লাউয়াছড়ার রেললাইন সৌন্দর্যের আড়ালে নীরব মৃত্যুফাঁদ

প্রকাশিত: ৮:৪২ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২৬

লাউয়াছড়ার রেললাইন সৌন্দর্যের আড়ালে নীরব মৃত্যুফাঁদ

কমলগঞ্জ_ প্রতিনিধি (মৌলভীবাজার)
সৌন্দর্যের আড়ালে নীরব মৃত্যুফাঁদ
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইনে ছবি তোলায় ব্যস্ত পর্যটকরা। মঙ্গলবারে তোলা। সময়চিত্র পত্রিকার

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান- চিরসবুজ বন, পাখির ডাক, আর সবুজের বুক চিরে চলে যাওয়া মনোরম রেললাইন। প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছে এটি দীর্ঘদিন ধরে আকর্ষণীয় গন্তব্য।

কিন্তু এই সৌন্দর্যের মাঝেই তৈরি হয়েছে মৃত্যুফাঁদ। রেললাইনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার কারণে অথবা আনমনে রেললাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ঘটনা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে প্রায়ই।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আকর্ষণীয় ছবি বা ভিডিও পোস্ট করার প্রতিযোগিতা পর্যটকদের ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নিখুঁত একটি ফ্রেমের খোঁজে অনেকেই ভুলে যাচ্ছেন, এটি একটি সক্রিয় রেলপথ, যেখানে যেকোনো মুহূর্তে ছুটে আসতে পারে দ্রুতগতির ট্রেন।
এমন ঘটনার উদাহরণ তৈরি হয় ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর। শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ রুটের লাউয়াছড়া বনাঞ্চলে একটি লেভেল ক্রসিংয়ের কাছে সেলফি তুলতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রেল কর্মকর্তাদের মতে, আখাউড়া থেকে সিলেটগামী একটি ইঞ্জিন তাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; এটি একটি উদ্বেগজনক প্রবণতার প্রতিফলন।’ তিনি বলেন, ‘রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলা এখন অনেকের কাছে স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঝুঁকির মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয় লাউয়াছড়ার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য। ঘন বৃক্ষরাজি ও আঁকাবাঁকা পথের কারণে অনেক সময় দূর থেকে ট্রেন আসা দেখা যায় না। ফলে পর্যটকদের প্রতিক্রিয়া জানানোর সময়ও থাকে না।

পর্যটকদের মধ্যেও এই প্রবণতার স্বীকারোক্তি রয়েছে। বরিশাল থেকে আসা রাশেদ মাহমুদ বলেন, ‘সবাই ছবি তুলছে, ভিডিও বানাচ্ছে-আমি বাদ পড়তে চাইনি।

এই সংবাদটি 176 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ