিতে। এ ছাড়া ব্লকবাস্টার সিনেমাস, ফুড কর্নার, রাইডগুলো ঘিরে ছিল মানুষের ভিড়।
ঈদের পরও ক্রেতাদের ভিড় থাকায় বিক্রেতারাও বেশ খুশি। কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মলটিতে ঢোকার মুহূর্তেই প্রাণ জুড়িয়ে যাচ্ছিল আগতদের। পার্কটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকায় লোকজন ইচ্ছেমতো ঘুরে-ফিরে প্রয়োজনীয় সব কেনাকাটা করছিলেন।
নারী-শিশুসহ সব বয়সী লোকজন আনন্দ-উল্লাস করে রাইডগুলোতে চড়েন। শপিংমলটির বাহির, ভেতর এবং প্রবেশপথে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী সতর্কাবস্থায় থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া পুলিশ ও র্যাবকে সার্বক্ষণিক অবস্থান ও টহল দিতে দেখা গেছে।
সোমবার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এ শপিংমলটি ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থীরা শপিংমলটিতে ঢুকছেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে এখনও ঈদের আমেজ, আনন্দ লক্ষ্য করা গেছে। যে আনন্দে শামিল হচ্ছেন বিদেশীরাও। এসেছিলেন শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী নারী-পুরুষ।
বিনোদন পার্কসহ শপিংমলের ফ্যাশন হাউস, ফুড কর্নার, ফিউচার ওয়ার্ল্ড, কার্নিভাল, প্লেয়ার ক্লাব, ভোগ লাইফস্টাইল লাউঞ্জে লোকজনের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। যাত্রাবাড়ী থেকে আসা নিলয় ইসলাম ও পিংকি আক্তার দম্পতি জানান, তারা ঈদ করেছেন কুমিল্লায়। বুধবার ঢাকায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও এক ননদকে নিয়ে এসেছেন। সবাই অনেক খুশি। কারণ পর্যাপ্ত নিরাপত্তার মধ্যে সবাইকে নিয়ে কেনাকাটা, খাওয়া-দাওয়া ও রাইডগুলোতে চড়তে পারছেন।
উত্তরা থেকে আসা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম চৌধুরী ও লিপি চৌধুরী দম্পতি জানান, ঈদের আগেও তারা এ মার্কেটে বেশ কয়েকবার এসেছেন। ঈদের পর দু’বার এসেছেন। নিরাপত্তা থাকায় ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে এখানেই চলে আসেন। একই ছাদের নিচে সবকিছু পাওয়া যায়। সারা দিন ঘুরে-ফিরে, খাওয়া-দাওয়া, কেনাকাটা করে সবাইকে নিয়ে সিনেমা দেখেন।
শপিংমলটিতে দেশীয় পোশাক প্রস্তুতকারী সব কয়টি ব্যান্ডের শোরুম রয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিখ্যাত সব কটি ব্যান্ডের শোরুম রয়েছে মলটিতে। ঈদ উপলক্ষে শপিংমলের ‘ভোগ লাইফস্টাইল লাউঞ্জ’ ফ্যাশন হাউসেও ছিল তরুণ-তরুণীদের ভিড়। আধুনিক এ ফ্যাশন হাউসে রয়েছে হেয়ার কার্ট, সেটিং, কালার, শ্যাম্পু, হেয়ার ট্রিটমেন্ট, পাম্প, পলিশ, হেয়ার রিমুভাল ও থ্রেডিং, ফুট ম্যাসেজ, নেইল কেয়ার, ফেসিয়াল, ব্রাইডাল প্যাকেজ, মেহেদি, শেভিং সম্পা ও ম্যাসেজ, স্টিমবাথ, সোনাসহ মহিলা ও পুরুষের রূপসজ্জার সুব্যবস্থা।
নিচতলায় মেট্রো ফ্যাশন হাউসে পছন্দের পোশাক কিনতে ব্যস্ত ক্রেতারা। হাউসটির ম্যানেজার আশফাক মিজান জানান, নানা ডিজাইন ও বাহারি কারুকার্যের পোশাকে দৃষ্টি কেড়েছে ফ্যাশন সচেতন ক্রেতাদের। বিশেষ করে কুর্তি ও কামিজের প্রতি বিশেষ ঝোঁক দেখা গেছে তরুণীদের। এ ছাড়া এক্সক্লুসিভ থ্রি-পিসের বেশ চাহিদাও রয়েছে।
বৈচিত্র্যপূর্ণ ও বর্ণিল এসব পোশাকের দামও ক্রেতাদের হাতের নাগালের মধ্যে। ক্রেতারা স্টোন ও অ্যামব্রয়ডারির সংমিশ্রণে পোশাকগুলো ধরে ধরে দেখছেন। সফট জর্জেট ও শিফনের ওপরে কামিজ ও কুর্তি ফ্যাশন সচেতনদের প্রধান টার্গেট। ঈদের সময় এ পোশাকগুলো অনেক বিক্রি হয়েছে, এখনও বিক্রি হচ্ছে।
মার্কেটের নিচতলায় নবরূপা ফ্যাশন শোরুমে গিয়ে দেখা যায়, বিশেষ করে নারী ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়। শোরুমটির ম্যানেজার মিরাজ জানান, ঈদে অনেক লোক সমাগম হলেও অন্যসব মার্কেটের মতো ‘ধাক্কাধাক্কির সমস্যা’ ছিল না। মলের সুবিশাল পরিসর আর বিশাল আকৃতির দোকানগুলোতে ইচ্ছেমতো দেখেশুনে কেনাকাটা করেছেন ক্রেতারা, এখনও ক্রেতারা আসছেন। যেন ঈদের আমেজই রয়েছে।
আড়ংয়ের ম্যানেজার শায়লা পারভীন মিতা সময়চিত্রকে জানান, ঈদের আমেজ এখনও রয়েছে। ক্রেতাদের ভিড়ও রয়েছে। প্রতিনিয়তই নতুন পোশাক তোলা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিক্রি ভালো হচ্ছে, অনেকে আবার ঈদের পোশাকগুলোও খুঁজছেন।
মেহজাবীন শপিংমলে গিয়ে দেখা যায়, নারীরা শাড়িসহ বিভিন্ন আধুনিক ডিজাইনের পোশাক কেনাকাটা করছেন। মেহজাবীন শপিংমলটির স্বত্বাধিকারী মাহমুদা রহমান সময়চিত্রকে জানান, ঈদ উপলক্ষে ভারত ও থাইল্যান্ডের শাড়ি, থ্রি-পিস, বিভিন্ন রকমের জুতা, ব্যাগ, কসমেটিক সামগ্রী তুলেছিলেন। ঈদের পরও বিক্রি ভালো হচ্ছে।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।