দাফনের ৪২ দিন পর শিশুর লাশ উত্তোলন।

প্রকাশিত: ১২:১৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০১৭

দাফনের ৪২ দিন পর শিশুর লাশ উত্তোলন।
আবু সাঈদ
দাফনের ৪২ দিন পর আদালতের নির্দেশে আজ সোমবার শিশু নারায়ণ চন্দ্রের লাশ উত্তোলন করে পুলিশ।
ছবি : এনটিভি
দাফনের ৪২ দিন পর আদালতের নির্দেশে নারায়ণ চন্দ্র (১) নামের এক শিশুর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বামনপাড়া এলাকা থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করে পুলিশ।
এর আগে ঘটনার দিন ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে গৃহবধূ জয়ন্তী রানী (৩২) ও তাঁর শিশু ছেলে নারায়ণ চন্দ্রের লাশ হস্তান্তর করা হয়। সে সময় জয়ন্তী রানীর মরদেহ দাহ করা হয়। আর শিশুটিকে দাহ করা হয়নি। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বি এম তারিকুল কবির শিশু নারায়ণের লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ জানায়, গত ২৩ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে পঞ্চগড়ের অমরখানা এলাকায় পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কে একটি মোটরবাইকসহ জয়ন্তী রানী ও তাঁর শিশু ছেলে নারায়ণের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা। এ সময় তাদের মরদেহের সামান্য দূরে জয়ন্তীর স্বামী শীতেন্দ্র নাথকেও পড়ে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা লাশ উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। শীতেন্দ্র নাথকে আহত ভেবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শীতেন্দ্র নাথের চলাফেরায় নিহত জয়ন্তী রানী বাবার বাড়ির লোকজনের সন্দেহ হলে তাঁর ছোট ভাই পরিমল চন্দ্র রায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি শীতেন্দ্র নাথসহ চারজনকে আসামি করে পঞ্চগড় আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন।
এরপর আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের তদন্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি পরিষ্কার হলে ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে শীতেন্দ্র নাথকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এরপর শীতেন্দ্র নাথের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই রাতেই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া আবদুর রাজ্জাক ও রয়েল রানা নামে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।
সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ বলেন, আদালতের নির্দেশে শিশু নারায়ণ চন্দ্রের লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতলের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আবার লাশটি যথাস্থানে সমাহিত করা হবে।

এই সংবাদটি 674 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ