গোলায় ধান তুলতে পারলেই এবার ধনী কৃষক

প্রকাশিত: ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০১৮

গোলায় ধান তুলতে পারলেই এবার ধনী কৃষক

কমল মিয়া শাল্লা উপজেলার মনুয়া গ্রামে তার বাড়ি। তিনি ১৫ কেদার জমি রোপন করেছেন ছায়ার হাওরে। এবার ফসল না তুলতে পারলে জমি বিক্রি করে দেশত্যাগী – হবেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেছেন তিনি। কিন্তু কমল মিয়া সিদ্ধান্ত বদলে হাওরে হাওরে ঘুরেন এখন। তার ধান ক্ষেতে বাম্পার ফলন হয়েছে। ২৮ জাতের ১০ কেদার জমি থেকে ১৫০ মন ধান তিনি গোলায় তুলেছেন। এ প্রতিবেদককে তিনি জানালেন পেটের চিন্তা আর নেই। খোরাক উঠে গেছে গোলায়। অবশিষ্ট ক্ষেতে তিনি হীরা ও ২৯ জাতের ধান লাগিয়েছেন। ফসল তুলতে আরো ৭ দিন সময় লাগবে। আশা করছেন ঝড় বৃষ্টি তেমন ক্ষতি করতে পারবে না। এর আগেই ফসল কেটে ফেলতে পারব। পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি মহাখুশী। ধর্মপাশা উপজেলার বংশীকুন্ডা গ্রামের কৃষক এমরান মিয়া তিনি এবার ১০ কেদার ফসল রোপন করেছেন চন্দ্র সোনার হাওরে। প্রায় ২০০ মন ধান গোলায় তুলেছেন তিনি। এ প্রতিবেদককে তিনি হাসতে হাসতে বললেন, গেলবারের দু:খ গুছাতে আল্লাহ এইবার গোলা ভইরা ধান দিলেন। এখন চিন্তা ফিকির বাদ দিয়ে পেঠের শান্তি আইছে।
রহমান মিয়া একজন আদর্শ কৃষক। তার বাড়ি দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরাটিলা গ্রামে। খুব যতœ করে ফসল ফলান তিনি। গেলবার হাওরে বসেই অনেক কেঁদেছেন। ২০ কেদার জমিই যায় পানির নীচে। লজ¦া শরম বাদ দিয়ে ভিজিএফ চাল আনতে লাইনে দাঁড়াতেন তিনি। গরীব হইলে কি যন্ত্রনা তিনি বুঝে আসছেন গতবারে। এই বার তিনি ফসলের মাঠে বসে হাসছেন। হাসতে হাসতে এই প্রতিবেদককে তিনি বলছেন এই বার ফলন বাম্পার। সকল ধানী জমি কেটে গোলায় তুলতে পারলেই ধনী। এই ভাবেই হাওর পাড়ে চলছে ধান কাটার উৎসব। কৃষকের মুখে ফুটছে সূর্যের হাসি। কাঁধে, মাথায় বোঝাই করে মাড়াই শেষে তুলছে গোলায়। কৃষাণীরা দাপরাইয়া তাপরাইয়া বৈশাখী উৎসবে মেতে উঠেছে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে সুপারী পানের বাহারে ঠোঁট লাল। গপ্পসপ্প করেই গোলায় ধান তোলার ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। স্বজনরাও এসে সাহায্য করছেন কাজে। স্কুল, কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোমর বেঁধে লেগেছেন ধান কাটার কাজে। হাওরাঞ্চল ঘুরে না আসলে এ সব আনন্দের মাতম কিছুতে আন্দাজ করার নয়। ২৮ জাতের ধান কাটা শুরু হয়ে এখন শেষের পথে। ২৯ জাতের ধান কাটার ধুম পড়বে এখন হাওরে। আবহাওয়া এখন রয়েছে অনুকুলে। গতবারের চাইতে বৃষ্টিপাতের রেকর্ড অনেক নীচে। গত ১৬ বছরে এতটা নীচে ছিল না এ বক্তব্য পাউবো’র। তবে আবহাওয়া প্রতিকুলে গেলেও এবার ফসল তুলতে পারবে কৃষক। আর ১০/১৫ দিন সময় গেলেই ধান কাটা শেষ। গোলায় ধান উঠে গেলেই ধনী হাওরাঞ্চলের কৃষক। এদিকে ধান কাটার শ্রমিক সংকট দেখা দেয়ায় ধীর গতিতে চলছে ধান কাটার কাজ। জেলা প্রশাসন বালি পাথর মহালের শ্রমিকদের ধান কাটার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু তারা তা মানছেন না। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার সাহা বলেন, ২লাখ ২০ হাজার হেক্টর বোরো ফসলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার বাম্পার ফলনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। আর ক’দিন গেলেই পুরো ফসল গোলায় উঠবে কৃষকের।

এই সংবাদটি 680 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ