ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশই আমাদের লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী হাবিব

প্রকাশিত: ২:১৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২৬

ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশই আমাদের লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী হাবিব

জাতীয় ডেস্ক: ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে একটি শক্তিশালী, সাম্য ও অধিকারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব। তিনি বলেন, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক এই রাষ্ট্রে বসবাসরত প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে এবং এখানে সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু বলে আলাদা কোনো ভাবনার অবকাশ নেই। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছে এই দেশ। সম্প্রতি রাজধানীর রাজারবাগে শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্দির কমিটির সভাপতি পবন দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯ দফার দ্বিতীয় দফায় সব নাগরিকের পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফায় একটি সম্প্রীতিমূলক জাতিসত্তা বা রেইনবো নেশনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বহুমতের এই সমাজে সব মানুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল টেকসই উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

বিভিন্ন ধর্মের সহাবস্থানকে ফুলের মালার সঙ্গে তুলনা করে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেন, একক রঙের ফুল দিয়ে যেমন সুন্দর মালা গাঁথা যায় না, তেমনি নানা রঙের ফুলের সমন্বয়েই মালার প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময় এই নীতিতে বিশ্বাস করে যে ধর্ম যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা পাওয়ার সুনির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে এবং সরকার সেই অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া দেশের মানুষ যেন উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারে, সে বিষয়ে বর্তমান প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এ বছর শারদীয় দুর্গোৎসবের ছুটি বাড়িয়ে টানা তিন দিন করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে দেশবাসী এবার মোট পাঁচ দিনের ধারাবাহিক ছুটি উপভোগ করছেন। পাশাপাশি সরকার পূজা মণ্ডপে অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। দলের নেতাকর্মীরাও স্থানীয় পর্যায়ে সম্প্রীতি রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন, যার ফলশ্রুতিতে এ বছর রেকর্ড সংখ্যক প্রায় চৌত্রিশ হাজার মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সবশেষে সমাজের সব হানাহানি ও বৈষম্য দূর করে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো ধরনের উসকানি বা বিদ্বেষমূলক আচরণ দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। তাই বিভেদ ভুলে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে দেশপ্রেমিক নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

এই সংবাদটি 5 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ