ডিইউজে-বিএফইউজের ইফতার মাহফিলে শেখ হাসিনা : গণমাধ্যমে গঠনমূলক সমালোচনা ও দায়িত্বশীলতাও আশা করি

প্রকাশিত: ১:১৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০১৬

ডিইউজে-বিএফইউজের ইফতার মাহফিলে শেখ হাসিনা : গণমাধ্যমে গঠনমূলক সমালোচনা ও দায়িত্বশীলতাও আশা করি

সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের সমালোচনা করবেন ঠিক আছে। কিন্তু সেটা যেন অসংলগ্ন না হয়। সবার কাছ থেকে এ ব্যাপারে দায়িত্বশীলতাও আশা করি। তিনি গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও মনে করিয়ে দেন।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তবে স্বাধীনতা ভোগের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রতি যে দায়িত্ব রয়েছে সেটাও পালন করতে হবে। টেলিভিশনে রাতের টকশো অনুষ্ঠানের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাতের টকশোতে লাগামছাড়া কথাবার্তা বলা হয়। এখানে নিয়ম মানার কোনো বালাই নেই। অবশ্যই সমালোচনা করবেন, তবে সে সমালোচনা যাতে কল্যাণমূলক হয়, মঙ্গলের জন্য হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে জড়িয়ে বিবিসির একটি প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বলেন, কিছু ভিত্তিহীন খবর প্রচার করা হচ্ছে। বিবিসির মতো আন্তর্জাতিকমানের সংবাদ মাধ্যম এটা করতে পারে না।

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য ও বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিককে সম্প্রতি হত্যার হুমকির প্রসঙ্গে তুলে শেখ হাসিনা বলেন, লন্ডনে একজন বসে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। ব্রিটিশ সরকার কেন তাকে আদর দিয়ে বসিয়ে রেখেছে এবং আশ্রয় দিয়েছে জানি না। সে ওখানে যাওয়ার পর টিউলিপ হুমকি পাচ্ছে। ব্রিটিশ সরকারের দায়িত্ব এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিউলিপকে দেয়া হুমকিতে বলা হয়েছে, ‘তোর নানাকে হত্যা করেছি। তোকে আর তোর মা-খালাকেও হত্যা করব।’ এ হল হুমকির ভাষা। এমন হুমকির পর সেখানে এক ব্রিটিশ এমপিকে হত্যার ঘটনা ঘটল। শুধু টিউলিপ নয়, জয়কেও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআইর এক অফিসারকে কিনে ফেলেছিল জয়কে অপহরণ করে খতম করতে। আর এটা করেছিল বিএনপিরই নেতারা। টিউলিপকে দেয়া হুমকির পর তার বিএনপি নেত্রীর সেই ‘হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ চাই’ হুমকির কথা মনে পড়ে যায় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, হুমকি-ধমকির মধ্য দিয়েই আমাদের চলতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি নেত্রী (খালেদা জিয়া) এর আগে বলেছিলেন যে, তিনি হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ চান। এর অর্থ হল আমাকে উনি খুন করতে চান। বিএনপি নেত্রী আরও বলেছিলেন, আগামী একশ’ বছরে আমি প্রধানমন্ত্রী কেন বিরোধী দলের নেতাও হতে পারব না। এর অর্থও হল, উনি আমাকে জীবনের তরে শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনটি দাবি জানান। দাবিগুলো হচ্ছে- সাংবাদিকদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা করা, নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা ও বাস্তবায়ন ও সমবায় সমিতি শক্তিশালী করা। এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নবম ওয়েজ বোর্ডের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আমি তথ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি। আর আমি তো এখানে এসে এর আগেও আপনাদের বলেছি যে, আপনারা জায়গা খুঁজে বের করেন, আপনারা জায়গা খুঁজে না পেলে আমি কী করব?

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জন্মলগ্ন থেকেই মানুষ হত্যা করা বিএনপির চরিত্র। আন্দোলনের নামে প্রকাশ্যে মানুষ পুড়িয়ে মারার পর এখন গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে। কিন্তু কোনো বাধাই দেশের অগ্রগতি থামাতে পারবে না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, আমরা চাই না জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ এ দেশে চলুক। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের ঠাঁই হবে না। যতই হুমকি-ধমকি দেয়া হোক না কেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলবে, দেশও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ এক এমপিকে হত্যা করা হল, আরেক এমপি টিউলিপকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। এভাবেই দেশে-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে তারা। গুপ্তহত্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হুমকি-ধমকি দিয়ে কোনো লাভ নেই। এখন আর কারও অবিশ্বাস করার কারণ নেই যে, গুপ্তহত্যা সুপরিকল্পিতভাবে হচ্ছে। গুপ্তহত্যা, সন্ত্রাস এগুলোর বিরুদ্ধে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। সোচ্চার হতে হবে সাংবাদিকদেরও।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। স্বাধীনতা ভোগ করা ভালো, কিন্তু সাংবাদিক সমাজেরও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে। সাংবাদিকদের কল্যাণে যা কিছু করা হয়েছে তা আওয়ামী লীগ সরকারই করেছে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের গ্রেফতার না করতে ফৌজদারি আইন সংশোধন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, দুস্থ সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের কোনো সরকার বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিতে সাহস পায়নি। একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই আমরা টিভি চ্যানেল বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়েছি, এতে করে বিপুলসংখ্যক সাংবাদিকসহ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ ও বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো’ এক নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদে আমাদের সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি মেনে কথা বলতে হয়। আর টকশো’তে লাগামছাড়া কথা বলা যায়। আপনারা টকশো’তে সরকারের সমালোচনা অবশ্যই করবেন, ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেবেন, কিন্তু সেই সমালোচনা গঠনমূলক হওয়া উচিত। আপনাদের কথায় যেন সমাজের কল্যাণ হয়, অসংলগ্ন যেন না হয়।

প্রেস ক্লাব সম্পর্কে তিনি বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাব একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি যাতে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে উঠে, দেশী-বিদেশী সাংবাদিকরা যেন প্রেস ক্লাবকে তাকিয়ে দেখেন সেভাবেই গড়ে তুলুন। এ ব্যাপারে সরকার থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

ইফতার অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাফর ওয়াজেদ, মহাসচিব ওমর ফারুক ও ডিইউজের সভাপতি শাবান মাহমুদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী। এছাড়া সিনিয়র সাংবাদিকরা ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।

ইফতার মাহফিলে সাংবাদিক নেতারা সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা এবং আবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত তথ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, আমরাই সাংবাদিকদের জন্য ৭ম ও ৮ম ওয়েজ বোর্ড দিয়েছি। যেহেতু গণমাধ্যম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সেহেতু ৯ম ওয়েজ বোর্ডের জন্য তথ্যমন্ত্রীকে বলব মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন। যথাযথ ব্যবস্থা নিন। আর আবাসনের জন্য সাংবাদিক নেতাদের উপযুক্ত জায়গা বের করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আপনারা জায়গা বের করুন, সরকার অবশ্যই আপনাদের সহযোগিতা করবে। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্রেস ক্লাবকেও দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তুলতে সরকার থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ইফতার মাহফিল শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্রেস ক্লাবে নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে খোলামেলা আলাপচারিতায় মেতে উঠেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অভিজিতের সাক্ষাৎ : বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর উন্নয়ন প্রক্রিয়া জোরদার করার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং যোগাযোগ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো তাদের মধ্যকার বিদ্যমান সুসম্পর্কের উত্তরণ ঘটিয়ে পারস্পরিক উন্নয়ন সাধন করতে পারে। একই সঙ্গে কানেকটিভিটির উন্নয়ন তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রকে আরও সম্প্রসারিত করবে। সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতির পুনরুল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী তৎপরতার জন্য কাউকেই বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হবে না।

বাংলাদেশ সফররত ভারতীয় লোকসভার সদস্য এবং সে দেশের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির ছেলে অভিজিৎ মুখার্জি শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংসদ ভবন কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বৈঠকের বিষয়ে অবহিত করেন।

ভারতের জনতা বাংলাদেশের জনগণ বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভালোবাসেন উল্লেখ করে অভিজিৎ মুখার্জি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের অবস্থান ভারতীয়দের হৃদয়ে। তিনি বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য শুভকামনাও জানান। তিনি বাংলাদেশ সফরকালীন তার প্রতি প্রদর্শিত আন্তরিকতায় মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরিরও ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘সীমান্ত হাট’ স্থাপনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সীমান্ত হাট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের ফলে দু’দেশের চোরাচালান অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আরও অধিক ‘সীমান্ত হাট’ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এতে করে দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিমাণ বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ-ভুটান-ইন্ডিয়া-নেপাল (বিবিআইএন) মোটরযান চলাচল চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ চুক্তির ফলে চুক্তির অন্তর্গত এ অঞ্চলের পারস্পরিকভাবে নির্ভরশীল চারটি দেশই বিভিন্নভাবে লাভবান হবে।

’৭৫-এর ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক অধ্যায়ের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই কাল রাত্রিতে জাতির পিতাকে তার পরিবার-পরিজন এমনকি পরিবারের নারী ও শিশুসহ নির্মম-নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। নিজেকে একজন ভুক্তভোগী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের কেউ কেউ এখনও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ বিষয়ে কথা বলে না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মুহম্মদ ফারুক খান, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এবং মেহজাবিন খালেদ এমপি এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংসদের বাজেট অধিবেশনে অভিজিৎ : সংসদ রিপোর্টার জানান, ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির ছেলে ও লোকসভার কংগ্রেস দলীয় সদস্য অভিজিৎ মুখার্জি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন প্রত্যক্ষ করেছেন। শনিবার সকালে অধিবেশন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই সংসদের অধিবেশন কক্ষের বিদেশী অতিথি গ্যালারিতে আসেন তিনি। এখানে কিছু সময় তিনি বাজেট অধিবেশন প্রত্যক্ষ করেন। তার অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার বিষয়টি ঘোষণা দিয়ে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানান। এ সময় অধিবেশন কক্ষে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর অভিজিৎ মুখার্জি জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে তার সংসদ কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান, হুইপ ইকবালুর রহিম এবং বেগম মাহজাবিন খালেদ এমপি উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের লোকসভার সদস্য অভিজিৎ মুখার্জি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সংস্কৃতি, ভাষা ও আচার-আচরণ এক। দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও প্রসার হলে এর মাধ্যমে দু’দেশের মানুষের সম্পর্কোন্নয়ন ঘটবে। তিনি বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় আরও বেশিসংখ্যক বর্ডার হাট চালু এবং একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সের স্পিকার ও লেবার পার্টির নেতার কাছে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা : বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সের স্পিকার ও লেবার পার্টির নেতার কাছে পাঠানো পৃথক শোকবার্তায় লেবার পার্টির এমপি জো কক্সের হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। হাউস অব কমন্সের স্পিকার জন বেরকাউ এমপির কাছে পাঠানো শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাটলে ও স্পেন’ আসন থেকে নির্বাচিত লেবার পার্টির এমপি মিসেস জো কক্স এমপির দুর্ধর্ষ হত্যাকাণ্ডের সংবাদ শুনে আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে আমি আপনাকে এবং আপনার মাধ্যমে মিসেস জো কক্সের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য এবং দলের ভেতরে ও বাইরে তার বন্ধুবান্ধবের প্রতি আমাদের আন্তরিক এবং গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। লেবার পার্টি থেকে নির্বাচিত এমপি জো কক্স বৃহস্পতিবার ইয়র্কশায়ারে তার নির্বাচনী এলাকার বিরিস্টলে এক ব্যক্তির গুলিবর্ষণ ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন।

এই সংবাদটি 896 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ