পিতৃহীন শিশু নাঈমকে নির্যাতনকারীরা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে

প্রকাশিত: ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৯, ২০১৬

পিতৃহীন শিশু নাঈমকে নির্যাতনকারীরা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে

বিশেষ প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের রাজনগরের চাঁন্দভাগ এলাকার পিতৃহীন শিশু নাঈম মিয়া (৯) কে মোবাইল চুরির অভিযোগে নির্যাতনকারী হাদিছ মিয়া গংদের এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। নির্যাতনকারীরা গ্রেফতার না হওয়ায় পুরুষহীন নির্যাযিত পরিবারের সদস্যরা এবং বিশেষ করে মামলার বাদী নাঈম মিয়ার মা রুনা বেগম চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এদিকে নির্যাতনের শিকার পিতৃহীন শিশু নাঈম মিয়া চিকিৎসা শেষে নিজ বাড়ীতে এলেও আতংকে দিন কাটাচ্ছে। এখনো সে তাকে নির্যাতনের দৃশ্য ভুলতে পারছে না এবং ঘর থেকেও বের হতে ভয় পাচ্ছে। এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজনগর থানার এসআই মোঃ আজিজুর রহমান জানান, মামলার পর থেকে তিনি আসামীদের ধরতে তাদের বাড়ীতে ২/৩ দিন অভিযান চালিয়েছেন। আসামীদের ধরতে পারেনি এবং খুব তাড়াতাড়ি আটক করতে পারবেন বলে জানান। এদিকে জানতে চাইলে হাদিছ মিয়াকে না পেয়ে তার ভাই ওয়াদুধ মিয়া জানান, মোবাইল চুরির জন্য নাঈম মিয়া কে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আনা হয়েছে। তবে তাদের পক্ষ থেকে নির্যাতনে অভিযোগ অস্বিকার করেন। ৮ ডিসেম্বর বৃহষ্পতিবার ঘটনাস্থল রাজনগর উপজেলার ২নং উত্তরভাগ ইউনিয়নের চাঁন্দভাগ গ্রামে সরেজমিন গেলে স্থানীয় বিশিষ্ট প্রবীন মুরব্বী সায়েস্তা মিয়া ও আব্দুর রব জানান, নির্যাতনকারী হাদিছ মিয়ার পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় একের পর এক অন্যায় কাজ করে যাচ্ছে। ওই পরিবারটি বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে।
মামলারবাদী নির্যাযিত শিশু নাঈম মিয়ার মা রুনা বেগম জানান, ২ ডিসেম্বর শুক্রবার তার শিশু পুত্র নাঈম মিয়াকে সন্ধায় ৭টায় ধামাইপার বাজারে যাওয়ার চা*ন্দভাগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামন থেকে প্রতিবেশী মৃত ছন্দর মিয়ার পুত্র হাদিছ মিয়া ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে মোবাইল চুরির অভিযোগে হাত পা বেধে মারপিটসহ বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করা হয়। তার ছেলেকে নির্যাতনে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও নির্যাতন করা হয় এবং তার সাথে মোবাইল ও স্বর্ণের চেইন চিনিয়ে নিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। পরে তিনি স্থানীয় মুরব্বীদের জানালে তারাও তার ছেলেকে নির্যাতনকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি। পরে রাত ১২ দিকে রাজনগর থানার এসআই মো: আজিজুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নাঈম মিয় কে আসামীদের বাড়ী থেকে উদ্ধার করেন। এ ঘটানায় রুনা বেগম রাজনগর থানায় মৃত ছন্দর মিয়ার পুত্র হাদিছ মিয়া ও আজিদ মিয়া, হাদিছ মিয়ার পুত্র কাওছার মিয়া ও শহীদ মিয়ার পুত্র ছুফিয়ান মিয়াকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। তবে তিনি জানান প্রায় এক সাপ্তাহ হলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামী আটক না হওয়ায় তিনি তার পরিবার নিয়ে আতংকে আছেন। এদিকে জানতে চাইলে হাদিছ মিয়াকে না পেয়ে তার ভাই ওয়াদুদ জানান, মোবাইল চুরির জন্য নাঈম মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আনা হয়েছে। তবে তাদের পক্ষ থেকে নির্যাতনে অভিযোগ অস্বীকার করেন।

sc09/remail/kulaura/m/09.12.16

এই সংবাদটি 449 বার পঠিত হয়েছে