গ্রাহকদের প্রায় ১ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা খেয়ে ফেলেছে লাইফ বীমা খাতের সরকারি- বেসরকারি পুরনো ১৭ কোম্পানি

প্রকাশিত: ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ২২, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রাহকদের প্রায় ১ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা খেয়ে ফেলেছে লাইফ বীমা খাতের সরকারি- বেসরকারি পুরনো ১৭ কোম্পানি। এ টাকা কোম্পানিগুলো হাতিয়ে নিয়েছে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের নামে। তবে অতিরিক্ত ব্যয়কে অবৈধ বলছে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে কোম্পানিরগুলোর দাখিল করা তথ্যে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বীমা কোম্পানিগুলোর দাখিল করা হিসাব অনুসারে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে দেশের সরকারি বেসরকারি পুরনো ১৭টি লাইফ বীমা কোম্পানি অবৈধভাবে ব্যয় করেছে ১ হাজার ৯৭৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। যার মধ্যে গ্রাহকের অংশ ৯০ শতাংশ বা ১ হাজার ৭৮০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, অবৈধ ব্যয়ের কারণেই অনেক কোম্পানি চরম আর্থিক সংকটে পরেছে। সময়মতো গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে গ্রাহকদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে চরম অনাস্থা। গ্রাম-গঞ্জের গ্রাহকরা দাবির টাকা না পাওয়ায় বীমা নিয়েই বিরুপ ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে গোটা বীমা খাতের উপর।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ সম্প্রতি মূখ্য নির্বাহীদের এক সভায় বলেছেন, ২০১২ সাল থেকেই অবৈধ ব্যয় কমিয়ে আনার তাগিদ দেয়া হচ্ছে। এ ধরণের ব্যয় নিয়ে কোম্পানিগুলো পরিচালক ও ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে। এরপরও কোম্পানিগুলো অবৈধ ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতে পারছে না। চলতি বছরে অবৈধভাবে ব্যয় করা হলে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অন্যদিকে বীমা কোম্পানির মূখ্য নির্বাহীরা বলছেন, অবৈধভাবে ব্যয়ের এ প্রবণতা চলে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। তাই এ ব্যয় একদিনেই কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাদের মতে, গত ২/৩ বছরে অবৈধ ব্যয়ের হার কমে এসেছে। তবে ব্যয়ের হার নির্ধারিত সীমার মধ্যে আনতে আরো দুই চার বছর সময় লাগবে।

আইডিআরএ কাছে কোম্পানিগুলোর দাখিল করা তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সরকারি-বেসরকারি পুরনো ১৮টি লাইফ বীমা কোম্পানির মধ্যে অবৈধ ব্যয়ের শীর্ষে রয়েছে ৭টি কোম্পানি। এই ৭ কোম্পানির মোট অবৈধ ব্যয় ১ হাজার ৩৯৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। যা মোট অবৈধ ব্যয়ের ৭০.৬ শতাংশ। এর মধ্যে গ্রাহকের রয়েছে ১ হাজার ২৫৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

তবে পুরোন এসব কোম্পানির মধ্যে বিদেশী মালিকানার মেটলাইফ আলিকোর বাংলাদেশ শাখা কোনো অবৈধ ব্যয় করেনি। মেটলাইফের এ বাংলাদেশ শাখা অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে ১৫৯ কোটি টাকা কম ব্যয় করেছে।

অন্যদিকে বেসরকারি লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে অবৈধ ব্যয় সবচেয়ে কম করেছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটি গত ৭ বছরে অবৈধ ব্যয় করেছে ২১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। যা মোট প্রিমিয়াম আয়ের ১.৪৯ শতাংশ। গত ৭ বছরে মোট প্রিমিয়াম আয় করে ৪ হাজার ৬৯৭ কোটি ৬৩ লাখ।

অবৈধ ব্যয়ের শীর্ষে কোম্পানির মধ্যে পপুলার লাইফ ২৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, জীবন বীমা করপোরেশন ২৭৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ২০০ কোটি ৫১ লাখ টাকা, পদ্মা ইসলামী লাইফ ১৬৬ কোটি ৮৩ লাখ, গোল্ডেন লাইফ ১৬৫ কোটি ২৫ লাখ, সন্ধানী লাইফ ১৫৫ কোটি ৫৯ লাখ, প্রগতি লাইফ ১৪৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা অবৈধভাবে ব্যয় করেছে।

এছাড়া অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে-সানফ্লাওয়ার লাইফ ৯১ কোটি ২৭ লাখ টাকা, সানলাইফ ৯০ কোটি ৭০ লাখ টাকা, প্রাইম ইসলামী লাইফ ৭৪ কোটি ৪১ লাখ, মেঘনা লাইফ ৬৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ডেল্টা লাইফ ৫৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা, রুপালী লাইফ ৫০ কোটি ২৩ লাখ, হোমল্যাণ্ড লাইফ ৪৮ কোটি ৮ লাখ, প্রোগ্রেসিভ লাইফ ৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, বায়রা লাইফ ৩৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয় করেছে।

এই সংবাদটি 662 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ