পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত: সারা দেশে ১১ হাজার ৬শ’ ৮৪ জন গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৪:০২ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০১৬

স্টাফ রিপোর্টার : জঙ্গি ও সন্ত্রাসী দমনের লক্ষ্যে সারা দেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পঞ্চম দিনে ৩ হাজার ১১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে ২৬ জনকে। এ নিয়ে পাঁচদিনে গ্রেফতার হয়েছে ১১ হাজার ৬৮৪ জন। যার মধ্যে জঙ্গি সন্দেহে রয়েছে ১৪৫ জন।

পুলিশ সদর দফতরের তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহছান এ তথ্য জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে সারা দেশে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে পুলিশ। গতকাল অভিযানের পঞ্চম দিন ছিল। বৃহস্পতিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত সাঁড়াশি অভিযানে ৮ হাজার ৫৬৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়, যার মধ্যে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয় ১১৯ জনকে। পুলিশের পাঠানো বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথম দিনে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার ৩৭ জনের মধ্যে ২৭ জন জেএমবি ও জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশের ( জেএমজেবি) সাতজন রয়েছে। বাকি তিনজনের পরিচয় সম্পর্কে জানায়নি পুলিশ সদর দফতার।

ওই দিন গ্রেফতার হওয়া আসামীদের মধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ১ হাজার ৮৬১ জন, নিয়মিত মামলার ৯১৭ জন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার মামলার ১৯ জন ও মাদক উদ্ধার মামলার ৩৫৮ জন রয়েছে। দ্বিতীয় দিনে গ্রেফতারকৃত জঙ্গি ছাড়া অন্যদের মধ্যে ১ হাজার ৪৯৬ জন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামী। আর নিয়মিত মামলার আসামী ৫৮৮ জন। তৃতীয় দিনের অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত ২ হাজার ৫৭৮ জন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার মামলায় ১৯ জন, মাদক উদ্ধার মামলায় ১৬০ জন ও অন্যান্য মামলায় ৪৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পঞ্চম দিনের অভিযানে জঙ্গি ছাড়া পরোয়ানাভুক্ত ২ হাজার ৩৬৮ জন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার মামলায় ৩৮ জন, মাদক উদ্ধার মামলায় ২৯৫ জন ও অন্যান্য মামলায় ৩৮৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সম্প্রতি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের হাতে কয়েকজন খুন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে সারা দেশে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান শুর হয়। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী বলছে, জঙ্গি গ্রেফতারের নামে সাঁড়াশি অভিযানে মূলত তাদের নেতাকর্মীদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে। অবশ্য পুলিশের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

খুলনা অফিস: জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে চলমান বিশেষ অভিযানে সোমবার থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্তÍ ২৪ ঘন্টায় জামায়াতসহ ৯৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে জেলায় ৬২ এবং মহানগরে ৩৭ জন রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জামায়াত-শিবির, বিএনপির নেতাকর্মীসহ চরমপন্থী, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, ইয়াবা বিক্রেতারা রয়েছেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) মুখপত্র সহকারী পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঠু জানান, খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীসহ ৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন- যশোর জেলার মনিরামপুর থানা জামায়াত নেতা মোসাদ্দেক হোসেন, জামায়াত নেতা ইয়াহিয়া খান, শিবির সদস্য রুহিন হাওলাদার ও রফিন সরদার। এছাড়া পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ওহিদুল শিকদার ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী শংকর কুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অপরদিকে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ওয়াচ) আব্দুর রশিদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার ৯ থানায় ৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে । এর মধ্যে জামায়াতের ৮ জন এবং একজন বিএনপি নেতা রয়েছেন।

এদিকে জঙ্গি বিরোধী অভিযানের নামে সারা দেশে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাইকারি হারে গ্রেফতার, মিথ্যা মামলায় আটক দেখানো, অর্থ বাণিজ্যসহ পবিত্র মাহে রমযান ও ঈদের পূর্বে সাধারণ মানুষকে ব্যাপক হারে হয়রানি করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খুলনা জেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ।

বগুড়া অফিস: বগুড়ায় জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে এক জেএমবি সদস্যসহ আরও ৯৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের ৬ নেতাকর্মী রয়েছেন। সোমবার ভোর ৬টা হতে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় জেলার ১২টি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের দায়িত্ব প্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) গাজিউর রহমান জানান, চলমান সাঁড়াশি অভিযানে মোখলেছুর রহমান (৪৫) নামের আরও এক জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে জেলার গাবতলী উপজেলার নিশিন্দারা পাঁচমাইল গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে।

পাবনা সংবাদদাতা : পাবনায় সাঁড়াশি অভিযানে জেলার ৯ উপজেলার ১১ থানা পুলিশ সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে বিএনপি, জামায়াত-শিবির কর্মী-সমর্থকসহ বিভিন্ন মামলার ৮১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এদের মধ্যে নেই কোন জঙ্গি।

ডি আই-১ আহসানুল হক জানান, পাবনা সদর ১১, সুজানগরে ৬, আটঘরিয়ায় ৫, বেড়ায় ৫, সাঁথিয়ায় ১০, আতাইকুলায় ৫, আমিনপুরে ৭, ঈশ্বরদীতে ১২, চাটমোহরে ১১, ভাঙ্গুড়ায় ৩ ও ফরিদপুরে ৬ জনকে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়। এদের মধ্যে ৯ জন বিএনপি ও জামায়াত-শিবির কর্মী রয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামী। তবে এদের মধ্যে একজনও জঙ্গি হিসেবে চি‎িহ্নত করা সম্ভব হয়নি। গ্রেফতারকৃতদের দুপুরে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।

দিনাজপুর অফিস ॥ দিনাজপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানের চতুর্থ দফায় নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্যসহ ৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। গত সোমবার থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলার ১৩ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে এদের আটক করা হয়।

দিনাজপুর পুলিশ সুপার মোঃ রুহুল আমিন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোট ৭০ জনকে আটক করেছে। এদের মধ্যে জেএমবির এক সদস্যও রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া পুলিশের বিশেষ অভিযানে দিনাজপুরে প্রথম দফায় ১০০ জন, দ্বিতীয় দফায় ৬৫ জন এবং তৃতীয় দফায় ৬৩ জনকে আটক করা হয়। গত ৪ দিনে মোট ২৯৮ জনকে গ্রেফতার করা হল।

নাটোর সংবাদদাতা : পুলিশী অভিযানে নাটোর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তিন জামায়াত ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীসহ ৬৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতরাতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় নিয়মিত মামলা ও ওয়ারেন্ট রয়েছে। নাটোরের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুখার্জী জানান, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাজিম উদ্দিন ও শিবির কর্মী মাসুদ রানাসহ ৬৩জনকে গ্রেফতার করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে নিয়মিত মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী রয়েছে। এছাড়াও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না নিয়ে সড়কে মোটরসাইকেল চলাচলকারীদের তল্লাশি করা হয়। এ সময় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ৫৩টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। চলতি এই অভিযানে নাটোরে এ পর্যন্ত ২২১জনকে আটক করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সংবাদদাতাঃ দেশব্যাপী জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে সাঁড়াশি অভিযানের চতুর্থ দিনে সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ৪৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ও জামায়াত-শিবিরের নয়জন কর্মীসহ একজন জেএমবি সদস্য রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। জেএমবি সদস্য কলারোয়া উপজেলা রাজপুর গ্রামের সোলাইমান সরদারের ছেলে হাসানুজ্জামান। আটককৃতদের মধ্যে, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১৮ জন, কলারোয় থানা থেকে ৬ জন, তালা থানা ৩ জন, কালিগঞ্জ থানা ৪ জন, শ্যামনগর থানা ৫ জন, আশাশুনি থানা ৪ জন, দেবহাটা থানা ৪ জন এবং পাটকেলঘাটা থানা থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআইওয়ান মিজানুর রহমান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে থানায় মামলা রয়েছে।

নীলফামারীতে জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশের বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে একজন জামায়াত কর্মীসহ ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত সোমবার রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত জেলার ৬ উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গত ৫ দিনে জেলা থেকে ৮৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নীলফামারী পুলিশের কন্ট্রোল রুম সূত্র মতে, বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানের পঞ্চম দিন জেলার ছয় উপজেলার মধ্যে নীলফামারী সদর উপজেলায় ৮ জন, জলঢাকা উপজেলায় ১ জন, ডোমার উপজেলায় ৪ জন, ডিমলা উপজেলায় ১ জামায়াতকর্মীসহ ২ জন, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৩ জন এবং সৈয়দপুর উপজেলায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আদালতের ওয়ারেন্ট এবং নাশকতার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মারুফ হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, বিশেষ এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের চৌগাছায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে তিন শিক্ষকসহ পাঁচ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুর থেকে রাত অবধি এসব লোককে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের শওকত আলীর ছেলে ও সৈয়দপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাও. শরিফুল ইসলাম (৪৫), পুড়াহুদা গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে ও রোস্তমপুর আরপিইউ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক আব্দুল লতিফ (৪৬), শাহাজাদপুর গ্রামের লুৎফর মেম্বরের ছেলে ধুলিয়ানি ইউনিয়নের ম্যারেজ রেজিস্টার ও আটুলিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাও. ইকবল হুসাইন (৪০),পাশাপোল গ্রামের মৃত আশারোফ গোলদারের ছেলে ডেকোরেটর ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম (৩৫)ও নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে মকবুল হোসেন (৫৫)। চৌগাছা থানার ওসি মসিউর রহমান তাদের আটকের সত্যতা স্বীকার করে বলেন আজ মঙ্গলবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন তাদের নামে কোন মামলা ছিলনা সন্দেহজনক হিসেবে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ায় জামায়াতের ৩ নেতা-কর্মীসহ ৩৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সেই সাথে ইমরান হোসেন নামে এক জঙ্গি সদস্যকে আটক করেছে। কুষ্টিয়ায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে গত সোমবার রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত জেলার ৬টি থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করে। আটক জঙ্গি সদস্য ইমরান হোসেন শহরের বড় বাজার এলাকার নওশের আলীর ছেলে বলে জানায় পুলিশ। আটককৃত অন্যদের মধ্যে জামায়াতের রুকন মিরপুর উপজেলার ধলসা পয়ারী মাদরাসার সুপার মাওলানা আজিজুর রহমান, জামায়াতের সদর থানা শাখার অফিস সহকারী ইসমাঈল হোসেন, কর্মী সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক।

এ বিষয়ে জামায়াতের জেলা আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একে এম আলী মুহসীন জানান, পুলিশের অভিযানে বিগত কয়েকদিনে জামায়াতের ৩৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন জানান, আটকদের সবাইকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা : ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১১০ জনকে আটক করেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

এদের মধ্যে বাংলা ভাইয়ের সহযোগী গরীবুল্লাহ আকন্দসহ দুই জেএমবি সদস্য রয়েছে বলে দাবি পুলিশের। অন্য আরেকজন জেএমবি সদস্য হলেন মারুফ মো. ইছহাক।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায়, সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে জেএমবি সদস্য সন্দেহে জেলা সদর থেকে হালুয়াঘাট উপজেলার রুস্তমপুর গ্রামের মো. ইছহাককে আটক করা হয়েছে। ইসহাকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।

অন্যদিকে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ জানায়, রাত ১টার দিকে মুক্তাগাছার বিন্নাকুড়ি গ্রাম থেকে গরীবুল্লাহ আকন্দ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। গরীবুল্লাহ আকন্দ একসময় বাংলা ভাইয়ের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। তার বিরুদ্ধে মুক্তাগাছা থানায় হত্যা, ডাকাতি, জরুরি বিধিমালা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে চারটি মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। এছাড়া ১২ ঘণ্টার অভিযানে ময়মনসিংহ জেলা থেকে আটক বাকি ১০৮ জন বিভিন্ন মামলার আসামি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা : জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সাতক্ষীরায় জামায়াতের ৯ কর্মী, জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) এক সদস্যসহ ৪৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত জেলার সাত উপজেলার আটটি থানায় এই অভিযান চালানো হয়। আটককৃতদের মধ্যে, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১৮ জন, কলারোয় থানা থেকে ৬ জন, তালা থানা ৩ জন, কালিগঞ্জ থানা ৪ জন, শ্যামনগর থানা ৫ জন, আশাশুনি থানা ৪ জন, দেবহাটা থানা ৪ জন এবং পাটকেলঘাটা থানা থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।এ নিয়ে গত পাঁচদিনে সাতক্ষীরায় ২১৭ জনকে গ্রেফতার করা হলো। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্য মো. হাসানুজ্জামান সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার রাজপুর গ্রামের সোলায়মান সরদারের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকায় মামলা আছে। কলারোয়া থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। মিজানুর আরো জানান, গ্রেফতারকৃত অন্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নাশকতা ও বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসের মামলা রয়েছে।

কাহালু (বগুড়া) সংবাদদাতা : কাহালু থানা পুলিশ গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের বিবির পুকুর বাজার এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হতে ওয়েদনুর (৫২) নামক এক জামায়াত কর্মীকে আটক করে। আটক ওয়েদনুর শিলকওঁর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর পুত্র। পুলিশ তাকে কাহালু থানার একটি নাশকতা মামলায় সন্দেহ ভাজন আসামী হিসেবে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

যশো সংবাদদাতা : যশোরের ৯টি উপজেলায় পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীসহ ৮৭ জনকে আটক করেছে। যশোর পুলিশের এএসপি ‘ক’ সার্কেল ভাস্কর সাহা জানান সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত চলা এই অভিযানে জামায়াতের ২০, বিএনপির ৪ জনসহ এবং দুই জন জঙ্গিসহ মোট ৮৭ জনকে আটক হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

এই সংবাদটি 547 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ