মেয়েকে উত্ত্যক্ত করায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় আমার ভাই **নার্গিসের বাবা মাসুক মিয়া

প্রকাশিত: ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০১৬

মেয়েকে উত্ত্যক্ত করায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় আমার ভাই **নার্গিসের বাবা মাসুক মিয়া

‘এই ঘটনার পরেই আমি জানতে পারি বদরুল আমার বাড়িতে লজিং ছিল। তবে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় আমার ভাই আব্দুল কুদ্দুস। এখন তো দেখছি আমার বাড়িতে বিষাক্ত সাপ হয়ে ঢুকেছিল বদরুল।’

এসব কথা বলেন সিলেটের কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসের সৌদিপ্রবাসী বাবা মাসুক মিয়া।

মেয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে খাদিজার বাবা বলেন, আমার জীবনের বেশির ভাগ সময় প্রবাসে কাটিয়েছি। শুধু সন্তানদের মানুষ করব সেটাই ভেবেছি।

তিনি বলেন, সন্তান জন্ম দেয়া, তাকে লালন-পালন করা কত কষ্টের। এই সব কষ্টকে আরো বিষাদময় করে তুলে সন্ত্রাসীদের হামলা। আমার মেয়ের মতো কেউ যেন এমন ঘটনার শিকার আর না হয়।

বৃহস্পতিবার  সকালে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন তিনি। সেখান থেকে সরাসরি যান স্কয়ার হাসপাতালে মেয়ের শয্যাপাশে।

তিনি দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছার পর মেয়ের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকালে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিসের ওপর হামলা চালায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শেষবর্ষের ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল আলম।

এ সময় সে চাপাতি দিয়ে খাদিজার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপাতে থাকে। এতে খাদিজা মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাত পান।

পরে খাদিজার সহপাঠী ও স্থানীয়রা ধাওয়া করে বদরুলকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।

একই সঙ্গে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়।

অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার ভোরে খাদিজাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আরেক দফা তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়।

বর্তমানে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা খাদিজাকে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখে অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন।

এই সংবাদটি 483 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ