ঢাকা |
প্রকাশিত: ১:২৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০১৬
খালেদা জিয়া বলেছেন, “আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ভবিষ্যতে যথাসময়ে জাতির সমীপে উপস্থাপন করব।”
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তখনকার মহাজোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যান করেন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফেরানোর দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপি।
এর বদলে ২০১৩ সালের ২০ অক্টোবর একজন ‘সম্মানিত নাগরিকের’ নেতৃত্বে সাবেক ১০ উপদেষ্টাকে নিয়ে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পাল্টা প্রস্তাব দেন তখনকার বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া।
জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিনিধির দূতিয়ালিতেও সে সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমঝোতা হয়নি। শেখ হাসিনা জাতীয় পার্টি ও পুরনো শরিকদের কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় এনে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করেন।
সেই সরকারের অধীনেই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোট হয়। বিএনপি ও শরিকদের বর্জনের মধ্যে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।
ওই নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে বিএনপি-জামায়াত জোট তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে নতুন ভোটের দাবিতে আন্দোলনে যায়। ২০১৫ সালের শুরু থেকে টানা তিন মাসের অবরোধ-হরতালের মধ্যে নাশকতায় প্রাণ যায় অন্তত দুইশ মানুষের।
১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে যোগ হয়। এরপর থেকে নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ শেষে এ সরকারের অধীনেই সপ্তম থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়।
দুটি নির্বাচন এভাবে হওয়ার পর ২০০৬ সালে রাজনৈতিক সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে জরুরি অবস্থা জারির পর সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর এ পদ্ধতির দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
২০১১ সালের ১০ মে এক রায়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। পরের মাসে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলুপ্ত করে সরকার।
শুরু থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের বিরোধিতা করে আসা বিএনপির নেতারা তিন মাসের সেই অবরোধ-হরতালের পর থেকে মাঠের কর্মসূচি থেকে অনেকটা দূরে। অবশ্য এ জন্য তারা ‘আওয়ামী লীগ সরকারের দমননীতিকে’ দায়ী করে থাকেন।
গতবছর ২৫ জুলাই নিজের কার্যালয়ে এক সভায় বিএনপি প্রধান বলেছিলেন, “আমি বলব না, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। যে নামেই হোক একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আমরা দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।”
বিএনপিপন্থি নাগরিক সমাজের একজন নেতা খালেদার এই বক্তব্যকে ‘সংকট থেকে উত্তরণে ম্যাডামের এক কদম অগ্রসর’ হওয়া বলে মন্তব্য করেছিলেন সে সময়।
কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে অধিকাংশ নির্বাচনই বিএনপি বর্জন করেছে। খালেদা জিয়ার ভাষায়, গত কয়েক বছরে এ কমিশনের ‘প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা ও পক্ষপাতমূলক আচরণ’ জনগণকে ‘হতাশ, আস্থাহীন ও ক্ষুব্ধ’ করে তুলেছে।
বর্তমান কমিশনের মেয়াদপূর্তি সামনে রেখে শুক্রবার গুলশানের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিএনপি চেয়ারপারসন। নতুন নির্বাচন কমিশন কীভাবে গঠিত হবে, সেই কমিশনের অধীনে কীভাবে আগামী নির্বাচন হবে- সে বিষয়ে বিএনপির ১৩ দফা প্রস্তাব তিনি সেখানে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা প্রণয়ন বাঞ্ছনীয়।”
বিএনপি চেয়ারপারসন যুক্তি দেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায়’ সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনই ‘যথেষ্ট নয়’।
তার মতে, নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক প্রশাসনিক ও কারিগরি সহযোগিতা দিতে প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘সমর্থন ও সহযোগিতা’ প্রয়োজন। তা না হলে নির্বাচনের ‘বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা’ নিশ্চিত করা যাবে না।
“নির্বাচন কমিশন যাতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রয়োজন,” বলেন তিনি।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।