জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে অবিলম্বে জাতীয় কনভেনশন ডাকুন —–মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ৭:০১ পূর্বাহ্ণ, জুন ২২, ২০১৬

জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে অবিলম্বে জাতীয় কনভেনশন ডাকুন —–মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার : জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে অবিলম্বে ‘জাতীয় কনভেনশন’ ডাকার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানিয়েছেন। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই, বিরোধী দলকে বাইরে রেখে এই ভয়াবহ সমস্যার সমাধান করা যাবে না। ছাত্রদলের এই সমাবেশ থেকে আমি সরকারের প্রতি আবারো আহ্বান রাখতে চাই, অনেক হয়েছে। এনাফ ইজ এনাফ, দেশ ধ্বংস করে দিয়েছেন। এখন জঙ্গিবাদের নাম করে আরো যে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের দিকে দেশ যাচ্ছে, তাকে বন্ধ করা চেষ্টা করুন। সমস্ত রাজনৈতিক দলকে ডেকে কনভেনশনের মধ্য দিয়ে একটা জাতীয় প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। অন্যথায় ভয়াবহ এই অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার আমাদের কোনো উপায় নেই।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ‘সহাবস্থান : পরমত সহিষ্ণু-ইতিবাচক ছাত্র রাজনীতি চর্চার মাধ্যমে আগামী দিনের জাতীয় নেতৃত্ব বিকাশে ডাকসু নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ছাত্র সমাজের করণীয়’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। এই সরকার গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছে। এখন তারা জঙ্গিবাদ দমন করার কথা বলে মিথ্যাচার করছে, তারা গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

জঙ্গিবাদ নির্মূলে জাতীয় ঐক্যের আহ্বানের কথা পুনরুল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বার বার বক্তব্য রেখেছি। শুধু বক্তব্য রাখিনি, আমরা কাজ করেছি। আমরা ইতালীর নাগরিক তাবেল্লা হত্যার সঙ্গে সঙ্গে একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে একটা জাতীয় কনভেনশন ডাকার জন্য সরকারকে। যেখানে সব রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এই জঙ্গিবাদকে রুখে দেবে, জঙ্গিবাদকে সমূলে উৎপাটন করবে।

সরকারে উদ্দেশ্য জঙ্গিবাদ নির্মূল নয় এমন মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য জঙ্গিবাদের কথা ব্যবহার করে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেয়া। আর সে জন্যই সরকার মিথ্যাচার করছে? শরীফ, অভিজিৎ হত্যার আসামীকে ধরা হয়েছিল, যাকে ধরার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই শরীফ দেখা গেলো আজকের পত্রিকায় এসেছে, সে শরীফ নয়, মাসুদ রানা। তাকে চার মাস আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাকে আটকিয়ে রাখা হয়েছিল। তারপরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এসএসসিতে জিপিএ-৫ এইচএসসিতে জিপিএ-৫।

তার আগে ফাহিমকে হত্যা করা হয়েছে, যার ১৮ বছর বয়স। কেন তাকে গুলী করে মারলেন? কেন রিমান্ডে নেয়ার প্রথম দিনই তাকে গুলী করে মারা হলো? লক্ষ্য করবেন প্রত্যেকটি গুপ্ত হত্যার আসামী চিহ্নিত করে ধরা হচ্ছে, অভিযুক্ত করে ধরা হচ্ছে, তাদের গুলি করে, ক্রসফায়ার করে মারা হচ্ছে কেন? আসল সত্য গোপন করেছেন, বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। মিথ্যা কথা বলে, জনগণকে বিভ্রান্ত করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের সামনে ঘোর অন্ধকার। আমরা অন্ধকার গহ্বরের মধ্যে চলে গেছি। এই সরকার দেশকে অন্ধকারের গহ্বরে নিয়ে গেছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা গহ্বরের ওই প্রান্তে, টানেলের ওই প্রান্তে একটু আশার আলো দেখতে পাই, সেই আশার আলো হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। যিনি সবসময় গণতন্ত্রের জন্য আপোষহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখনো তিনি বলছেন, আমরা শেষ বয়সে, জীবন সায়াহ্নে এসে আমি আরো শক্ত হয়ে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য লড়তে চাই। আসুন আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য একযোগে কাজ করি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এ ব্যাপারে ছাত্রদের সোচ্চার হতে বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদি তালুকদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশারের পরিচালনায় এই আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক সুকোমাল বড়ুয়া, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের আজিজুল বারী হেলাল, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভূঁইয়া, শহিদুল ইসলাম বাবুল, ওবায়েদুল হক নাসিরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

এই সংবাদটি 871 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ