আমু-শাজাহানসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের হেভিওয়েট নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

প্রকাশিত: ১২:৩০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২৬

আমু-শাজাহানসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের হেভিওয়েট নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

আইন-আদালত ডেস্ক: জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথমবারের মতো বিচারের মুখোমুখি হতে চলেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমসহ মোট পাঁচজন প্রভাবশালী নেতা এই মামলার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে বিগত সরকারের প্রভাবশালী এই নীতিনির্ধারকদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, গত সোমবার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের হেভিওয়েট সাতজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহ শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এই প্রতিবেদন জমা দেন। এখন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম প্রতিবেদনটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে নাম থাকা অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান এবং সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। তালিকায় আরও যুক্ত আছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনগুলোর প্রাথমিক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। এর মাধ্যমেই অভিযুক্ত এসব সাবেক মন্ত্রী ও নেতার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশজুড়ে আলোচিত এই মামলার গতিপ্রকৃতির দিকে এখন সবার নজর রয়েছে।

এই সংবাদটি 3 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ