আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) পদ্ধতি জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধন করেসিম কার্ড বিক্রির অভিযোগে ২১ জন আটক

প্রকাশিত: ১:২৯ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০১৬

আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) পদ্ধতি জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধন করেসিম কার্ড বিক্রির অভিযোগে ২১ জন আটক

ডেক্স রিপোর্ট : আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) পদ্ধতি জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধন করে মুঠোফোনের সিম কার্ড বিক্রির অভিযোগে ২১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সিম (সাবস্ক্রাইবার আইডেনটিটি মডিউল) উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় গত মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এঁদের আটক করে পুলিশ।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা মুঠোফোন অপারেটর এয়ারটেলের কর্মকর্তা-কর্মচারী বলে পুলিশ দাবি করলেও এয়ারটেল কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে। এয়ারটেল বলছে, আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মো. ওয়াহিদ প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কর্মী। আর মমিন মিয়া এয়ারটেলের তালিকাভুক্ত পরিবেশক। বাকি সবাই মমিন মিয়ার অধীনে কাজ করেন।
তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার জ্যেষ্ঠ গবেষক আবু সাঈদ খান বলেন, ‘বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনের পুরো প্রক্রিয়াটি সরকারের একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনে কেউ যদি জালিয়াতির আশ্রয় নেয়, তাহলে তার শাস্তি কী হবে, সে বিষয়ে টেলিযোগাযোগ আইনের আওতায় একটি বিধি প্রণয়ন করে সেটির ব্যাপক প্রচারণা চালানো দরকার।’
গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত এয়ারটেলের ব্যবস্থাপক মো. ওয়াহিদ, পরিবেশক মমিন মিয়া ও শফিকুল ইসলামকে টেলিযোগাযোগ আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সিম নিবন্ধনের সময় প্রত্যেক গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করে তিন থেকে পাঁচবার করে আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়েছিল। এসব আঙুলের ছাপ জালিয়াতি করে সিম কার্ড নিবন্ধন করে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিক্রি করে আসছিলেন।
গতকাল বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, মোহাম্মদপুর থানায় করা একটি ছিনতাইয়ের মামলা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, আঙুলের ছাপ জালিয়াতি করে সিম বেচাকেনা হচ্ছে। এক নারীর নামে নিবন্ধন করা একটি সিম পাওয়া যায় এক ছিনতাইকারীর কাছে। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, ওই নারীর আঙুলের ছাপ জালিয়াতির মাধ্যমে সিমটি নিবন্ধন করা হয়েছে। অনুসন্ধানে এ রকম আরও শত শত গ্রাহকের জাল সিম বিক্রির সন্ধান পায় পুলিশ। এর কল তালিকা (সিডিআর) এখন পুলিশের হাতে। জালিয়াতি করা সিম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে পুলিশ দাবি করে।
প্রথম আলোর কাছে পাঠানো এয়ারটেলের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় এয়ারটেল নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিমালা মেনে চলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে এয়ারটেল এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সহায়তা করছে।
বিটিআরসির পরিচালক লে. কর্নেল সুফি মোহাম্মদ মইনউদ্দিন বলেন, জালিয়াতি করা সিমগুলো নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হবে। ওই কোম্পানি ছাড়াও অন্য মুঠোফোন কোম্পানি সিম কার্ড জালিয়াতি করে থাকলে তা-ও খুঁজে বের করে নিষ্ক্রিয় করা হবে।

সূত্র : প্রথম আলো

এই সংবাদটি 840 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ