কুমড়ায় ছেয়ে গেছে তিস্তার চরাঞ্চল

প্রকাশিত: ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ, মে ৫, ২০১৭

মোঃ মাহমুুদুন্নুবী রনি ॥ লালমনিরহাট প্রতিনিধি ॥

“ চরের মাটি বালু কণা, চাষাতে জানলে মিলবে সোনা” এ ধরনের সেøাগানকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন লালমনিরহাটের বিভিন্ন চরাঞ্চলের লোকজনের। এ বছর বিভিন্ন তিস্তার চরাঞ্চলে তিস্তার বালু চরে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। ফিরে এসেছে তিস্তা পাড়ের মানুষের মুখে হাসির ঝিলিক। বালু চর সেখানকার লোকজনের এখন আর অভিশাপ নয়, আর্শিবাদ হয়ে দাড়িয়েছে। বালু চরে মিষ্টি কুমড়া চাষ করে তিস্তা পাড়ের হাজারও মানুষ এখন ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
গত বছর বন্যায় তিস্তার পাড়ের হাজারও মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। নষ্ট হয়ে যায় কয়েক’শ হেক্টর ফসলি জমি। বন্যার পানির সঙ্গে সঙ্গে বয়ে নিয়ে আসা বালু জমিতে পলি জমে জমিকে চাষের অনুপযোগি করে তোলে তিস্তা চরাঞ্চলের কৃষকেরা। তবুও দমাতে পারেনি তিস্তা পাড়ের কৃষকদের শ্রম আর মেধাকে। তারা দিন রাত পরিশ্রম করে জমির উপরের বালু মাটি তুলে এঁটেল মাটি বের করে এনে সেখানে চাষ করেন মিষ্টি কুমড়া, পিঁয়াজ, মরিচ, রসুন, খিরা, মশুর ডালসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষাবাদ। বালু চরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে অনেক চাষি এখন সাফল্যের মুখ দেখছেন।
লালমনিরহাটের বিভিন্ন তিস্তা চরাঞ্চলে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, মহিষখোঁচা, ভোটমারীর শোলমারীর চর,সানিয়াজান ইউনিয়নের তিস্তা চরের বাসিন্দা মোঃ রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘরবাড়ি ফসলি জমি নদীতে বিলীন হলেও তিনি বালু চর কেটে জমিতে চাষ করেন মিষ্টি কুমড়ামহ বিভিন্ন সবজি। আশানুরূপ দাম পেলে সাফল্যের মুখ দেখবেন এমনটাই আশা করছেন চরাঞ্চলের কৃষকেরা।
তিস্তা চরের আরেক কৃষক সাইদুল জানান, এ বছর তিনি মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি ৫৪ শতক জমিতে চাষাবাদ করেছেন। এতে ওই কৃষকের খরচ হয়েছে প্রায় ৬ হাজার টাকা। মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি বিক্রি করেছেন এ পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা। রমজান মাসে মিষ্টি কুমড়ার চাহিদা একটু বেশি, তাই মিষ্টি কুমড়া বিক্রির জন্য মজুদ করে রাখলে ভালো দাম পাবেন এমনটাই প্রত্যাশা কৃষকের।
সরেজমিন মাহমুুদুন্নুবী রনি বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে বিভিন্ন কৃষকদের সাথে ও কৃষি অফিসের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ প্রতিবেদনটি ১ সপ্তাহ সময় দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানান, চরাঞ্চলের লোকজন খুবই পরিশ্রমি। তিনি আরো জানান, এবছর লালমনিরহাটের বিভিন্ন চরাঞ্চলে প্রায় ২১‘শ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষাবাদ হয়েছে। হেক্টর প্রতি ৬০ মেট্রিক টন মিষ্টি কুমড়ার ফলন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এই সংবাদটি 682 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ