পাবনায় প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড কয়েক গ্রাম

প্রকাশিত: ৩:১১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০১৭


রাজশাহী বিভাগীয় চীফ :
প্রচণ্ড ঝড় ও বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিভিন্ন উপজেলার কয়েকটি গ্রাম। ঝড়ে আম, লিচু, কাঁঠাল, ভুট্টাসহ মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া কাঁচা ঘরবাড়ি, দোকানপাট বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে গাছপালা। অনেক জায়গায় সড়কে গাছ ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সুজানগর, সাঁথিয়া, বেড়া উপজেলা। সুজানগরের প্রায় ৩-৪ গ্রামের প্রায় ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
সোমবার (০৩ এপিল) বিকালে কালবৈশাখীর প্রথম ঝড় হাওয়া বয়ে যায়। সেই সাথে শীলাবৃষ্টি। রাতে আরেক দফা তাণ্ডব।
ত্রাণ দপ্তর সূত্র বলছে, ফ্লিড থেকে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করে তা আসতে দেরি হবে। পরে বিস্তারিত জানা যাবে। মঙ্গলবার সকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আকাশে মেঘের আনা গোনা ও গর্জন এবং মাঝে মাঝে বজ্রপাতের শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল।
প্রকৃতির এই বৈরীতার খড়গ নেমেছে কৃষকের ওপর সবচেয়ে বেশি। এই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল। সুজানগর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ঝড় শুরুর পর থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি।
সুজানগরের দুলাই গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, আমার বসতঘর ঘূর্ণিঝড়ের ছোবলে চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে অন্যত্র ফেলে দিয়েছে। ঘর-বাড়ি হারিয়ে আমরা অতিকষ্টে আছি। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে সমস্যায় পড়েছি।
সাঁথিয়ার ক্ষেতুপাড়া এলাকার কয়েকজন পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, সোমবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করেই প্রচণ্ড ঝড় বইতে শুরু করে। আট থেকে ১০ মিনিট স্থায়ী ঝড়ে উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের ধাতালপুর, মিয়াপুর ও রসুলপুর গ্রামের শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। ঝড়ে ঘরের ওপর গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ায় রসুলপুর গ্রামের আলেয়া খাতুন (৩৫), ইমরান হোসেন (২৫), মিয়াপুর গ্রামের জলিসহ (১০) অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আবদুল জলিলের মেয়ে জলিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাবনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এই সংবাদটি 681 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ