জুড়ীতে বাড়ছে পানি অসহায় অর্ধ-লক্ষাধীক মানুষ

প্রকাশিত: ৪:০১ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০১৭

জুড়ীতে বাড়ছে পানি অসহায় অর্ধ-লক্ষাধীক মানুষ
আব্দুস সবুর (বন্যার্ত এলাকা থেকে ফিরে)ঃ
টানা  কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। বন্যার ফলে, উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি। মানুষজন গরু-বাছুর, হাঁস,মুরগসহ অন্যান্য প্রাণী নিয়ে দূর্ভোগের সাথে জীবন অতিবাহিত করছেন। অত্রাঞ্চলের বন্যার পানি দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি এখন ভয়াবহতার রূপ ধারন করেছে। বর্তমানে উপজেলার প্রায় ৯০ভাগ মানুষ অসহায় ও দূর্ভোগের সাথে যুদ্ধ করে কোনো রকমে বেঁচে আছেন। এ পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু ত্রাণ সহায়তার দরকার তা থেকে এখনো তাঁরা বঞ্চিত।
বন্যার্তদের জন্য প্রসাশনের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগীতার প্রয়োজন তা তাদের পক্ষ থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না বলে অভিযোগ অত্রাঞ্চলের বন্যার্তদের অনেকের। বন্যার পানি দিন দিন এতই বৃদ্ধি পাচ্ছে যে, অত্রাঞ্চলের বেশিরভাগ বাড়ি-ঘর, রাস্ত-ঘাট, হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যায় শত শত ফিশারীর মাছ পানিতে ভেসে গেছে। আর খামারীসহ অন্যান্য মানুষের গরু-বাছুর নিয়ে থাকার ব্যবস্থা দূরহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অত্রাঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষজন মাথা পেতে কোনো রকমে দূর্যোগের মধ্যে বেঁচে আছেন। এমতাবস্থায় তাদের দূর্ভোগের অন্ত নেই।
এর আগে অকাল বন্যায় হাকালুকি হাওরাঞ্চলের ধান, মাছ ও জলজ প্রাণীসহ অন্যান্য জীব তলিয়ে গিয়ে ও পানি দূষিত হয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন অত্রাঞ্চলের  কৃষকগন। বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় যাদের নৌকা কিংবা কলা গাছের ভেলা আছে তারা কোনো রকমে অন্যত্র যাতায়াত করতে পারলেও, যাদের নেই তাদের কষ্টের অন্ত নেই।
বন্যায় উপজেলার প্রায় সব সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এরপরেও মানুষজন বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য অধিক টাকা খরচ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্য স্থানে চলাচল করছেন। সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, হাকালুকির উত্তাল ঢেউয়ে মানুষজন ঘর-বাড়িতে থাকতে পারছেনা। তারপরও মানুষজন জীবনকে বাজি রেখে মাচার  উপর ঠাঁই নিয়েছে। এছাড়াও যারা বাড়ি-ঘরে থাকতে পারছেনা তারা তাদের গরু-বাছুর ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। বন্যা দূর্গতদের জন্য প্রসাশনিকভাবে যে সংখ্যক আশ্রয় কেন্দ্র ও ত্রাণ সামগ্রী ব্যবস্থা করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম।
 জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিন্টু চৌধূরী বলেন, এমতাবস্থায় বন্যা দূর্গতদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থান দেয়ার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ ও অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি বন্যার্তদের সার্বিক সহযোগিতার ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করিয়েছি।

এই সংবাদটি 443 বার পঠিত হয়েছে