২০১৭ সাল স্মরণীয় কেন ?

প্রকাশিত: ১১:৫০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৭

২০১৭ সাল স্মরণীয় কেন ?

২০১৮ সালের প্রথম ভোরে ঘুম থেকে উঠে ভাবছিলাম, গতরাতে যে ইংরেজি বছরটি (২০১৭) বিদায় নিল তা আমাদের কী দিয়ে গেল? আমরা কী পেলাম, আর কী হারালাম? অতীতের অনেক ইংরেজি ও বাংলা সাল ভালো ও মন্দ দুই কারণেই মানুষের স্মরণ থেকে মুছে যায়নি। বাংলা তেরোশ’ পঞ্চাশ সালের কথা কে ভুলবে, যে বছর অবিভক্ত বাংলায় ৫০ লাখ মানুষকে দুর্ভিক্ষে প্রাণ দিতে হয়েছিল? ইংরেজি ১৯৪৬ সালের কথা কে ভুলবে, যে সালটি ছিল গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং বা বিভীষিকাপূর্ণ কলকাতা-দাঙ্গার বছর। তেমনি রক্তে রাঙা ১৯৫২ বাংলাদেশের মানুষের মনে অম্লান ভাষা শহীদদের আত্মদানের বছর হিসেবে। ১৯৪৭ সাল স্মরণীয় দেশভাগের জন্য। আর ১৯৭১ সাল বাংলাদেশের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য স্মরণীয়। ইউরোপ-আমেরিকায়ও এরকম স্মরণে থাকা বছর আছে অনেক। বার্লিন দুর্গ ভাঙার বছর। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের বছর। ধ্বংসাত্মক আফগান যুদ্ধ এবং পরে গালফ যুদ্ধ শুরু হওয়ার বছর। আমেরিকায় প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্টের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের বছর। এরকম অনেক ইংরেজি সালের কথা উল্লেখ করা যায়, যা বিশ্বকে আলোড়িত করা ঘটনা দ্বারা চিহ্নিত ও স্মরণীয়। এখানে তার তালিকা দিলে লেখাটি অনাবশ্যকভাবে বড় হবে। বিদায়ী ২০১৭ সালটি বিশে^র মুসলিম স্মরণ রাখবে যে কারণে ২০১৭ সালে মিয়ানমারে মুসলিম নির্যাতনের মাত্রা জাহেলিয়াতের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। মিয়ানমারে মুসলিম হত্যা- নির্যাতন । এ নিয়ে পুরো বিশ^ আলোচিত হয়েছে। এক হিসেব মতে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন ১৬ কোটি মানুষ খেতে পারলে ১০ লাখ মানুষ ও খাবার পাবে।

এগিয়ে এসেছিলেন হাসিনা এরদোগান সহ গুটি কয়েক রাষ্ট্র নায়ক। রোহিঙ্গারা আশ্রয় পেলেও সূচির টনক কেউ নাড়তে পারেনী। কারণ বিশ^ মুসলিম নেতাদের ঐক্যের  প্রচুর অভাব । ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা নির্যাতনের মধ্য দিয়ে মুসলমানদের শিক্ষা দিল যথাশীঘ্র বিশ^ মুসলিম এক হওয়ার বড়ই প্রয়োজন।

এই সংবাদটি 833 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ