ঢাকা |
প্রকাশিত: ৫:৩১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
অর্থনীতি ডেস্ক: স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পেছানোর বিষয়ে চলতি অক্টোবরের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রাজধানী ঢাকায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ইআরএফ ও বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনৈতিক উত্তরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মন্ত্রী জানান, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে ইতিমধ্যে সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোও এতে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। আগামী ২৪ নভেম্বরের নির্ধারিত সময়ের আগেই এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিষ্পত্তি পাওয়া যাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উত্তরণ প্রক্রিয়া তিন বছর পেছানোর কারণ ব্যাখ্যা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন যে অতীতে অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনের চেয়ে রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ ও তড়িৎ উত্তরণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার মতো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি বা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি না করেই এই পথে হাঁটার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে বর্তমান সরকার বাড়তি এই সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে একটি সুনির্দিষ্ট ও সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে। এই কর্মপদ্ধতির রূপরেখা ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছেও উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার এখন বহুমুখী কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাণিজ্য সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি এবং মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। মন্ত্রী জানান, আগামী ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় আট থেকে দশটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ আলোচনার জন্য ইতোমধ্যে প্রধান আলোচক নিয়োগ করা হয়েছে এবং কারিগরি আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। উত্তরণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগেই ইইউর সঙ্গে এই আলোচনা সফলভাবে শেষ করার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট আরসেপে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলেছে এবং এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন পাওয়া গেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে ব্যবসা পরিচালনার দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বর্তমানে একটি নতুন শিল্প কারখানার প্রাথমিক ছাড়পত্র ও নিবন্ধন পেতে দীর্ঘ সময় অপচয় হয়, যা উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করে। এই পরিস্থিতি বদলাতে ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা একক অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের সেবা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা এবং বিভিন্ন লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ ও গ্যাসকূপ খননের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর কাজও সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।