ঢাকা |
প্রকাশিত: ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০১৯
আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সাত সংস্থাকে বাজার তদারকির দায়িত্ব দেয়ার বিষয়টি সময়োপযোগী। জানা গেছে, র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি), কৃষি বিপণন অধিদফতর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশনের বাজার মনিটরিং সেল ও পুলিশ বাহিনী খুচরা বাজার থেকে শুরু করে দেশের পাইকারি ও মোকামগুলোয় অভিযান চালাবে, যাতে রমজানকে পুঁজি করে কারসাজির মাধ্যমে কেউ অতি মুনাফা লুটতে না পারে।
উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়; তবে প্রতি রমজানে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে যে চক্রটি ভোক্তাদের পকেট কেটে থাকে, সাত সংস্থার তদারকি তাদের কতটা নিরস্ত করতে সক্ষম হবে, সেটা দেখার বিষয়।
রমজানে মূলত কয়েকটি কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে। এগুলোর মধ্যে একটি হল চাহিদার তুলনায় পণ্য সরবরাহ কম থাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রমজানে সাধারণত যেসব পণ্যের অধিক চাহিদা থাকে, এ বছর সেগুলোর সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিমভাবে বিভিন্ন পণ্যের ঘাটতি দেখিয়ে মূল্যবৃদ্ধির অপচেষ্টা চালায়। এ পরিস্থিতিতে বাজার তদারকির কাজটি ফলপ্রসূ করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাত সংস্থার মধ্যে যাতে সমন্বয় থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। তা না হলে উদ্যোগটি ভেস্তে যেতে পারে।
ধনী-গরিব নির্বিশেষে প্রত্যেক মুসলমানের কাছেই রমজান মাস বিশেষ তাৎপর্য নিয়ে হাজির হয়। রমজানকে বলা হয় সংযমের মাস, আত্মশুদ্ধির মাস। অথচ এই রমজানেই বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফা লাভের আশায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। দেখা গেছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে কথাবার্তা উঠলে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা পরস্পরকে দোষারোপ করে থাকেন।
এটি মূলত ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বস্তুত উদার বাণিজ্য ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বাজারের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। ব্যবসায় মুনাফা অর্জন স্বতঃসিদ্ধ ও স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু মুনাফা অর্জনের নামে নৈতিকতাহীন কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়। ব্যবসায়ীরা সৎ ও আন্তরিক হলে বছরের অন্যান্য মাস তো বটেই, রমজান মাসেও দ্রব্যমূল্য সহনীয় থাকতে পারে। আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা নিজেরাও সৎ ও আন্তরিকতার পরিচয় দেবেন- এটাই প্রত্যাশা।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।