রাজশাহীতে বিএনপির কর্মী সম্মেলনে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ : আহত ১০

প্রকাশিত: ১:০৯ পূর্বাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৭

রাজশাহীতে বিএনপির কর্মী সম্মেলনে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ : আহত ১০

রাজশাহীতে মহানগর বিএনপির কর্মী সম্মেলনে যুবদলের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এসময় এক কর্মীকে বেধড়ক পেটাতে দেখা যায়।

সোমবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে নগরীর উত্তরা কমিনিউনিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ একজনকে আটক করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকালে নগরীর উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে রাজশাহী মহানগর বিএনপির কর্মী সম্মেলন শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

সভা চালাকালে মহানগর যুবদলের নবঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন মঞ্চে ওঠা নিয়ে পদবঞ্চিত নেতা ওয়ালিউল হক রানার সমর্থক তোফায়েল আহমেদ রাজুর সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।

এনিয়ে যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। এসময় বিএনপির অঙ্গসংগঠন দুটির নেতাকর্মীদেরকে নিজেদেরই এক কর্মীকে বেধড়ক পেটাতে দেখা যায়।

পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ সময় শাহান নামে একজনকে আটক করা হয়।

আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে সংঘর্ষের মধ্যেও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশে খালেদাবিহীন কোনো নির্বাচন হবে না। শেখ হাসিনার অধীনে আর কোনো নির্বাচন নয়। আগামী নির্বাচনের জন্য আলাদা সরকার গঠন করতে হবে। সহায়ক সরকার বা অন্য কোনো নামেও হতে পারে।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতিবেশী বন্ধুর সহযোগিতায় নাটকের মাধ্যমে বার বার ক্ষমতায় যাবেন তা আর হবে না। বন্ধু আর ক্ষমতায় রাখতে পারবে না। এজন্য জনগণের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানান গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি বলেন, বিএনপির ভিশন-২০৩০ নিয়ে আওয়ামী লীগ স্ববিরোধী বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। তারা বলছে- এটি অন্তঃসারশুন্য। তারাই আবার বলছে- বিএনপি আওয়ামী লীগের নকল করেছে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের ভিশনে তো ২০১৪ সালে ভোটারবিহীন নির্বাচন করার কথা ছিল না। কিন্তু ওই নির্বাচনে স্বয়ং শেখ হাসিনাই ভোট দিতে পারেননি।

দলের নেতাকর্মীদের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা স্লোগান দেন- খালেদা জিয়া ভয় নাই/রাজপথ ছাড়ি নাই। কিন্তু রাজপথেই তো আপনারা নাই।’

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, দলের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুছ তালুকদার দুলু, রাজশাহী বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু, ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন প্রমুখ।

এই সংবাদটি 407 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ