সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তদন্তের দাবি

প্রকাশিত: ৫:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২৬

সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তদন্তের দাবি

জাতীয় ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেন, দলীয় প্রভাব ও ব্যাপক অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা হয়। সংসদ সদস্যরা জানান, অনেক এলাকায় প্রকৃত ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যশোর, লালমনিরহাট, বরগুনা, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর ও নওগাঁ জেলার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়মের চিত্র উঠে আসে। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক আইনপ্রণেতা এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জোরালো দাবি জানান এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

বৈঠকে উপস্থিত বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকারের রাজনৈতিক অনুসারী, মামলার আসামি এমনকি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও অনেকে ডিলারশিপ বাগিয়ে নিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন জনপ্রতিনিধিদের মতামতকে উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির বিষয়টিও বৈঠকে আলোচিত হয়। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যমুনা সেতু এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে সারবাহী গাড়িগুলো কঠোর নজরদারির আওতায় আনার প্রস্তাব দেন কোনো কোনো সদস্য।

অভিযোগের জবাবে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ডিলার নিয়োগের প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক নিয়মানুযায়ী ডিলারশিপ পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে লাইসেন্স বাতিল বা পরিবর্তন করার বিধান রয়েছে। সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, যেসব এলাকায় ইতোমধ্যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে চুক্তি স্বাক্ষর সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সার বিতরণব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ করতে এবং মাঠপর্যায়ের অনিয়মগুলো সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে বৈঠকে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে রোকন উদ্দীন বাবুল ও সাবিরা সুলতানা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এই কমিটি ডিলার নিয়োগ, সারের অবৈধ মজুত এবং বিপণন সংক্রান্ত সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করে একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন জমা দেবে। সংসদীয় কমিটির এই কঠোর অবস্থানের ফলে সারের বাজার ব্যবস্থাপনা আরও শৃঙ্খলাপূর্ণ হবে এবং কৃষকরা নির্ধারিত মূল্যে সহজে সার পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এই সংবাদটি 7 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ