মানসিক হাসপাতালের সেই জমি আবারও দখল চায় সৎসঙ্গ

প্রকাশিত: ১২:২৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০১৭

রাজশাহী বিভাগীয় চীফ :

অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধারকৃত পাবনা মানসিক হাসপাতালের সেই জমি আবারও দখল চায় পাবনা অনূকূল ঠাকুর সেবা আশ্রমের সৎসঙ্গ কর্মীরা।

সোমবার (২৭ মার্চ) জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবৈধ বন্দোবস্তের অভিযোগ এনে শহরে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে সৎসঙ্গ বাংলাদেশ।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, পাবনা মানসিক হাসপাতাল সংলগ্ন ৬২ শতক জায়গা শ্রী শ্রী ঠাকুর অনূকুল চন্দ্রের জন্মভিটা। এ পূণ্যভূমিতে ঠাকুরের স্মৃতিতে একটি শ্রী মন্দির করার জন্য ১৯৬৮ সাল থেকে সৎসঙ্গ বাংলাদেশ দাবি করে আসছে। এ নিয়ে হাইকোর্টে একটি মামলা চলমান রয়েছে। আদালতে মামলা চলাকালীন সময়ে পাবনা জেলা প্রশাসক কেন একটি অবৈধ প্রতিষ্ঠানকে জায়গা বুঝিয়ে দিলেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। অবিলম্বে আমরা এ সিদ্ধান্ত স্থগিতের দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপও নেয়া হবে।

এর আগে গত ১১ মার্চ দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কয়েক শত লোক নিয়ে হাসপাতালের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এসময় তারা বাঁশ ও ইটের স্থায়ী স্থাপনা তৈরির চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন এতে বাধা দিলে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে তারা পিছু হঠে। পরের দিন ১২ মার্চ অনূকূল ঠাকুরের ১২৯তম আবির্ভাব দিবসকে কেন্দ্র করে ওই সেবা আশ্রমে জমা হওয়া হাজার হাজার লোকজনকে নিয়ে তারা এই জায়গা দখল নেয়।

দীর্ঘ প্রায় ৫৭ বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত দেশের একমাত্র বিশেষায়িত পাবনা মানসিক হাসপাতালের জায়গা অবৈধভাবে দখলের প্রতিবাদে ও জায়গা দখল মুক্তের দাবিতে মানববন্ধন করে হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীরা। পরে হাসপাতাল কর্তপক্ষ ও বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে গত ১৫ মার্চ দখলদারদের উচ্ছেদ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয় পাবনা প্রশাসন।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, কোনো প্রকার কাগজপত্র ছাড়াই হিমায়েতপুরের শ্রীশ্রী অনুকূল ঠাকুরের কর্মী দাবি করে হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে দখল নেয়ার এই ঘটনা জানাজানি হলে জেলা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন ধরে শ্রীশ্রী অনুকূল চন্দ্র ঠাকুরের সৎসঙ্গ আশ্রমের কর্মী-সমর্থক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে উভয় গ্রুপের লোকজনকে বের করে দিয়ে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়।

শ্রীশ্রী ঠাকুর অনূকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ সেবাশ্রমের সভাপতি শ্রী বিমল রায় চৌধুরী পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, এই জায়গাটি নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলছিল। মামলার রায় পাওয়ার পর জায়গাটি দখল নেয়া হয়েছে। সেখানে আমাদের কর্মীরা কাজ করতে গেলে পুলিশ তাদের বের করে দেয়। ভূমিমন্ত্রীর স্ত্রী এসে এই জায়গাটি আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে মামলার রায় এবং জায়গা বুঝিয়ে দেয়া সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেনি।

এই সংবাদটি 672 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ