সাত মাস পর কবর থেকে তরুণীর লাশ উত্তোলন

প্রকাশিত: ১১:৫৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ২০, ২০২৩

সাত মাস পর কবর থেকে তরুণীর লাশ উত্তোলন

রংপুর নগরীতে বর্ষা হোসাইন বর্না (২০) নামের এক তরুণীর মৃত্যুর সাত মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে সিআইডি পুলিশ। সোমবার সকালে রংপুর নগরীর খাসবাগ এলাকার পারিবারিক কবরস্থান থেকে ওই লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য রমেক মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরীর খাসবাগ এলাকার বেলাল হোসেনের মেয়ে বর্ষা হোসাইন বর্না (২০) আউট সোর্সিংয়ের কাজ করত। মা শাহিনা বেগম দুই সন্তান বর্ষা ও বাধন মিয়াকে বাড়িতে রেখে ঢাকা পাসপোর্ট অফিসে আয়ার কাজ করেন। একই এলাকার রিপন মিয়ার ছেলে মো. জিয়াদ হোসেনের সঙ্গে বর্ষার সুসম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে জিয়াদ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন বর্ষার সঙ্গে।

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দৈহিক মেলামেশা করে। একপর্যায়ে বর্ষা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। বিষয়টি জিয়াদ ও তার পরিবারকে জানানো হলে তারা বর্ষাকে পেটের বাচ্চা নষ্ট করতে বলেন। বর্ষা জিয়াদ ও তার পরিবারের লোকজনের কথায় রাজি না হওয়ায় তাদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তারা বিভিন্নভাবে বর্ষাকে নির্যাতন করতে থাকে। বাচ্চা নষ্ট না করলে মরে যাওয়ার কথা বলে নানান ধরনের কটূক্তি করত। পরিবারের কটূক্তি সহ্য করতে না পেরে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর রাতে বর্ষা আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় ইউডি মামলা করা হয়।

পরবর্তীতে রংপুরের নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতে জিয়াদ হোসেনসহ ছয়জনকে আসামি করে মা শাহিনা বেগম মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ছবি বেগম, মনি বেগম, সিরাজউদ্দিন, সাজু মিয়া ও মো. রিফাত।

এদিকে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের স্বার্থে গত ১২ জানুয়ারি আদালত আদেশ দেন পারিবারিক কবরস্থান হতে লাশ উত্তোলন করার জন্য। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে বর্ষা হোসাইন বর্নার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয় তদন্ত করার জন্য।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মালিহা খানমসহ মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার পুলিশ।

এই সংবাদটি 267 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ