ঢাকা |
প্রকাশিত: ৩:০৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৬
ডেক্স রিপোর্ট: উত্তরা থেকে মতিঝিল মাত্র ৩৭ মিনিটে! অলিক এই স্বপ্ন সফল হবে ২০১৯ সাল থেকেই। দেশের প্রথম মেট্রোরেল অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (মেট্রোরেল)-এর নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি তৈরি হলে প্রতি ঘণ্টায় উভয়দিকে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকবে। আজ রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর প্রথম অংশের (উত্তরা-আগারগাঁও) নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করবেন। শুধু এ রুটেই নয় আরও দুটি নতুন রুটে মেট্রোরেল চালুর প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, উত্তরায় রাজউকের প্রায় ৫৯ একর জমিতে মেট্রোরেল ডিপোর ভূমি উন্নয়নের কাজ চলছে। দিয়াবাড়ি খালের দুই পাশে বিরাণ ভূমি। খালের ওপর একটি সেতু। এর উত্তর পাশে কয়েকদিন ধরে জোরেশোরে চলছে নির্মাণ কাজ। ৫৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কাজ পেয়েছে টোকিং কনস্ট্রাকশন। তাদেরই এ দেশীয় সহযোগী সিনাম ইঞ্জিনিয়ারিং। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৮ সালে শেষ হবে ডিপো নির্মাণের কাজ। একই সময়ে চলবে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল রুট নির্মাণের কাজ। আটটি প্যাকেজে ভাগ করে হচ্ছে দেশের প্রথম মেট্রোরেলের (এমআরটি-৬) কাজ।
মেট্রোরেলের রুট উত্তরা তৃতীয় পর্যায় থেকে শুরু হয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত। কিন্তু প্রথম পর্যায়ে ২০১৯ সালের মধ্যে আগারগাঁও পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার বাণিজ্যিক চলাচল শুরু হবে। এ অংশেরই কাজের আনুষ্ঠানিক শুরু হবে আজ। আর ২০২০ সালের মধ্যে মতিঝিল পর্যন্ত বাকি অংশ মেট্রোরেল নির্মাণ কাজ শেষ হবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেট্রোরেল তৈরির মাধ্য দিয়ে ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশ্বমানে উন্নীত হওয়ায় যানজট কমে যাবে। একই সঙ্গে নিরাপদ, দ্রুত, ব্যয় সাশ্রয়ী, পরিবেশ বান্ধব ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তিসমৃদ্ধ গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
উত্তরায় ৩শ’ ফুট চওড়া সোনারগাঁও জনপথ সড়ক। এর শেষ মাথায় উত্তরা থার্ডপেজ প্রকল্পের পাশেই ডিপোর ভূমি উন্নয়নের কাজ চলছে। ৫৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কাজ পেয়েছে টোকিং কনস্ট্রাকশন। তাদেরই এ দেশীয় সহযোগী সিনাম ইঞ্জিনিয়ারিং। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৮ সালে শেষ হবে ডিপো নির্মাণের কাজ। একই সময়ে চলবে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল রুট নির্মাণের কাজ। আটটি প্যাকেজে ভাগ করে হচ্ছে দেশের প্রথম মেট্রোরেলের (এমআরটি-৬) কাজ।
জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের ৯টি স্টেশন থাকবে। স্টার্ট পয়েন্ট মেট্রো ডিপো থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথমে উত্তরা নর্থ, এরপর পর্যায়ক্রমে উত্তরা সেন্টার, উত্তরা সাউথ, পল্লবী, আইএমটি, মিরপুর-১০, কাজিপাড়া, তালতলা হয়ে আগারগাঁও। পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট ১৬টি স্টেশন হবে। পরবর্তী পর্যায়ে আগারগাঁও থেকে বিজয় সরণি, ফার্মগেট, সোনারগাঁও মোড়, জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, শাপলা চত্বরে। প্রতি সাড়ে তিন মিনিট পর স্টেশনে থামবে।
জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১ নভেম্বর মেট্রোরেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের ১১ জুলাই ডিপোর ভূমি উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে ২০১৯ সালের মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত। তবে ২০২০ সালে মধ্যেই আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন। মেট্রোরেলের মূল স্থাপনার প্রাথমিক নকশার কাজ শেষ হয়েছে ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (মেট্রোরেল)-এর প্রকল্প পরিচালক মো. মোফাজ্জল হোসেন যুগান্তরকে জানান, মেট্রোরেল নির্মাণের প্রাথমিক কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কাজের ক্ষেত্রে নতুন গতি আসবে। শুধু একটি কথাই বলতে পারি ২০১৯ সালের মধ্যে প্রথম অংশ এবং ২০২০ সালের মধ্যে বাকি অংশসহ পুরো কাজ শিডিউল অনুযায়ী সমাপ্ত হবে।
মেট্রোরেলের প্রথম নির্মাণের কাজ শুরু হয় উত্তরা তৃতীয় পর্বে ডিপো উন্নয়নের মধ্য দিয়ে। শুক্রবার সরেজমিন ডিপো এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ২২ হেক্টর জমিতে এটি নির্মাণ করা হবে। এ জন্য মাটিভরাটের কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে মাটি সমান করার কাজ। সেই সঙ্গে তৈরি করা হয়েছে স্লাব। এগুলো বসানোর কাজ শুরু হবে শিগগিরই। শ্রমিকদের কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠেছে ডিপো এলাকা। ডিপোর শুরুতে ডিয়াবাড়ি এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নামে উদ্বোধনী ফলক। সেটির কাজ শেষ হয়েছে। চলছে প্যান্ডেল তৈরির কাজ।
এ কাজের তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ শাহজাহান যুগান্তরকে জানান, উদ্বোধনের জন্য তাদের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। মেট্রোরেলের পুরো কাজ ৮টি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে প্যাকেজ-১ এর আওতায় ডিপো উন্নয়ন কাজ এগিয়ে চলছে। গত ২৭ মার্চ জাপানি কোম্পানি টোকিও কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ইতিমধ্যেই কার্যাদেশও প্রদান করা হয়েছে। এ প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ভ্যাট ও আয়করসহ ৫৫৬ কোটি টাকা। এর পরই প্যাকেজ-২ এর আওতায় ডিপোর অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। এ অংশের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অন্যান্য প্যাকেজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্যাকেজ-৩ ও প্যাকেজ-৪ এর আওতায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ভায়াডাক্ট (স্টেশন) ও ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। এ দুটি প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্যাকেজ-৫ ও ৬-এর আওতায় আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ভায়াডাক্ট (স্টেশন) নির্মাণ করা হবে। এসব প্যাকেজ বাস্তবায়নে প্রি-কোয়ালিফাইড ঠিকাদার নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সংক্ষিপ্ত তালিকায় জাপান, চীন ও ভারতের ৪টি কোম্পানি রয়েছে। প্যাকেজ-৭ এর আওতায় স্থাপন করা হবে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সিস্টেম। অর্থাৎ সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ দিয়ে এ সব ট্রেন চলাচল করবে। এ জন্য একটি সিস্টেম স্থাপন করা হবে। প্যাকেজ-৮ এর আওতায় রুলিং স্টক (রেলের কোচ ক্রয়) করা হবে। সবগুলো কোচ হবে এসি লাগানো এবং আরামদায়ক।
ডিপো এলাকার চণ্ডালভোগ গ্রামের ব্যবসায়ী নাজমুল হক বলেন, এটা ভাবতেই ভালো লাগছে যে, অবশেষে মেট্রোরেল হচ্ছে। কেননা দীর্ঘদিন থেকে শুধু শুনে আসছি মেট্রোরেল হবে হবে। অল্প সময়ে উত্তরা থেকে ঢাকার যে কোনো স্থানে যাওয়া গেলে জীবনের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে। ডিয়াবাড়ির ব্যবসায়ী বাদল আহমেদ বলেন, মেট্রোরেল প্রথম শুরুটা এখান থেকেই হবে এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের। তবে শুধু শুরু হলেই হবে না, শেষ পর্যন্ত যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় এটাই এখন চাওয়া। স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন বলেন, এ প্রকল্পটি যাতে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ না ওঠে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন থাকতে হবে।
মেট্রোরেলের রুটে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মোট ১৬টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত থাকবে ৯টি স্টেশন। এগুলো হচ্ছে- উত্তরা নর্থ, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা সাউথ, পল্লবী, মিরপুর সাড়ে ১১ নাম্বার, মিরপুর-১০ নাম্বার, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া এবং আগারগাঁও।
দ্বিতীয় পর্যায়ে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত থাকবে ৭টি স্টেশন। এগুলো হচ্ছে- বিজয়সরণি, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (টিএসসি), বাংলাদেশ সচিবালয় এবং মতিঝিল শাপলাচত্বর। প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রম উদ্বোধনের পর শুরু হবে পাইলিংয়ের কাজ। এ ক্ষেত্রে কিছু পাইলিং হবে সেন্ট কমপেকশন এবং কিছু হবে ডায়নামিক কমপেকশন পাইলিং। ২০ কিলোমিটার মেট্রোরেল রুটে স্টেশনসহ মোট ১২শ’টি পাইলিং করা হবে বলে জানা গেছে।
মেট্রোরেলের ঘণ্টায় গতি হবে গড়ে ৩২ কিলোমিটার (সর্বোচ্চ ১শ’ কিলোমিটার)। এই রুটে চলাচল করবে মোট ১৪টি ট্রেন। প্রতিটিতে ৬টি করে বগি থাকবে। প্রতিটি ট্রেনে ৯৪২ জন যাত্রী বসে এবং ৭৫৪ জন দাঁড়িয়ে যাতায়াত করবে। প্রতি ৪ মিনিট পরপর ট্রেন ছেড়ে যাবে। সূত্র জানায়, পুরো ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে মেট্রোরেল বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। বাকি ৫ হাজার ৪শ’ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।
সূত্র: যুগান্তর
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।