ঢাকা |
প্রকাশিত: ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২৬
রাজনীতি ডেস্ক: রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় একটি মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার পর পদত্যাগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। নিজের ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত ভিডিওতে তাকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে থাকতে দেখা যায় এবং তার দেহরক্ষী এক তরুণকে লাথি মারেন। এই ঘটনার পর বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি স্বেচ্ছায় নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক দাবি করেন যে সরকারের কর্মকাণ্ড যেন তার কারণে ম্লান না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে তার এই আকস্মিক পদত্যাগ এবং পুরো প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে।
এই ঘটনার পেছনে রয়েছে দেশে মাদকের ভয়াবহ পরিস্থিতির এক দীর্ঘ প্রেক্ষাপট। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংস্থার সমীক্ষায় দেখা গেছে যে সাধারণ মানুষের মধ্যে মাদকাসক্তির হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি তরুণ প্রজন্মকে গ্রাস করছে। ইশরাকের দাবি অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি থানা-পুলিশ থেকে শুরু করে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে বহুবার যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি নিজেই সামাজিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে ওই অভিযানে নামতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে তার অভিযানের পর পুলিশ ওই একই এলাকা থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করায় মাদকের আস্তানার অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়।
তবে এই ঘটনার পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে গুরুতর কিছু প্রশ্ন উঠেছে। ওয়েস্টমিনস্টার গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যে মন্ত্রীর পদত্যাগ যেভাবে হওয়ার কথা, এখানে তার ব্যত্যয় ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকারি দলের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না আসায় এটি কি মন্ত্রীর নিজের ভুলের স্বীকৃতি, নাকি সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা—তা পরিষ্কার নয়। অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে অভিযানের বিষয়ে তাদের আগে থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে এমন একটি মাদকের আস্তানা পুলিশের অগোচরে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির ঘাটতিকেই স্পষ্ট করে তোলে।
এই পুরো ঘটনার সবচেয়ে বড় তাত্ত্বিক প্রশ্নটি জড়িত ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির সঙ্গে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তত্ত্ব অনুযায়ী, নীতিনির্ধারকদের হাতে বলপ্রয়োগের একচেটিয়া অধিকার সরাসরি প্রয়োগের সুযোগ থাকলে তা স্বেচ্ছাচারের পথ প্রশস্ত করতে পারে। একজন মন্ত্রী যখন মাঠের অভিযানে সরাসরি নেতৃত্ব দেন এবং অস্ত্র প্রদর্শন করেন, তখন সাধারণ মানুষের আইনি প্রতিকার পাওয়ার জায়গা সংকুচিত হয়ে যায়। নীতিনির্ধারণী ভূমিকা এবং মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগের ভূমিকা একাকার হয়ে গেলে শাসনব্যবস্থায় ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এই পদত্যাগ নিছক একটি মন্ত্রিসভার রদবদল নয়, বরং এটি ক্ষমতা, দায়িত্ব এবং প্রশাসনিক কাঠামোর বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।