রমজানে সব সিএনজি স্টেশন দৈনিক ৭ ঘণ্টা বন্ধের সিদ্ধান্ত ॥ যাত্রীদের দুর্ভোগের আশংকা

প্রকাশিত: ৪:৪৪ অপরাহ্ণ, জুন ৭, ২০১৬

স্টাফ রিপোর্টার : মালিকদের সাথে কোন প্রকার আলোচনা ছাড়াই আজ রোজা শুরুর প্রথম দিন থেকে দেশের সব সিএনজি স্টেশন দৈনিক ৭ ঘণ্টা বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রণালয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে পুরো রমযান মাসে দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্যই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের যোগান বাড়াতে সারা দেশের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো প্রতিদিন ৭ ঘণ্টা করে বন্ধ রাখতে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিবহন সংকটে ঘরমুখো রোজাদার যাত্রীদের দুর্ভোগেরও আশংকা করছেন অনেকে।

বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন এন্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মাসুদ খান গতকাল সোমবার দৈনিক সংগ্রামকে জানান, সারা দেশে আমাদের এসোসিয়েশনের সদস্য মোট ৫৭০টি সিএনজি স্টেশন আছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের মালিকদের সাথে কোন প্রকার আলাপ আলোচনা ছাড়াই এক তরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে। আগের বছরগুলোতে দৈনিক ৫/৬ ঘন্টা করে ষ্টেশন বন্ধ রাখা হতো । এ বছর নতুন করে ৭ ঘণ্টা বন্ধা রাখার সিদ্ধান্তে আমরা মালিকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো।

এদিকে ঢাকা জেলা অটোরিক্সা অটোটেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন জানিয়েছেন সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ঢাকা শহরের ১৪ হাজার সিএনজি চালকরা সমস্যায় পড়বেন। এতে যাত্রীদেরও ভোগান্তি হবে। তিনি আরো জানান, শুধু সিএনজি অটোরিক্সা নয় দেশে প্রাইভেট কার, বাস মিনি বাস ট্রাক মিলিয়ে কয়েক লাখ পরিবহন নিয়মিত সিএনজি ব্যবহার করছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে সব যাত্রীরাই ভোগান্তিতে পড়বে।

গতকাল সোমবার ঢাকায় বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রমজানে সিএনজি স্টেশনগুলো বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রমযান মাসে প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সাত ঘণ্টা দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস বিক্রি বন্ধ থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর রমযান মাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ ভালো থাকবে বলে আশা করছি। রোজায় শতভাগ লোডশেডিংমুক্ত থাকার চেষ্টা করব আমরা।

এদিকে মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রমজান মাসে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ধরা হয়েছে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৮ হাজার মেগাওয়াট। এজন্য ১৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস লাগবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের। এর মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে দৈনিক ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবারাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পেট্রোবাংলা।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দিতে গিয়ে বাসাবাড়িতে গ্যাসের সরবরাহ কমবে কি না- এমন প্রশ্নে জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের সংকট ছাড়া বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছি আমরা। প্রসঙ্গত, সারা বছরই প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা মোট ৫ ঘণ্টা গ্যাস বিক্রি বন্ধ রাখ দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো।

এই সংবাদটি 1140 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ