ঢাকা |
প্রকাশিত: ১:১৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৮
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
জগন্নাথপুরে বাটোয়ারা দলিল রেজিষ্ট্রির মাধ্যমে এক প্রবাসী পরিবারের প্রায় ৬ লক্ষ টাকা প্রতারনার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের খন্ডকালীন রেজিষ্ট্রার মোঃ ইউনুস । তবে অভিযোগ থাকা সত্বেও সন্ধ্যা রাতে ওয়ারিশান বাদ দিয়ে দলিল রেজিষ্ট্রি করায় পৌর শহরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে । তিনি সিলেটের ওসমানীনগরের তাজপুর রেজিষ্ট্রি অফিসের কর্মরত রেজিষ্ট্রার বলে জানা গেছে। এদিকে ভুমি রেজিষ্ট্রির পর থানা রোড এলাকায় অবস্থিত বাসা ও মার্কেট দখলে চেষ্টা চালানো হলে পুলিশের বাধায় পরিস্থিতি শান্ত হয় ।
জানা যায়, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের ইকড়ছই গ্রামের হাজী ফিরোজ মিয়া বিপুল পরিমান মুল্যবান স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রেখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন । তাঁর তাজ্যবিত্তে উত্তরাধিকারী হিসেবে ১৩ জন ওয়ারিশান এবং জগন্নাথপুর বাজার এলাকায় অবস্থিত বিশাল একটি বাড়ী রেখে যান, যেখানে উক্ত ভুমিতে তাঁর ভাইদেরও যৌথ ঘর-বাড়ী বিদ্যমান রয়েছে । সম্প্রতি হাজী ফিরোজ মিয়ার বড় ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী শামীম আহমদ সহ ৬ জন দেশে আসেন এবং উক্ত সম্পত্তি দেশে অবস্তানরত ভাই হাজী শাহজাহান মিয়াকে বাদ দিয়ে বাটোয়ারা দলিল রেজিষ্ট্রি করতে মরিয়া হয়ে উঠলে হাজী ফিরোজ মিয়ার ভাই আরজু মিয়া ও ছেলে শাহজাহান মিয়া পৃথক পৃথক ভাবে উক্ত বাটোয়ারা দলিলের বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের খন্ডকালীন রেজিষ্ট্রার মো. ইউনুসের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন । কিন্তু আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করে প্রায় ৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ওয়ারিশান শাহজাহান মিয়াকে বাদ দিয়ে গত (১৯ আগষ্ট) রোববার সন্ধ্যারাতে অতি গোপনে উক্ত বিতর্কিত বাটোয়ারা দলিল সম্পাদন করে উৎকোচের টাকা হাতিয়ে তড়িঘড়ি করে অফিস থেকে চম্পট দেন ইউনুস ।
তবে উক্ত টাকা ছাড়াও প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের হেবা দলিল রেজিষ্ট্রিতে বিভিন্ন অজুহাতে আরো অতিরিক্ত টাকা অফিস সহকারী (কেরানী) আব্দুর রহিম সহ অফিস সিন্ডিকেট সদস্যরা আদায় করে বাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে । খন্ডখালীন রেজিষ্ট্রার হিসেবে যোগদান করে প্রথম সাপ্তাহে একটি দলিলের কাগজ পত্র ছিড়ে ফেললে মহরিরদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে এ কাজের জন্য সকলের কাছে তিনি ক্ষমা চান।এর আগে জগন্নাথপুর অফিসের খন্ডখালীন রেজিষ্ট্রার মোঃ ইউনুস দলিল প্রসঙ্গেঁ স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন কোন ওয়ারিশানকে বাদ দিয়ে বাটোয়ারা দলিল রেজিষ্ট্রি করা যায় না। আমার পক্ষে এই দলিল রেজিষ্ট্রি করা সম্ভব নয় । একটি পক্ষ দলিল রেজিষ্ট্রি করতে কয়েকদিন যাবৎ জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আইনের বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই । তবে সবাই যদি সমঝোতায় আসে দলিল রেজিষ্ট্রারী করতে কোন বাধা নেই । সম্পাদিত দলিল থেকে বঞ্চিত ওয়ারিশান হাজী শাহজাহান মিয়া কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন এই দলিল আমাকে অধিকার বঞ্চিত করেছে । আমার পিতা মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত উক্ত সম্পত্তি আমি রক্ষণাবেক্ষণে ছিলাম এখনও আছি । আমার পিতা মৃত্যুর আগে দীর্ঘদিন ব্যয়বহুল চিকিৎসায় অবর্তীর্ন ছিলেন, তখন তারা কেউ খবর পর্যন্ত রাখেনি । তিনি মারা যাওয়ায় এখন তারা সম্পত্তি নিতে দেশে সাবরেজিষ্ট্রার ইউনুসকে ৬ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে রাতের আধারে আমাকে বাদ দিয়ে বাটোয়ারা দলিল সম্পাদন করেছে । দলিল বাতিলের জন্য আমি আদালতের দারস্থ হয়েছি । যৌথ সম্পর্ত্তির আরেক অধিকারী মরহুম ফিরোজ মিয়ার ভাই আরজু মিয়া অভিযোগ করে বলেন আমার ভাইর সাথে আমাদের সম্পর্ত্তি সরজমিনে যৌথ রয়েছে । আমরা তিন ভাইর মধ্যে দুই ভাইয়ের অংশ বাড়িতে থাকা সত্বেও বাবা-চাচাদের জমি বাগ না করে কিভাবে একজনের ওয়ারিশানরা জমি বাটোয়ারা করে । আমি রেজিষ্ট্রি অফিসে অভিযোগ দিয়েছিলাম তার পরও বড় অংকের টাকার বিনিময়ে রেজিষ্ট্রি হয়ে গেল। এই দলিল আমরা ও আমাদের প্রজন্মের জন্য বিপদগামী । এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. লুৎফুর রহমান জানান উক্ত জমি রেজিষ্ট্রারী নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল । রেজিষ্ট্রির পর একপক্ষ থানা রোড এলাকায় বাসা-মার্কেটে দখল নিতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে । পুলিশের হস্তক্ষেপে এখন পরিস্তিতি শান্ত রয়েছে ।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।