হ্যাকিং থেকে বাঁচার ১০ উপায়

প্রকাশিত: ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫

হ্যাকিং থেকে বাঁচার ১০ উপায়
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড কিংবা সতর্ক থাকার পরও অনেক সময় হ্যাক হয়ে যায় বড় বড় প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, মন্ত্রণালয়, সরকারি দফতর, এজেন্সি ও বিখ্যাত ব্যক্তির ওয়েবসাইট। সিকিউরিটি পাসওয়ার্ড ভেঙে হ্যাকাররা টার্গেট কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপে প্রবেশ করে হ্যাক করে নেয় তথ্য।
এ অবস্থায় কিছুই করার থাকে না ভুক্তভোগীর। তবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে হ্যাকিংয়ের কবল থেকে রক্ষা পাওয়া যায়; অরক্ষিত রাখা সম্ভব তথ্য।
হ্যাকারদের হতাশ করতে রয়েছে এমনই ১০টি উপায়। এর জন্য কম্পিউটার বা ল্যাপটপের ট্যুল বা অপশন হিসেবে নিচের ১০ অপশন যুক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমে হ্যাকারদের হাত থেকে নিরাপদ থাকবে আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপে রাখা তথ্য। শুধু ব্যক্তি নয়, যেকোনো প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, এজেন্সি কিংবা সরকারি দফতরগুলোর হ্যাকিং প্রতিরোধে এই ১০টি ট্যুল ব্যবহার করতে পারেন।
১. নেটওয়ার্ক ম্যাপার (এনম্যাপ) : নেটওয়ার্ক সিকিউরিটির জন্য এটি ট্যুলটি দারুণ কার্যকর। তাই ব্যাপাক হারে এনম্যাপ ব্যবহার হচ্ছে নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনেস্ট্রেটর ও সিকিউরিটি এডিটিংয়ে। এ ট্যুলটি কোনো ধরনের ঝুঁকি বা আক্রমণ থাকলে (হ্যাকিং) তা থেকে রক্ষা করতে পারে আপনার সব তথ্য। কারণ এটা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় সবকিছু মনিটরিং করে।
২. মেটাসপ্লোইট : এই ট্যুলটির মাধ্যমে নেটওয়ার্কের যেসব দুর্বলতা রয়েছে তা সহজেই খুঁজে বের করা যায়। মেটাসপ্লোইট মূলত ব্যবহার করা হয় নেটওয়ার্কের দুর্বল দিকগুলো নির্ণয় করার জন্য। এই দুর্বল দিকগুলোকে বলা হয় ব্যাকডোর। সাইবার সিউকিউরিট প্রফেশনালস ও ইথিক্যাল হাকার্সরা এটা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে থাকে।
৩. কেইন এ্যান্ড আবেল : পাসওয়ার্ড উদ্ধারের জন্য মাইক্রোসফট অপারেটিং সিস্টেমে ব্যবহার হয় এটি ট্যুলটি। নেটওয়ার্কের অসংখ্য পাসওয়ার্ড উদ্ধারে সাহায্য নেওয়ার হয় এই ট্যুলটির। ডিকশনারি এ্যাটাক ও ব্রুট-ফোর্স থেকে রক্ষা করবে টার্গেট কম্পিউটারকে।
৪. এঙ্গেরি আইপি স্ক্যানার : সংক্ষেপে এটা ‘আইপিস্ক্যান’ নামেও পরিচিত। মূলত স্ক্যান আইপি এড্রেসেস, ওপেন ডোরস ও পোর্টস খোঁজে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে এটা ব্যবহার করা হয়। এটা সাধারণভাবে নেটওয়ার্ক এডমিনেস্ট্রেটরস ও সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার্সে যুক্ত থাকে।
৫. জন দ্য রিপার : হ্যাকাররা ডিকশনারি এ্যাটাকে বেশ পটু। কারণ এই আক্রমণের মাধ্যমে তারা পাসওয়ার্ড ভেঙে ফেলে। তবে জন দ্য রিপার ট্যুলটি থাকলে তা সম্ভব নয়।
৬. টিএইচসি হাইড্রা : এটাও পাসওয়ার্ড ক্রেকার হিসেবে পরিচিত। তাই এডমিশনের দায়িত্বে যিনি থাকবেন তিনি এটা ব্যবহার করলেও হ্যাকারদের পক্ষে ডিকশনারি বা ব্রুট-ফোর্স এ্যাটাক করা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া মেইল, ডাটাবেইস, এলডিএপি ও এসএসএইচকেও (সিকিউর শেল) সুরক্ষিত রাখে এই হাইড্রা।
৭. বার্প সুট : নানাভাবে কাজ করে বার্প সুট। ওয়েব এপলিক্যাশন্স, পেজ ও প্যারামিটার্সকে রক্ষা করে এই ট্যুলটি। এটা ‘বার্প সুট স্পিডার’ হিসেবেও কাজ করে থাকে।
৮. নেসাস রিমোট সিকিউরিটি স্ক্যানার : ঝুঁকি স্ক্যানার হিসেবে সারা বিশ্বে এটা ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়। সারা বিশ্বের প্রায় ৭৫ হাজার সংস্থা ব্যবহার করে থাকে হ্যাকাররোধক এই ট্যুলটি।
৯. ইটারক্যাপ : হ্যাকাররা হ্যাকিংয়ের পর টার্গেট মেশিনে ভুল তথ্য দেয়। যদি এমন হয়ে থাকে তবে ইটারক্যাপ খুবই কার্যকর। এই ট্যুলের মাধ্যমে আপনি সহজেই খুঁজে পাবেন আইপি এড্রেস।
১০. ওয়াপিটি : সমস্যা চিহিৃতকরণে এই ট্যুলটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে। এটা শত শত সমস্যা স্ক্যান বা ডিটেক্ট করতে পারে খুব সহজেই। তাই হাক্যাররা চেষ্টা করলেও বিভ্রান্ত করতে পারবে না টার্গেট মেশিনকে।

এই সংবাদটি 1708 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ