নতুন ঋণেও আইএমএফের পুরোনো শর্ত, রাজস্ব সংস্কার কতটা এগোল

প্রকাশিত: ১০:০০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

নতুন ঋণেও আইএমএফের পুরোনো শর্ত, রাজস্ব সংস্কার কতটা এগোল

অর্থনীতি ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক যৌথ সভার সাইডলাইনে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এবং বিশেষ করে রাজস্ব খাতের সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদল অংশ নিলেও মূল আলোচনায় প্রাধান্য পায় আইএমএফের পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন শর্ত ও তার বাস্তবায়ন অগ্রগতি।

বাংলাদেশ অতীতে আইএমএফের কাছ থেকে যে ঋণ সহায়তা পেয়েছে, তার পেছনে বেশ কিছু কঠোর শর্ত বা শর্তাবলী জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান নতুন ঋণ প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও সংস্থাটি তাদের পুরোনো সেই নীতিগত অবস্থানে অনড় রয়েছে বলে জানা গেছে। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, কর কাঠামোর আধুনিকায়ন এবং ভর্তুকি কমানোর মতো বিষয়গুলো আইএমএফের শর্ত তালিকার শীর্ষে রয়েছে। ফলে সরকারের নীতিনির্ধারকদের জন্য এই শর্তগুলো পূরণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বাড়াতে কর ফাঁকি রোধ এবং করদাতার পরিধি বিস্তার করার কোনো বিকল্প নেই। তবে কাঠামোগত দুর্বলতা এবং নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাজস্ব সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বৈঠকে আইএমএফের পক্ষ থেকেও এই সংস্কার প্রক্রিয়ার গতি মন্থর হওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজস্ব প্রশাসনকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার তাগিদ বারবার দিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক এই অর্থলগ্নীকারী সংস্থাটি।

বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে আইএমএফের ঋণের দ্বিতীয় বা পরবর্তী কিস্তিগুলোর ছাড় হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তবে এই অর্থ পেতে হলে সংস্থটির বেঁধে দেওয়া শর্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি সন্তোষজনক হতে হবে। আগামী দিনে সরকারের নীতিনির্ধারকরা রাজস্ব সংস্কারের কাজ কতটুকু দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করছে আইএমএফের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি।

এই সংবাদটি 7 বার পঠিত হয়েছে