ভবদহ পাড়ের লাখ লাখ মানুষ মারাত্মক মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে

প্রকাশিত: ৩:৫৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৬

ভবদহ পাড়ের লাখ লাখ মানুষ মারাত্মক মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে

আব্দুর রাজ্জাক রানা, ভবদহ দুর্গত এলাকা থেকে ফিরে : ভবদহ পাড়ের লাখ লাখ মানুষ মারাত্মক মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার প্রায় ৪০০ গ্রামের পানিবন্দি প্রায় সাত লাখ মানুষ মানবতের জীবন যাপন করছে। খাবার, সুপেয় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ফসল, মাছের ঘের, পুকুর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংকট বেড়েই চলেছে। বানভাসি হাজার হাজার পরিবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে রাস্তাসহ প্রায় ২০০টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। অসহায় মানুষ রাস্তার দু’ধারে পলিথিন দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি করে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগীর সঙ্গে বসবাস করছেন। এসব এলাকায় কমপক্ষে ৩০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জলাবদ্ধ হওয়ায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে চারশ’ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই অঞ্চলে স্বাভাবিক যান চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। পানিবন্দী মানুষকে চলাফেরায় চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
একই ঘরে গরু-মানুষের বসবাস : বন্যায় ভবদহ অঞ্চলের দুই শতাধিক গ্রামের লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি। পানিবন্দি এসব মানুষ পাকা রাস্তা ও বেড়িবাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়ে খেয়ে না খেয়ে জীবনযাপন করছেন। এসব পানিবন্দি মানুষের মধ্যে নওয়াপাড়া-কালিবাড়ি পাকা রাস্তায় শত শত পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়াও কেশবপুর পৌর এলাকার পানিবন্দি মানুষ যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের ধারে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা রাস্তার দু’ধারে পলিথিন দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি করে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগীর সঙ্গে বসবাস করছেন।
এলাকা ঘুরে জানা যায়, যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুর বিলের পানি সরে টেকা নদী দিয়ে। টেকা নদীর ভবদহে পানি বের হওয়ার বড় একটি স্লুইচ গেট রয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত পলি জমার কারণে ভবদহ স্লুইচ গেট দিয়েও পানি নামছে না। ফলে এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, উপজেলাগুলোর পাশ দিয়ে প্রবাহিত কপোতাক্ষ, হরি, শ্রীনদী, ভৈরব, মুক্তেশ্বরী নদীগুলো পলি পড়ে ভরাট হওয়ার কারণে পানি উপচে গ্রামের পর গ্রাম ডুবে গেছে।
মণিরামপুরের হাটগাছা গ্রামের বিজয় কৃষ্ণ বৈরাগী বলেন, ‘স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, গরু-ছাগল নিয়ে রাস্তায় বসবাস করছি। এলাকার সবার একই অবস্থা। কতদিন এভাবে রাস্তায় থাকতে হবে জানি না।’ মণিরামপুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সব গ্রামই এখন পানির নিচে। এছাড়াও কেশবপুর পৌর এলাকার ৬টি গ্রাম ও অভয়নগরের বেশ কিছু গ্রাম পানির নিচে।
মণিরামপুরের শ্যামকুড় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি জানান, উপজেলার চারদিকে শুধু পানি আর পানি। কোথাও শুকনো জায়গা নেই। তাই বন্যা দুর্গত মানুষ রাস্তার ওপর আশ্রয় নিয়েছে। তারা গরু-ছাগলের সঙ্গে একই ছাউনির নিচে বসবাস করছে।
ভবদহ সংকটে বন্ধ ৩০২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : যশোরের অভয়নগর, কেশবপুর ও মনিরামপুর উপজেলায় কমপক্ষে ৩০২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিবন্দী হওয়ায় বন্ধ রয়েছে। ভবদহ স্লুইস গেইট পলি জমে বন্ধ থাকায় মুক্তেশ্বরী ও হরি নদীর পানি উপচে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের মনিরামপুর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাওকত হোসেন। তিনি বলেন, অতিবর্ষণের কারণে নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং পলির কারণে স্লুইস গেইট বন্ধ থাকায় প্রায় এক মাস ধরে তিন উপজেলার বিপুল এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে রয়েছে। তিনটি উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য মোতাবেক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও মাদরাসা মিলে কমপক্ষে ৩০২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জলাবদ্ধতার কারণে বন্ধ রয়েছে।
বন্ধ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে-অভয়নগর উপজেলার ২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি কলেজ; মনিরামপুরে ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭টি কলেজ ও ৬টি মাদরাসা; কেশবপুরে ৭৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩০টি মাদরাসা ও ৮টি কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানের মাঠে ও শ্রেণিকক্ষে পানি থাকায় পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান।
অভয়নগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর কবীর বলেন, উপজেলার ২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ও শ্রেণিকক্ষে পানি থাকায় ১৫০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ রয়েছে। একই উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম বলেন, ২৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫ হাজার ও একটি কলেজে ২০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার সরদার বলেন, উপজেলার ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতার কারণে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ রয়েছে। একই উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বলেন, উপজেলায় ৩৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থী, ৭টি কলেজে ১৫০০ ও ৬টি মাদরাসায় ১২০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিরাজুল আরেফিন বলেন, উপজেলায় ৭৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
একই উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, উপজেলার ৪০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী, ৩০টি মাদরাসায় ৫ হাজার ও ৮টি কলেজে ৪ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার অধিকারী বলেন, তিন উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মডেল টেস্ট স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে সমাপনী পরীক্ষায় সমস্যায় না পড়ে সেজন্য অতিরিক্ত পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে। ক্ষতির তালিকা শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। সমস্যা সমাধান বিষয়ে জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবীর বলেন, ইতোমধ্যেই যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পলি অপসারণ করে স্লুইস গেইট খোলার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে : জলাবদ্ধতায় যশোরের ভবদহ অঞ্চলের প্রায় সাড়ে চার শ’ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই অঞ্চলে স্বাভাবিক যান চলাচল বিঘœ হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। জলাবদ্ধ মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বলছে, তাদের প্রায় আড়াইশ’ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে। সওজ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তাদের ১১০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তা থেকে পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে।
জেলা পরিষদ জানিয়েছে, তাদের ১২৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিন উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এসব সড়ক সংস্কারের জন্য ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে শিগগির মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, আনুমানিক দুই থেকে আড়াইশ’ কিলোমিটার পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশনের জন্য বেশির ভাগ এলাকায় পাকা সড়ক কেটে দেয়া হয়েছে। এতে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তবে পানি সরে গেলে ওই সড়ক মেরামত করা হবে। তিনি আরো বলেন, তিন উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। দু-তিন দিনের মধ্যে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ জানানো সম্ভব হবে। তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হবে।
যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দি মানুষের যাতায়াতের সড়ক ব্যবস্থায় নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামের সঙ্গে উপজেলা ও জেলার সংযোগ সড়কের অধিকাংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা।
অভয়নগরের সুন্দলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিল জানান, বন্যার পানিতে সড়কের বেহাল অবস্থা হয়েছে। নওয়াপাড়ায় যাতায়াত করতে গিয়ে বিড়ম্বনার শেষ নেই। খুব কষ্ট করে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
মহিষাহাটি গ্রামের সুবোল সরকার বলেন, পানির কারণে মনিরামপুর-নওয়াপাড়া সড়কে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষ উপজেলা শহরে যাবে তারও কোনো ব্যবস্থা নেই। রাস্তাগুলোর যে অবস্থা হয়েছে তাতে বাইসাইকেল চালিয়ে যাবে সে রকমও অবস্থা নেই। এখন কোনো মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে বিনা চিকিৎসায় তাকে মরতে হবে।
নওয়াপাড়া রাজঘাট এলাকার রফিকুল আলম জানান, সড়কে পানি উঠে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অভয়নগরের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সড়কগুলো সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হবে। অভয়নগর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভবদহ এলাকার নওয়াপাড়া-সুন্দলী সড়কের সাত কিলোমিটার, নওয়াপাড়া-মশিহাটি সড়কের দুই কিলোমিটার, পায়রা-টেকা নদীর এক কিলোমিটার এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের যশোর খুলনা মহাসড়কের চেঙ্গুটিয়া স্থানে আধা কিলোমিটার এলাকা।
এলজিইডি কেশবপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম বলেন, কেশবপুরের অন্তত আট কিলোমিটার পাকা সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরো বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের যশোর-কেশবপুর সড়কের আট কিলোমিটার পানিতে তলিয়ে গেছে।
সওজের যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী ইকবাল জানান, প্রাথমিকভাবে অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার ভবদহ এলাকায় তাদের ১১০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব উপজেলায় পানির চাপ এখন বেশি রয়েছে। পানি কমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ সহজ হবে। তখন বলা যাবে কী পরিমাণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সড়ক সংস্কারকাজ শুরু হবে। তিনি আরো বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমি কয়েকবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। তবে সব এলাকায় যেতে পারিনি। কিছু এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে। পানি না কমলে কিছুই বলা যাবে না। আরো দু-তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে ক্ষতির পরিমাণ জানার জন্য।’
জলাবদ্ধতার জন্য যশোরের দুঃখ বলা হয় ভবদহকে। পলি জমে রুদ্ধ হয়ে আছে এখানের নদী পথগুলো। যা ভবদহ অঞ্চলে আটকে পড়া পানি নিষ্কাশনের বড় বাধা। ফলে প্রতিবছর জলাবদ্ধতার নির্মম যন্ত্রণা সইতে হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষকে।
বছর পেরিয়ে যুগ পেরিয়েছে, এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী কোনো সমাধানে এগিয়ে আসেনি কেউই। ক্ষমতার পালা বদলের সঙ্গে রাজনীতি শুরু হয়েছে ভবদহের মানুষদেরকে নিয়ে। এ দুঃখ কবে সমাধান হবে তাও কেউ বলতে পারে না। এবারও ভবদহে সে দুঃখ দেখা দিয়েছে। ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে ভবদহ অঞ্চলে। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ভবদহের সমস্যা সমাধানের জন্য একেক পক্ষ একেক রকম দাবি তুলে প্রতিদিন সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান করছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ে তাদের এ প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে।
ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে পলি অপসারণ শুরু : যশোরের ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে পলি অপসারণ শুরু হয়েছে। গত সোমবার ওই এলাকায় পলি অপসারণ কাজের উদ্বোধন করেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য। তবে, আপদকালীন হিসেবে এই পলি অপসারণ করে বন্যা কবলিত এলাকার পানি নিষ্কাশন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অভয়নগর, কেশবপুরের হরিহর, ভদ্র ও শ্রীহরি নদীর পলি অপসারণ কাজ এখনো শুরু হয়নি। মঙ্গলবার থেকে ওই এলাকায় পলি অপসারণ কাজ শুরু হয়। গত শুক্রবার রাতে ভবদহ স্লুইচ গেট এলাকায় পলি অপসারণে তিনটি উভচর (এমফিভিয়েন) মেশিন আনা হয়।
যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার প্রায় ৪০০ গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবতের জীবনযাপন করছে। খাবার, সুপেয় পানি, পয়নিষ্কাশন, যোগাযোগ, ফসল, মাছের ঘের, পুকুর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংকট বেড়েই চলেছে। এর ফলে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়। সর্বশান্ত মানুষের হাহাকার নিবারণের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে জনপদের পানি নিষ্কাশন জরুরি বলে মনে করছেন বানভাসিরা। হাজার হাজার পরিবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে রাস্তাসহ প্রায় ২০০টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, ১৯৬১ সালে ভবদহ অঞ্চলে যশোর জেলার মনিরমাপুর উপজেলার আড়পাতা, বিল কপালিয়া, অভয়নগর উপজেলার দামুখালী, ভবানীপুর, দত্তগাতি, বারান্দী, চুমড়ডাঙ্গা ও খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার কাটেঙ্গা, চেঁচুড়ি, বরুণাসহ ৫২ বিলের পানি নিষ্কাশনে স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়। বর্ষা মওসুমে ৫২ বিলের বৃষ্টির পানি ভবদহ স্লুইস গেট দিয়ে নিষ্কাশিত হয়। ১৯৮৬ সালে স্লুইস গেটে পলি জমে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এরপর ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভবদহ অঞ্চলের বিলপাড়ের কুলটিয়া, মশিয়াহাটি, মহিষদিয়া, পোড়াডাঙ্গা, সুজাতপুর, ডুমুরতলা, হাটগাছা, সুন্দলীসহ কয়েক শত গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়ে।
পলি অপসারণ স্থলে উপস্থিত জলাবদ্ধতার শিকার মণিরামপুরের কাটেঙ্গা গ্রামের হাফিজুর রহমান, নজরুল ইসলামসহ অনেকে বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়ার ভদ্রা নদী সংলগ্ন কেওড়াতলা পর্যন্ত পলি অপসারণ করা হলে তাদের বাড়ি-ঘরে জমে থাকা পানি নেমে যাবে।
দত্তাগাতি গ্রামের নিরঞ্জন হালদার বলেন, ড্রেজিং শুরু হয়েছে। কাজটুকু শতভাগ স্বচ্ছতার মধ্যে হলে দুর্গত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
এ ব্যাপারে ভবদহ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মতলেব সরদার বলেন, এটি সাময়িকভাবে বন্যাকবলিত মানুষের উপকারে আসবে। দীর্ঘমেয়াদী সুফল আনায়নে টিআরএম’র বিকল্প নেই।
জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, পলি অপসারণের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এটি স্বল্প মেয়াদী কাজ। এতে বন্যাকবলিত মানুষ সাময়িক উপকৃত হবে। স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম’র বাস্তবায়ন জরুরি। পরবতীতে সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
অপরদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড কেশবপুরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল মোতালেব জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে পলি অপসরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। হরিহর, আপার ভদ্রা, বুড়ি ভৈরব নদের সংযোগ স্থল থেকে দক্ষিণে ৮ কিলোমিটার কাশিমপুরে শ্রীনদীর সংযোগ স্থল পর্যন্ত ড্রেজিং করে পলি অপসরণ করা হবে। এ জন্য একটি ড্রেজিং মেশিন আনা হয়েছে। সেটি প্রস্তুত করা হচ্ছে।
জোয়ারাধার প্রকল্প চালু : ১৯৮১ সালে ভবদহের পাশের কয়েকটি বিলে প্রথম দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। ক্রমান্বয়ে ৫২টি বিলে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে করে ওই বিলের নিম্নাংশে দিকে ফসল ফলাতে ব্যর্থ হয় কৃষক। নিরূপায় হয়ে ১৯৮৮ সালে ডহুরী বিলের বাঁধ কাটা হয়। এরপর ১৯৯০ সালে বিল ডাকাতিয়ার বাঁধ কাটা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে বাঁধ কাটার ধারাবাহিকতায় ভবদহের আগরহাটি-ভায়না বিলের স্থানীয় বাসিন্দারা নদীসংলগ্ন ভায়না বিলের বেড়িবাঁধ কেটে দেয়। এতে নদীর পলিযুক্ত পানি ওই বিলে প্রবেশ করে। আর সেই সঙ্গে বেরিয়ে যায় স্বচ্ছ (মিঠা) পানি। এভাবে পলিতে একদিকে বিল উঁচু হতে থাকে। অন্যদিকে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি পায়। এ কারণে তৎকালীন সরকার ১৯৯৮ সালে নদীর নাব্যতা ঠিক রাখার জন্য প্রথম ওই বিলে জোয়ারাধার প্রকল্প চালু করে।
সূত্র মতে, জোয়ারাধার চলাকালে ওই বিলে কোনো ফসল হবে না। এ জন্য কৃষকদের ফসলের ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পাউবো। ২০০১ সালে পাউবোর ভুল সিদ্ধান্ত, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতির জন্য বিল কেদারিয়ায় গ্রহণ করা জোয়ারাধার ফলপ্রসূ হয়নি। ফলে নদী আবারো ভরাট হতে থাকে। ২০০৫ এবং ২০০৬ সালে ৪ দফা বৃষ্টিতে এলাকায় পুনরায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুই বছর মানবেতর জীবনযাপন করে।
জলাবদ্ধতা দূরীকরণের অংশ হিসেবে ২০০৬ সালে কেশবপুর উপজেলার বিল খুকশিয়ায় তিন বছর মেয়াদী জোয়ারাধার চালু করা হয়। এ প্রকল্প চালু করা হলেও বিলের পাঁচ হাজারের বেশি কৃষক ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হয়। এ সময় বিলে কোনো ফসল হয়নি। কিন্তু ক্ষতিপূরণের আওতায় আনা হয় মাত্র এক হাজার কৃষককে। তালিকাভুক্ত কৃষকের অর্ধেকও ফসলের ক্ষতিপূরণ পাননি। ২০০৮ সালে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা অব্যাহত থাকে।
বিল খুকশিয়ার পর চতুর্থ বিল হিসেবে মনিরামপুর উপজেলার বিল কপালিয়ায় জোয়ারাধার চালুর চেষ্টা চালায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফসলের অগ্রিম ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। টাকাও বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু বিলের বেশিরভাগ কৃষক ক্ষতিপূরণের অগ্রিম টাকা পাওয়ার জন্য আবেদন করেননি। এই অবস্থায় ২০১২ সালের মে মাসে বিল কপালিয়ায় জোয়ারাধার নির্মাণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ওই বছরের ২ জুন জোয়ারাধার নির্মাণের অংশ হিসেবে পেরিফেরিয়াল বাঁধ নির্মাণ করতে গেলে এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে হামলার শিকার হন তৎকালীন হুইপ যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আব্দুল ওহাব, অভয়নগর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ২৬ জন। থেমে যায় জোয়ারাধার প্রকল্প। ফলে পলিতে ভরাট হতে থাকে হরি, শ্রী ও টেকা নদী।
২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিক্ষুব্ধ কৃষকরা গোরসয়ালে হরি নদীর সঙ্গে বিল খুকশিয়ার কাটিং পয়েন্ট বেঁধে দেন। এতে বন্ধ হয়ে যায় বিল খুকশিয়ায় জোয়ারাধার।
ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘদিন ধরে ‘ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসন সংগ্রাম কমিটি’ ও ‘ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি’ আন্দোলন করে আসছে। এ বছরও উদ্ভুত পরিস্থিতিতে দ্রুত পানি সরানো এবং জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ওই দুটি সংগঠন আন্দোলন শুরু করেছে। তারা প্রতিনিয়ত সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, স্মারকলিপি পেশ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে। এসব কর্মসূচি থেকে তারা ভবদহ এলাকাকে ‘দুর্গত’ এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে। আন্দোলনের মুখে যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য রনজিৎ রায় ভবদহ এলাকায় পানি সরানোর জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য ভবদহের মণিরামপুর অঞ্চলকে ‘দুর্গত’ এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়ে যশোর প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন।
ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা কৃষক সংগ্রাম সমিতি যশোর জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক কামরুল হক লিকু বলেন, ‘ভবদহ এলাকায় ব্যাপকভাবে মাছের চাষ তথা ঘের গড়ে ওঠলেও পানি নামার কোনো ব্যবস্থা সেখানে রাখা হয়নি। প্রশাসন এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নির্বিকার। তাই ঘের/মাছ চাষের একটি সুষ্ঠু নীতিমালা করার দাবি দীর্ঘ দিনের। ওয়াপদা ভবদহের স্লুইচ গেটগুলো দিয়ে পানি ওঠা নামার ব্যবস্থা করেনি। ঘের মালিকদের ইচ্ছামত পানি ওঠানো-নামানো হয়। যে কারণে এখানে পানি নিষ্কাশনের কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই। আর এতে করে ভবদহ এলাকায় জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, সমুদ্র থেকে আসা পলিযুক্ত লোনা পানি।’
কৃষক নেতা লিকু বলেন, ‘আইডাব্লিউএম তাদের নকশা বা প্রকল্প প্রস্তাবনায় একই সঙ্গে আপার ভদ্রার বিল বুড়লি (২০১২-১৮), শ্রী-নদীর বিল কপালিয়া (২০১৩-১৯), হামকুরা নদীর মধুগ্রাম বিল (২০১৪-২০) ও গ্যাংরাইল নদীর পাশে বেসিন (২০১৪-২০) তৈরি করে চারটি টিআরএম প্রকল্প প্রস্তাব করে। কিন্তু ওয়াপদাসহ প্রকল্পকারীরা শুধুমাত্র বিল কপালিয়ায় প্রকল্পটি করতে ব্যতিব্যস্ত আছে। যা দ্বারা ভবদহ সমস্যার সমাধান হবে না।’
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বৈকুণ্ঠ বিহারী রায় বলেন, ‘মাত্র ৩৭ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ভবদহের চারপাশের ৬টি উপজেলার ব্যাপক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। যা ২০০৫ ও ২০০৬ সালের মতই ভয়াবহ। দেখা দিয়েছে মানবিক বিপর্যয়। বাড়িতে পানি ঢোকায় মানুষ অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে পড়েছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে মানুষ উঁচুস্থানে আশ্রয় নিয়েছে।আমরা আন্দোলন করছি। সমাবেশ করে এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করার জন্য ডিসি মহোদয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছি। শিগগিরই পানি সরানোর ব্যবস্থা না করলে ভুক্তভোগীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।’
ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম সরদার বলেন, ‘ওয়াপদার প্রতি এলাকার মানুষের কোনো আস্থা নাই। তারা বলে তিন বছরের প্রকল্প আর বাস্তবে কাগজে বলে ৭ বছর। তারা বলে ফসলের ক্ষতিপূরণের জন্য ফরম পূরণ করতে আর সেখানে লেখা থাকে ভূমি অধিগ্রহণের কথা। ফলে জমি হারানো আশঙ্কায় কেউ আর ও মুখো হয় না। চলতি বছর প্রায় গোটা সময়ই ভবদহের সকল স্লুইচগেটগুলো বন্ধ রেখে ওয়াপদা পরিকল্পিতভাবেই জলাবদ্ধতা বাড়িয়েছে।’
ভবদহ সংগ্রাম কমিটির নেহালপুরের আহ্বায়ক বালিধার মোবারক বলেন, ‘ভবদহের জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ জোয়ারে আসা পলি। এ পলি উপকূলীয় এলাকা দিয়ে উপরের দিকে এসেই তো ভবদহের গেটের সংলগ্ন নদীকে ভরাট করছে। তাহলে নিচের দিকের বিলগুলোতে কেন টিআরএম করা হয়নি। শুনেছি বিল বুরুলিতে ও গ্যাংরাইলে টিআরএম করার কথা ছিল কিন্তু ওয়াপদা সে দিকে যাচ্ছে না কেন?
পানি উন্নয়ন বোর্ড, খুলনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যশোর পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেল) প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, ‘ভবদহ অঞ্চলের বর্তমান অবস্থা খুবই ভয়াবহ। স্থানীয়দের বিরোধিতার কারণে বিল কপালিয়ায় জোয়ারাধার চালু করা যায়নি। প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে নদীর বুক উঁচু হয়ে বৃষ্টির পানি নদী দিয়ে বের হতে না পারায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তা নিরসনে আমরা স্বল্প মেয়াদের জন্য ভবদহের একুশ স্লুইস গেট থেকে শোলগাতি পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার নদীর মাঝ বরাবর ১০ থেকে ১৫ ফুট চ্যানেল খনন করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি। তা অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। আশা করছি দ্রুত কাজ শুরু হবে।’

এই সংবাদটি 750 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ