‘ছায়ানীড়’ ঘিরে পুলিশ, চূড়ান্ত অভিযানের অপেক্ষা

প্রকাশিত: ২:৪৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০১৭

‘ছায়ানীড়’ ঘিরে পুলিশ, চূড়ান্ত অভিযানের অপেক্ষা

সীতাকুণ্ড পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার প্রেমতলা এলাকার ‘ছায়ানীড়’ বাড়িতে ৫-৬ জন জঙ্গি সদস্য অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে পারে। ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষ দল পৌঁছানোর পর অভিযান পরিচালনা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘ছায়ানীড়’ বাড়িতে ৫-৬ জন জঙ্গি সদস্য থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। এ মুহূর্তে বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে। জঙ্গিবিরোধী অভিযান সফল করতে ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষ একটি টিম সীতাকুণ্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। টিমটি পৌঁছলে জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হবে।

জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম  বলেন, ‘ছায়ানীড়ের ওই বাড়িতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ও গোলা-বারুদ মজুদ আছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।’

এদিকে রাত ১১টা পর্যন্ত ছায়ানীড় থেকে জঙ্গিরা থেমে থেমে গুলি বর্ষণ করে নিজেদের অবস্থানের জানান দিচ্ছিল। অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকেও গুলি করে পাল্টা জবাব দেয়া হচ্ছিল।

পুলিশ অবরুদ্ধ করে রাখা ছায়ানীড় বাড়িতে আরও তিনটি পরিবারকে জিম্মি করে রেখেছে জঙ্গিরা।

এরআগে বুধবার দুপুরে সীতাকুণ্ড পৌরসভার লামারবাজার পশ্চিম আমিরাবাদে সাধন চন্দ্র ধরের মালিকানাধীন সাধন কুঠিরের নিচ তলায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সেখান থেকে ২ মাসের শিশুসহ এক জঙ্গি দম্পতিকে আটক করে পুলিশ।

পরে আটক দম্পতির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার প্রেমতলায় ‘ছায়ানীড়’ নামে ওই জঙ্গি আস্তানায় পুলিশ অভিযান চালায়।

দুপুরের পর জিম্মি পরিবারগুলোকে উদ্ধার ও জঙ্গিদের গ্রেফতারে নামে পুলিশ, র‌্যাব ও সোয়াতের একাধিক টিম। অভিযান চালাতে গেলে জঙ্গিরা তিন পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এসময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে তিনটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মোজাম্মেল হক আহত হন।

যেভাবে আটক হল জঙ্গি দম্পতি : পুলিশ জানায়, ৫ মার্চ জঙ্গি দম্পতি জসিম ও আরজিনা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সীতাকুণ্ডের সাধন কুঠিরে বাসা ভাড়া নেয়। বাড়ির মালিক তাদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি চাইলে তারা দেয়। পরিচয়পত্রটি নিয়ে মালিকের সন্দেহ হলে তিনি একটি কম্পিউটার দোকানে গিয়ে সেটি চেক করান। এতে দেখা যায় সেটি ভুয়া। তিনি বুধবার সকালে বিষয়টি সীতাকুণ্ড থানা পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর বেলা ৩টার দিকে পুলিশ সাধন কুঠিরে অভিযান চালিয়ে দুই মাসের শিশুসহ জসিম ও তার স্ত্রীকে আটক করে। ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় কয়েকটি হ্যান্ড গ্রেনেড।

এই সংবাদটি 442 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ