ছাতকে শীতের পিঠা তৈরী ও বিক্রিতে ব্যস্ত পিঠা ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত: ১০:০০ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০১৬

ছাতকে শীতের পিঠা তৈরী ও বিক্রিতে ব্যস্ত পিঠা ব্যবসায়ীরা

ছাতক(সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ
শীতের আগমনী বার্তায় ছাতকে মৌসুমী শীতের পিঠা ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। শীত এলেই এক শ্রেনীর খেটে খাওয়া মানুষ পিঠার ব্যবসায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন রকমের দেশীয় পিঠা তৈরী ও বিক্রি করে তারা। শহরের ফুটফাতে বসে মাটির চুলায় লাকড়ী পুড়িয়ে তারা ঘন্টার পর ঘন্টা পিঠা তৈরী ও বিক্রি করতে দেখা গেছে। পিঠা প্রেমিক মানুষ শীতের পিঠার স্বাদ গ্রহন করতে ফুটপাতের এসব পিঠার দোকানে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন। অনেকেই পিঠার দোকানের চুলার পাশে বসেই গরম-গরম পিঠা খেতে দেখা গেছে। আবার অনেকেই পরিবারে চাহিদা মতো ক্রয় করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া সন্ধ্যার পর ব্যবসায়ী কার্যালয়ে, ক্লাবে, আড্ডায়ও পিঠার আনোয়জন লক্ষ্য করা গেছে। তবে শ্রমজীবি, রিক্সা চালাক, ড্রাইভার, শ্রমিক ও শহরের দোকানীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় খাবার শীতের পিঠা। শীত এলেই শহরের মোড়ে-মোড়ে ফুটপাতে পিঠার দোকান বসে। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও শহর জুরে বেশ কয়েকটি বিঠার দোকান বসতে দেখা গেছে। পিঠা ব্যবসায়ীদের মধ্যে নারী বেশ এগিয়ে রয়েছেন। পিঠা ব্যবসায়ীরা একটিকে বেকারত্ব দুরীকরন ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন অন্য দিকে দেশীয় সংস্কৃতি লালন করে বাঁচিয়ে রাখছেন দেশের ঐতিয্য। প্রাশ্চাত্যের আধুনিকতায় গা ভাসিয়ে শহুরে লোকজন ফিজা, কেক, মোগলাই,ও বিভিন্ন তৈলাক্ত খাবারে মত্ত হয়ে দেশের প্রচলিত চালের গুরা, আটা, ময়দা ও গুরের তৈরী পিঠার কথা অনেকেই ভুলতে বসেছে। এ দিক থেকে বিষয়টি বিবেচনায় আনলে এবং শীতের পিঠা বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পিঠা তৈরী ও বিক্রি করার পরামর্শ দিলে ব্যবসায়ী ও দেশীয় সংস্কৃতি উভয়টাই রক্ষা হবে। শহরের বেশ কয়েকটি পিঠার দোকান ঘুরে দেখা গেছে চালের গুরার সাথে আটা বা ময়দা মিশিয়ে তৈরী করা হচ্ছে ভাপা পিঠা, ডুবা পিঠা, পাঠিসাপটা, গুলগুলি, পুলি পিঠা, চই পিঠা, মেড়া পিঠা ও চিতই পিঠার মতো বিভিন্ন দেশীয় জাতের পিঠা। এসব পিঠার মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল অনুযায়ি বিভিন্ন নাম হয়ে থাকে। শহরের ব্যস্ততম এলাকা তারেক বেবী ষ্ট্যান্ডে সংলগ্ন ফুটপাত পিঠার দোকান খুলেছেন কোর্ট রোড এলাকার বাসিন্দা বাবুল মিয়া। তিনি চালের গুরার সাথে পরিমান মতো লবন মিশিয়ে তৈরী করছেন চিতই পিঠা। ছোট-ছোট আটটি চুলা দিয়ে কয়েল লাখড়ী পুড়িয়ে এ পিঠা ব্যবসায়ী প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পিঠা তৈরী ও বিক্রি করে থাকেন। ক্রেতাদের বসার জন্য চুলার পাড়েই বেঞ্চ রাখা হয়েছে। তৈরী চিতই পিঠার সাথে শিদল চাটনী, ছোট চিংড়ি মাছের ভর্তা, সরষে বাটা ও ধনিয়াপাতা বাটা দিয়ে পরিবেশন করেন বাবুল মিয়া। সন্ধ্যা থেকেই ক্রেতাদের উপছে পড়া ভিড় লেগে থাকে। অনেক সময় পরিবেশনে বিলম্ব হলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে মান-অভিমান ও বাক-বিতন্ডা হলেও পিঠা সংগ্রহে পিছ পা হচ্ছেন না ক্রেতারা। পিঠা ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া জানান, গরমে তিনি বিভিন্ন ব্রান্ডের আইসক্রিম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু শীত মৌসুমের প্রথম থেকেই তিনি চিতই পিঠা বিক্রি করেন। ক্রেতারাও এ পিঠা বেশ পছন্দ ও আগ্রহভরে গ্রহন করছেন তার তৈরী পিঠা। প্রতিদিন সে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার মতো পিঠা বিক্রি করে থাকেন। এতে তার বেশ মুনাফা হয় বলে জানিয়েছেন।

 

এই সংবাদটি 817 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ