স্কয়ার থেকে সিআরপিতে খাদিজা

প্রকাশিত: ৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০১৬

স্কয়ার থেকে সিআরপিতে খাদিজা

সিলেটে ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত খাদিজাকে চিকিৎসার জন্য সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্থদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) আনা হয়েছে।

সোমবার সকালে ১১টা ২০ মিনিটে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিআরপিতে আনা হয়। এসময় খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া ও মা মনোয়ারা বেগমসহ পরিবারের অন্যন্য সদস্যরা তার সঙ্গে ছিলেন।

এখনও ঘোর কাটেনি খাদিজার। চোখে-মুখে বিষাদের ছাপ। এখনও মানুষ দেখলে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। কী যে এক ভয়াবহ বিপদ কাটিয়ে উঠে পৃথিবীর আলো বাতাসে ফিরে এসেছেন তা এখনও তার জানা নেই।

ডান দিকের আঘাতের কারণে বাম দিকের হাত ও পা অবশ হয়ে আছে। আপনি ভাল আছেন? প্রশ্নের জবাবে মাথা নেড়ে উত্তর দিলেন- হ্যাঁ।

তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন বলে জানান খাদিজা।

এ সময় গণমাধ্যম কর্মীদের জটলা তার কেবিনের সামনে। সবাই কথা বলতে চান খাদিজার সঙ্গে।

হঠাৎ কোন প্রশ্নে তিনি কীভাবে নিবেন এ জন্যই মিডিয়ার সামনে একেবারেই কথা বলা নিষেধ- বললেন খাদিজার বাবা।

সাভার সিআরপির ১০৫ নম্বর কেবিনে ভর্তি আছেন তিনি। এখানে আসার পর পরই আধা ঘণ্টার মধ্যেই একটি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে তার প্রাথমিক পরীক্ষা শেষ করা হয়।

সিআরপির নিউরোলোজি বিভাগের প্রধান ডা.সাঈদ উদ্দিন হেলাল জানিয়েছেন খাদিজাকে পুরোপুরি সুস্থ্য করার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব। প্রাথমিকভাবে তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে। সে এখন একটু একটু করে কথা বলতে পারে।

তিনি বলেন, তার জিএসসি নরমাল আছে। তবে হাত পা অবশের কারণে আমাদের তিন মাস সময় লেগে যাবে। আশা করি খাদিজা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন।

খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া জানান, খাদিজার অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো। তিনি সবার কাছে মেয়ের সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজা বেগম পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে ছাত্রলীগের নেতা বদরুল আলমের হাতে হামলার শিকার হন।

মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে প্রথমে খাদিজাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর অচেতন অবস্থায়ই খাদিজাকে ওই দিন রাতে তার স্বজনেরা রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে  ভর্তি করেন।

এই সংবাদটি 567 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ